শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারেক রহমান ভারতে যেতে পারবেন না: নাহিদ
প্রকাশিত হয়েছে : ১৩ আগস্ট ২০২৬
দেশ ডেস্ক, ১৩ আগস্ট ২০২৬:: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের নতুন রূপরেখা নির্ধারণের প্রশ্নের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারেক রহমান ভারতে যেতে পারবেন না।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগের শহীদ হাদি চত্বরে ইনকিলাব মঞ্চের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘৫ আগস্ট ভারতে যে প্রেস কনফারেন্স হয়েছে, সেটা নিয়ে তারেক রহমানকে স্পষ্ট জবাব দিতে হবে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীকেও স্পষ্ট জবাব দিতে হবে। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ কীভাবে হবে, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কীভাবে নতুনভাবে নিরূপণ হবে—এই প্রশ্নের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারেক রহমান ভারতে যেতে পারবেন না।’
ভারতে আওয়ামী লীগের ওই সংবাদ সম্মেলনের প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, ‘দিল্লিতে যে প্রেস কনফারেন্স হয়েছে, এটা অবশ্যই ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সমর্থনেই হয়েছে। ফলে দিল্লি থেকে আওয়ামী লীগ যা কিছু বলছে, শেখ হাসিনা যা কিছু বলছে, এটাকে শেখ হাসিনার ভাষ্য হিসেবে নিলে ভুল করা হবে। এটাকে নিতে হবে দিল্লির ভাষ্য, এটা ভারতের ভাষ্য।’
তিনি বলেন, ‘ভারত এই বার্তাটা বাংলাদেশকে দিতে চাচ্ছে। ফলে ভারত তার কাজ করে যাবে।’ নাহিদ ইসলাম বলেন, কয়েক দিন আগে তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাতের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছিলেন, ওসমান হাদির হত্যায় জড়িতদের প্রত্যর্পণ ও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যে এ বিষয়ে কোনো কিছু পাওয়া যায়নি।
৫ আগস্ট ভারতে আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তাদের দুঃখ প্রকাশ করা উচিত ছিল। তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল। বাংলাদেশ সরকারের শুধু একটা প্রেস বিজ্ঞপ্তি না, খুবই কঠোরভাবে তাদের ডেকে এনে শাসানো উচিত ছিল এবং সেই জবাবদিহিতা চাওয়া উচিত ছিল—কেন এই ধরনের প্রেস কনফারেন্স, কীভাবে সংগঠিত হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে প্রেস কনফারেন্স হয়েছে। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় বিচারের একটা রায় হয়েছে। সে আসামিকে যখন প্রেস কনফারেন্স করতে দেয় একটা সরকার, তার মানে এ দেশের গণতন্ত্র, বিচার ব্যবস্থা, এ দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ভারত সরকার কার্যত অবস্থান নিয়েছে।’
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, শেখ হাসিনা ও ওসমান হাদির হত্যায় জড়িতদের ফেরত পাঠানো, সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের মীমাংসা এবং বাংলাদেশের নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার পরই ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বের কথা বলা উচিত।
ইনকিলাব মঞ্চের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। সকালে শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে ‘রাহে ইনকিলাব’ নামে বিপ্লবী র্যালি বের করা হয়। দুপুরে ‘আজাদীর মেলাকাত’ অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্য, শুভাকাঙ্ক্ষী, কবি, সাহিত্যিক ও শিল্পীদের নিয়ে বিভিন্ন পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া ‘আঘাত-শ্রাবণ জুলাই’ শীর্ষক প্রদর্শনী, ‘লাল জুলাই’ মঞ্চনাটক এবং ‘ইশক-এ ইনকিলাব’ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, এনসিপির যুগ্ম সদস্য-সচিব মাহমুদা মিতু এবং ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

