দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে বিরোধের জেরে স্ত্রীকে খুন করে খালে লাশ ফেলেন স্বামী, গ্রেপ্তার ৩
প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দেশ ডেস্ক, ১৫ অক্টোবর ২০২৬:: চট্টগ্রামে প্রথম স্ত্রীর তথ্য গোপন করে দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে বিরোধের জেরে জান্নাতুল ফেরদৌস (২৮) নামে এক নারী শ্রমিককে সাম্পানের মধ্যে খুন করে লাশ খালে ফেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে চট্টগ্রামের শিকলবাহা খাল থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় জান্নাতুল ফেরদৌসের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের দ্বিতীয় স্বামী রাজা মিয়া ওরফে রাজুসহ তিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যায় ব্যবহৃত সাম্পান নৌকাটিও জব্দ করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ের এসব তথ্য জানান পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন। গ্রেপ্তার অপর আসামিরা হলেন- মো. মুসলিম উদ্দিন (৩৯) ও শুজুর আহম্মদ (২৪)।
পিবিআই জানিয়েছে, জান্নাতুল ফেরদৌস নগরে একটি জুতার কারখানায় চাকরি করতেন। সাত বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে তিনি দ্বিতীয় স্বামী রাজা মিয়ার সঙ্গে নগরের চান্দগাঁও বাহির সিগন্যাল এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর রাজাকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের সময় রাজা নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিলেও পরে তার প্রথম বিয়ের বিষয়টি জানতে পারেন জান্নাতুল। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিরোধের জেরে জান্নাতুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন রাজা। গত ২ আগস্ট শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রের লঞ্চ ঘাটসংলগ্ন খাল থেকে লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। পরে পরিবারের সদস্যরা জান্নাতুলকে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় তার মা ছায়রা খাতুন কর্ণফুলি থানায় হত্যা মামলা করেন।
চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় বেড়ানোর কথা বলে তাকে কর্ণফুলী নদীর অপর পাড়ে ব্রিজঘাটা এলাকায় নিয়ে যান রাজা। এরপর তিনি ও তার সহযোগীরা একটি সাম্পান নৌকায় করে শিকলবাহা খালে যান। রাত ৮টার পর নৌকার মধ্যে জান্নাতুলের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে তার মোবাইল ফোন খালে ফেলে দেওয়া হয়। পরে গলায় রশি প্যাঁচিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর হাত-পা বেঁধে বস্তাবন্দি লাশ কালারপোল এলাকায় এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেডের পেছনে শিকলবাহা খালে ফেলে দিয়ে তার চলে যান।
পুলিশ সুপার আরও জানান, গত ৬ অক্টোবর মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় টেকনাফ থেকে মুসলিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করি। তার তথ্যের ভিত্তিতে শুজুর আহম্মদকে গ্রেপ্তার এবং সাম্পানটি জব্দ করি। মুসলিম ১৪ অক্টোবর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।


