ইস্ট লন্ডন মসজিদের জুমার খুতবা: সামার হলিডে শুধু বিনোদন নয়, পরিবার গড়ারও সময়
প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ আগস্ট ২০২৬
শায়খ আব্দুল কাইয়ুম
সামার হলিডেকে শুধু ভ্রমণ, বিশ্রাম ও বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবার ও সন্তানদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইস্ট লন্ডন মসজিদের প্রধান ইমাম ও খতীব শায়খ আব্দুল কাইয়ুম। তিনি গত ৭ আগস্ট শুক্রবার ইস্ট লন্ডন মসজিদের জুমার খুতবায় এ আহবান জানান।
তিনি বলেন, ছুটির এই সময় বাবা-মায়ের জন্য সন্তানদের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানো, তাদের ইসলামী চরিত্র গড়ে তোলা এবং বর্তমান সময়ের নানা বিভ্রান্তি ও ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
এ প্রসঙ্গে তিনি পবিত্র কুরআনের আয়াত উদৃত করেন, “হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই আগুন থেকে রক্ষা করো, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর।” [সূরা আত-তাহরিম: ৬]
তিনি বলেন, সন্তানের খাদ্য, পোশাক ও শিক্ষার ব্যবস্থা করাই শুধু বাবা-মায়ের দায়িত্ব নয়; বরং তাদের আল্লাহর পথে পরিচালিত করা, ঈমান ও উত্তম চরিত্রের সঙ্গে বড় হতে সহায়তা করাও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
রাসুলুল্লাহ (সা:)এর হাদিস উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তোমাদের প্রত্যেকেই একজন রাখাল এবং প্রত্যেকেই তার অধীনস্থদের ব্যাপারে দায়িত্বশীল।” [বুখারি, মুসলিম]
শায়খ আব্দুল কাইয়ুম বলেন, সন্তানকে ভালোবাসার অর্থ তার সব দাবি মেনে নেওয়া নয়। প্রয়োজনের সময় ‘না’ বলতে জানা এবং তার ঈমান ও চরিত্রের জন্য ক্ষতিকর বিষয় থেকে তাকে রক্ষা করাও প্রকৃত ভালোবাসার অংশ।
হযরত লুকমান (আ.)-এর উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, তিনি স্নেহের সঙ্গে সন্তানকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “হে আমার প্রিয় পুত্র, আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করো না।” [সূরা লুকমান: ১৩] এতে সন্তানকে ভালোবাসা ও একই সঙ্গে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার একটি সুন্দর ভারসাম্য ফুটে ওঠে।
তিনি বলেন, আজকের শিশু-কিশোররা এমন এক ডিজিটাল পরিবেশে বেড়ে উঠছে, যেখানে সামাজিক সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তারা অনৈতিকতা ও ঈমান নিয়ে সংশয় এবং নানা ক্ষতিকর মতাদর্শের মুখোমুখি হতে পারে। তাই সন্তানদের পুরোপুরি মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল ডিভাইসের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।
তবে তিনি বলেন, প্রতিটি কথোপকথনকে জিজ্ঞাসাবাদে পরিণত না করে বাবা-মাকে এমনভাবে সন্তানের জীবনে উপস্থিত থাকতে হবে, যাতে তারা (মা-বাবা) বুঝতে পারেন সন্তান কী করছে এবং সন্তানও যেন খোলামনে নিজের কথা বাবা-মায়ের সঙ্গে ভাগ করতে পারে।
গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে নামাজ আদায়, প্রতিদিন কিছু সময় কুরআন তিলাওয়াত বা আলোচনা, মোবাইল ফোন থেকে দূরে থেকে একসঙ্গে খাবার খাওয়া এবং সন্তানদের মসজিদ, ইসলামি ক্লাস ও যুব কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি।
একই সঙ্গে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা, একসঙ্গে দান-সদকা করা, উপকারী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া এবং পরিবার নিয়ে ভ্রমণের সময় আল্লাহর নেয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা শেখানোর আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সন্তানরা একদিন বড় হয়ে স্বাধীন হয়ে যাবে। তাই তাদের সঙ্গে বর্তমানের সময়টি সচেতনভাবে কাজে লাগানো প্রয়োজন।
রাসুলুল্লাহ (সা:) এর হাদিস উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আদমসন্তান যখন মৃত্যুবরণ করে, তখন তিনটি বিষয় ছাড়া তার আমল বন্ধ হয়ে যায়। তার একটি হলো নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে।” [মুসলিম]
সবশেষে তিনি দোয়া করেন, আল্লাহ যেন আমাদের সন্তানদের সব ধরনের প্রকাশ্য ও গোপন ফিতনা থেকে রক্ষা করেন, তাদের কুরআন ও নামাজের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন, উত্তম সঙ্গ দান করেন এবং তাদেরকে বাবা-মায়ের জন্য দুনিয়ায় চোখের শীতলতা ও আখিরাতে অব্যাহত সওয়াবের কারণ বানান। আমিন।
শায়খ আব্দুল কাইয়ুম : প্রধান ইমাম ও খতীব, ইস্ট লণ্ডন মস্ক এন্ড লন্ডন মুসলিম সেন্টার । জুমার খুতবা, শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬।

