লন্ডনে কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় দুই বাংলাদেশিকে খুঁজছে পুলিশ
প্রকাশিত হয়েছে : ৩১ অক্টোবর ২০২৬
দেশ ডেস্ক, ৩১ অক্টোবর ২০২৬:: পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিনে ২০২৪ সালের আগস্টে ১৩ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে জড়িত থাকার সন্দেহে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে খুঁজছে ব্রিটিশ পুলিশ।
চলমান এই তদন্তের অংশ হিসেবে মেট্রোপলিটন পুলিশ সন্দেহভাজন দুই বাংলাদেশির নাম ও ছবি প্রকাশ করেছে। তাঁরা হলেন—শওকত আহমেদ (৩১) ও জাহিদুল হাসান জায়গীরদার (৩৪)। পুলিশ তাঁদের সন্ধান পাওয়ার পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য সান-এ পুলিশের বরাত দিয়ে জানানো হয়, ২০২৪ সালের পহেলা আগস্ট রাতে ওই মেয়েটি শিকার হয়েছে—এমন অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করে মেট্রোপলিটন পুলিশ।
তদন্তের দায়িত্বে থাকা প্রধান গোয়েন্দা পরিদর্শক (ডিসিআই) অ্যানা ডেইটন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটসের সাথে যোগাযোগ থাকা শওকত আহমেদ এখনো যুক্তরাজ্যেই অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই বরোর সাথে সম্পর্ক থাকা অপর সন্দেহভাজন জাহিদুল হাসান বাংলাদেশ পালিয়ে গিয়ে থাকতে পারেন বলে মনে করছে পুলিশ।
গোয়েন্দারা ইতোমধ্যেই দুই অভিযুক্তের ছবি প্রকাশ করেছেন এবং তাঁদের তথ্য পেতে সর্বসাধারণের কাছে নতুন করে আহ্বান জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ইতোপূর্বে তাঁদের ছবি ছাড়া একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারির দিনই দুই সন্দেহভাজন পালিয়ে যান বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে, তাঁদের অবস্থান চিহ্নিত করতে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভুক্তভোগী মেয়েটি পুলিশকে জানায়—হোয়াইটচ্যাপেল রোডে দুজন লোক তাকে দেখতে পায় এবং উইভার্স ফিল্ডস পার্কে নিয়ে যায়, যেখানে তাকে নির্যাতন করা হয়। পরবর্তীতে এক ব্যক্তি মেয়েটিকে উদ্ধার করেন।
ঘটনার পর থেকে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, ফরেনসিক পরীক্ষা, সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ এবং উপযুক্ত সুরক্ষা ও সহায়তা নিশ্চিত করতে ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।
ডিসিআই ডেইটন অভিযুক্তদের অবস্থান সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য অথবা তদন্তে সহায়তা করতে পারে এমন যেকোনো বিবরণ থাকলে, তা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানাতে সর্বসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানান। একই সাথে তিনি এই দুই অভিযুক্তকে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করার আহ্বান জানান।
যুক্তরাজ্যে অপরাধ প্রতিরোধে কাজ করা স্বতন্ত্র দাতব্য সংস্থা ‘ক্রাইমস্টপার্স’-এর আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক অ্যালেক্সা লুকাস বলেন, এই অপরাধীদের খুঁজে বের করা তদন্তকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে—এই আশ্বাস দিয়ে তিনি ছোট-বড় যেকোনো তথ্য থাকলে তা জানানোর তাগিদ দেন।
সংস্থাটি অপরাধীদের গ্রেফতার ও সাজা নিশ্চিতে ভূমিকা রাখতে পারে—এমন যেকোনো তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার পাউন্ড পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে।


