এপ্রিলেই ২৮৮ খুন
প্রকাশিত হয়েছে : ১১ মে ২০২৬

দেশ ডেস্ক:: রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে গত এক মাসে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে অন্তত ২৮৮টি। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, এপ্রিলে এক মাসেই ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় কমপক্ষে ১৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় হত্যাকাণ্ড হয়েছে ৪টি। খুলনা মেট্রোপলিটনে ২টি, বরিশাল মেট্রোপলিটনে ২টি, সিলেট মেট্রোপলিটনে ৩টি, রংপুর মেট্রোপলিটনে ১টি, গাজীপুর মেট্রোপলিটনে ৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মেট্রোপলিটন ছাড়াও ঢাকা রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৬৪টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
এ ছাড়া ময়মনসিংহ রেঞ্জে ১৭টি, চট্টগ্রাম রেঞ্জে ৫৪টি, সিলেট রেঞ্জে ২৪টি, খুলনা রেঞ্জে ২৪টি, বরিশাল রেঞ্জে ১৫টি, রাজশাহী রেঞ্জে ৩৬টি, রংপুর রেঞ্জে ১৭টি ও রেলওয়ে রেঞ্জের আওতায় ৩টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। একই সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের সংখ্যাও কম না।
এপ্রিলে সারা দেশে অন্তত ২ হাজার ১১টি নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। তন্মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকাতেই ১৬৮টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে থানায়। এ ছাড়া চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় ৫১টি, খুলনা মেট্রোপলিটনে ৫টি, রাজশাহী মেট্রোপলিটন এলাকায় ২৩টি, বরিশাল মেট্রোপলিটনে ১৮টি, সিলেট মেট্রোপলিটনে ৫টি, রংপুর মেট্রোপলিটনে ৭টি, গাজীপুর মেট্রোপলিটনে ৩৪টি, ঢাকা রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ৩৭৫টি, ময়মনসিংহ রেঞ্জে ১০৮টি, চট্টগ্রাম রেঞ্জে ২৮৫টি, সিলেট রেঞ্জে ৭৮টি, খুলনা রেঞ্জে ১৬৩টি, বরিশাল রেঞ্জে ২০০টি, রাজশাহী রেঞ্জে ২৫২টি, রংপুর রেঞ্জে ২৩৭টি ও রেলওয়ে রেঞ্জের আওতায় অন্তত ২টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে ১৫২টি ডাকাতি, ৯৪টি অপহরণ, ১০৭৩টি চুরি, ১৩৯টি অস্ত্র, ৭ হাজার ২৯১টি অন্যান্য অপরাধসহ মোট ১৭ হাজার ১৮০টি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
এসব ঘটনার মধ্যে দেশ জুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন (৪২) হত্যাকাণ্ড। ২৮শে এপ্রিল তাকে ডেকে নিয়ে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়। রাজধানীর নিউমার্কেটের মতো জনাকীর্ণ এলাকায় এমন প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করে। ওই ঘটনায় দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম আলোচনায় আসলেও আজ পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকেই আটক করতে পারেনি পুলিশ।
এর আগে গত ১৫ই এপ্রিল রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সাদেক খানের ইটখোলা এলাকায় আসাদুল হক ওরফে লম্বু আসাদুল (২৮) নামে এক যুবককে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়। যার ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সেদিন পরিস্থিতি এতোটাই ভয়াবহ ছিল যে, ছেলেকে হত্যার খবর পাওয়ার পরও ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলের লাশ দেখার সাহস করেনি আসাদুলের পিতা। সংবাদ বিশ্লেষণ
পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এর তিনদিন আগেই গত ১২ই এপ্রিল আসাদুলকে হত্যার স্থানের মাত্র তিনশ’ গজ দূরেই সকলের সামনে রাস্তার উপর বীভৎস্যভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয় এলেক্স ইমন গ্রুপের মূল হোতা ইমন ওরফে এলেক্স ইমনকে। বাবার সঙ্গে অনলাইন জুয়ার টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বে গত ৯ই মে দুপুরে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় আন্দালিব সাদমান ওরফে রাফি (৯) নামের এক শিশুকে অপহরণের পর হত্যা করে লাশ বস্তায় ভরে স্যানিটারি ল্যাট্রিনের রিং স্ল্যাবের ভেতর লুকিয়ে রাখা হয়। নিহত শিশু উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের জমিনপুর গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে। সে মুক্তাগাছা শহরের রেসিডেন্সিয়াল মাদ্রাসার ২য় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ২১শে এপ্রিল দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে নিজ বাড়িতে হাত-পা বেঁধে ৭০ বছর বয়সী অলেদা বেওয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করে তার স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে যায়। গত শনিবার সকালে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামের একটি বহুতল বাড়ি থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এসব বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপি’র তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছি। এদের যে পক্ষের সদস্যদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়, সেই পক্ষের কর্মকাণ্ড কিছু দিন বন্ধ থাকে। ওই সুযোগে নতুন নামে আরেকটি গ্রুপ মাথাচাড়া দেয়। ডিসি বলেন, আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। প্রতিদিন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসামি আটক করা হচ্ছে। তবে গ্রেপ্তার হওয়ার পর এসব অপরাধীরা জামিনে বেরিয়ে এসে আবারো একই পেশায় জড়িয়ে পড়ছে। তারপরও আমরা সর্বদা চেষ্টা করে যাচ্ছি।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীর অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে ব্লকরেইড অভিযান বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে ১ হাজার ৯১০টি সিসি ক্যামেরা সচল রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা ও স্বস্তি ফেরাতে কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস, ছিনতাই ও মাদক প্রতিরোধে ঢাকা মহানগরীতে ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা করা হবে। এর মধ্যে মোহাম্মদপুর এলাকায় কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস ও ছিনতাই ঠেকাতে ৭শ’ সিসি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। এগুলো স্থাপন করা হলে এই মহানগর আরও নিরাপদ হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে ব্লকরেইড অভিযান, পুলিশি টহল, বিভিন্ন সড়কে চেকপোস্ট এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তথ্যসূত্র : মানবজমিন

