সৌদি আরবে সোফা কারখানায় আগুন, ১২ বাংলাদেশির মৃত্যু
প্রকাশিত হয়েছে : ০৯ আগস্ট ২০২৬
দেশ ডেস্ক, ০৯ আগস্ট ২০২৬:: সৌদি আরবের রিয়াদের খোরদাম শহরে একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১০ জন ও নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার ২ জন রয়েছেন।
তবে নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রবিবার (৯ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় আনুমানিক বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ওই কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এতে কারখানাটিতে কর্মরত বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি আগুনে পুড়ে প্রাণ হারান বলে জানা যায়।
আত্রাই উপজেলার নিহতরা হলেন শাহাগোলা ইউনিয়নের উদনপৈ গ্রামের মৃত ময়েন শেখের ছেলে ফরিদ শেখ (৩২), কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালী গ্রামের মো. লুৎফর (৩২), কলিমুদ্দিন (৩০), মোহন (জান্ডার) ও রুবেল; পাঁচুপুর ইউনিয়নের পারকাসুন্দা গ্রামের মৃত তমেজ উদ্দিনের ছেলে মো. জলিল ও বিষা ইউনিয়নের আজাহারের ছেলে সাগর, মাধবপুর গ্রামের মজনুর ছেলে মজিদুল ও দুবাই গ্রামের চঞ্চলের ছেলে হাসিবুল হাসান শুভ (৩০) ও মৃত বাদলের ছেলে সুমন।
নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার নিহতরা হলেন খাজুরা ইউনিয়নের শ্রীপুরপাড়া গ্রামের গোলাম রাব্বানীর ছেলে শুভ এবং দীঘিরপাড় গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে মো. শামিম হোসেন।
তারা জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়ে ওই সোফা কারখানায় কর্মরত ছিলেন। প্রবাসের মাটিতে কাজ করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে যাওয়া এসব মানুষের এমন করুণ মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের মাতম।
রবিবার রাতে আত্রাইয়ের ১০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান। তবে নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ইউএনও মো. মনিরুজ্জামান নিহতদের খোঁজ নেওয়ার জন্য উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের যাচ্ছেন।
নলডাঙ্গা উপজেলার পিপরুলের ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন ২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে রাত পৌনে ১২টার দিকে জানান, আরো একজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। তবে এটি নিশ্চিত নয়।
আমি গ্রাম পুলিশকে পাঠিয়েছি। নিশ্চিত হলে জানাতে পারব।
এদিকে, ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। কোথাও ১৫ জন, কোথাও ১৭ জন, আবার কোথাও ১৯ জনের মৃত্যুর কথা বলা হচ্ছে। ফলে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে।
তবে আত্রাই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
নিহতের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্নায় ভারি হয়ে উঠেছে পরিবেশ। পরিবারের একমাত্র বা প্রধান উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে অনেক পরিবার এখন দিশেহারা। যে স্বজনকে ঘিরে ছিল প্রবাস থেকে ফিরে আসার অপেক্ষা, সেই স্বজনের মরদেহ ফেরার খবরে পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে শোক।
প্রবাসে গিয়ে পরিবারের ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন তারা। অথচ সেই স্বপ্নের পথেই এমন মর্মান্তিক পরিণতি যেন মুহূর্তেই নিঃস্ব করে দিয়েছে একেকটি পরিবারকে।
রাত সাড়ে ১২টার দিকে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, এখন পর্যন্ত আত্রাই উপজেলায় ১০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। হয়তো এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

