রামিসা হত্যা: এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ আইনমন্ত্রীর
প্রকাশিত হয়েছে : ২১ মে ২০২৬
দেশ ডেস্ক:: রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার ঘটনায় বিচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা না গেলে সমাজে ‘খারাপ বার্তা’ যাবে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এই অবস্থানের কথা জানান।
আইনমন্ত্রী বলেন, “এটা কষ্টের কথা, খুবই কষ্টের কথা। আমাদের পক্ষ থেকে এই বিচারের প্রক্রিয়াটাকে সামনের দিকে দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য যা কিছু করা সম্ভব, আমরা সবকিছু করব।”
আসাদুজ্জামান বলেন, “আমি আজ অফিসে এসে প্রথম যে কাজটা করেছি, পুলিশ কমিশনারকে টেলিফোন করে বলেছি, এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন, যতটা দ্রুত সম্ভব, এক সপ্তাহের মধ্যে করার ব্যবস্থা করেন। উনি আমার সাথে একমত হয়েছেন। একটু আগে আমার সাথে স্বরাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা এটাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।
“রামিসার বাবার জবাব, উনি যে হতাশা ব্যক্ত করেছেন— সেটার একমাত্র উত্তর হবে, যদি আমরা এ বিচার প্রক্রিয়াটাকে প্রত্যাশিতভাবে অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে করতে পারি। সেটাই হবে আমাদের জবাব।”
আইনমন্ত্রী বলেন, “রামিসার যে ঘটনাটি ঘটেছে, এটি আমাদের সমাজের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর, দুঃখজনক এবং এটি একটি ঘুণে ধরা সমাজের দৃষ্টান্ত। মাগুরার আছিয়াই হোক কিংবা ঢাকার রামিসাই হোক—সবকিছুই কিন্তু আমাদের মনুষ্যত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।”
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সরকারের কঠোর মনোভাবের কথা স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “এমন অপরাধ আমরা কোনোভাবেই আনচ্যালেঞ্জড হতে দেব না। বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য আমাদের যা কিছু করার প্রয়োজন, আমরা তার সবটুকু করব।”
দ্রুত বিচারের বিষয়ে নজির টেনে আসাদুজ্জামান বলেন, “এর আগে মাগুরার আছিয়া হত্যা মামলায় আমরা রেকর্ড ৭ দিনের মধ্যে চার্জশিট দিয়েছিলাম এবং মাত্র ১ মাসের মধ্যে ট্রায়াল বা বিচারকাজ শেষ হয়েছিল।
“মামলার গুরুত্ব অনুধাবন করে বিচার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়া উচিত। আমি আশা করি, রামিসার ঘটনার বিচারও আমরা একইভাবে দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করতে পারব।”
মামলাটির বিচার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “বিচার কার্যকর করা সুপ্রিম কোর্টের এবং আদালতের এখতিয়ার, আমরা বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারি না।
“তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে যেন এই বিচারকাজ সম্পন্ন হয়, সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে প্রয়োজনীয় সমস্ত সহযোগিতা ও যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের চলমান প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গ টেনে ব্রিফিংয়ে আইনমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, “রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে কোনো অবস্থাতেই ধর্ষণ বা এ জাতীয় গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের মামলা বিবেচনা করা হবে না। এই বিষয়ে কোনো আপস নেই।”
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি ইতোমধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় ধর্ষণের পর হত্যার ‘স্বীকারোক্তি’ দিয়েছেন বলে পুলিশের ভাষ্য।


