বিস্ফোরক, আগ্নেয়াস্ত্রসহ চারজন গ্রেপ্তার, টিটিপি মতাদর্শী বলছে পুলিশ
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দেশ ডেস্ক:: ঢাকার কামরাঙ্গীরচর ও কেরানীগঞ্জ থেকে ড্রোন, আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক জাতীয় পাউডারসহ উগ্রপন্থি সংগঠনে জড়িত সন্দেহে চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত সোমবার দিবাগত রাত থেকে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ডিবির রমনা বিভাগের একটি দল তাদের আটক করে।
বুধবার পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কামরাঙ্গীরচর থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করলে সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন ইমরান চৌধুরী, রিপন হোসেন শেখ, আবু বক্কর ও মোস্তাকিম চৌধুরী। ইমরান ও মোস্তাকিম দুই ভাই।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা আরসা নামে একটি চরমপন্থি সংগঠনের সদস্য। তবে এই আরসা রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি বা আরসা নয়। সংগঠনটি টিটিপির আদর্শে অনুপ্রাণিত।’
বুধবার বিকেলে হেরোইন, ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজা উদ্ধার হওয়ার তথ্য জানাতে ডিএমপি সদর দপ্তরে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম। সেখানে এই চারজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থেকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
হঠাৎ উগ্রবাদীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে কেন, তাদের উদ্দেশ্য কী, এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মাথাচাড়া দিচ্ছে এমনটা বলব না, আমি শুধু বলব যারা এসব কাজের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতীতেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে যারা জড়াবে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ডিবি জানায়, মঙ্গলবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত কেরানীগঞ্জ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় ডিবির রমনা বিভাগের একটি টিম জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালায়। এ সময় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ওয়ান-শুটার, ১৪ রাউন্ড গুলি, গুলির খোসা, সাদা পলিথিনে রাখা আনুমানিক ৯০০ গ্রাম বিষ্ফোরক জাতীয় পাউডার, একটি মেটাল ডিটেক্টর, সামরিক পোশাকের কাপড়, সাতটি ঘড়ির বেল্ট, মেটাল ডিটেক্টর, একাধিক স্মার্টফোন, পাঁচ বোতল অ্যাসিড উদ্ধার, একটি ড্রোন ও ড্রোন সংক্রান্ত সরঞ্জাম, ‘জিহাদি’ বই ও লিফলেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় কামরাঙ্গীরচর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেছে পুলিশ।
বুধবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চারজনকে আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, মঙ্গলবার ভোর ৩টার দিকে কামরাঙ্গীরচরের কয়লাঘাট এলাকা থেকে প্রথমে ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কেরানীগঞ্জের জিয়ানগর থেকে মোস্তাকিম এবং বিকেলে কামরাঙ্গীরচরের রসুলপুর এলাকা থেকে রিপন ও আবু বকরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত মঙ্গলবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘দেশে কোনো জঙ্গি তৎপরতা নেই।’ তবে মঙ্গলবার পৃথক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ‘দেশে জঙ্গি রয়েছে। এই তৎপরতা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার ব্যাপারে সরকার কাজ করবে।’
তাদের পরস্পরবিরোধী এমন বক্তব্যের রেশ না কাটতেই উগ্রপন্থি সংগঠনের চার সদস্যকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানাল পুলিশ।



