অপহৃত ইসমাইল আহমেদের পরিবারে নতুন আতঙ্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ মার্চ ২০২৬
দেশ ডেস্ক:: গাজীপুরের এরশাদ নগর এলাকায় গৃহবধূ তাজিমা বেগমের ওপর রহস্যজনক হামলার ঘটনায় এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত ৮ মার্চ সকালে সন্তানদের স্কুলে পৌঁছে দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ দুই যুবক তার পথরোধ করে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে হামলার পেছনের কারণ ও সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আহত তাজিমা বেগম মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার অপহৃত ইসমাইল আহমেদের বোন। পরিবারের দাবি, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে ইসমাইল আহমেদকে অপহরণ করা হয় এবং দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
একই পরিবারের আরেক সদস্যের ওপর হামলার ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, ইসমাইল আহমেদ অপহরণের ঘটনায় যাদের নাম বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে, হামলার পর আবারও তাদের দিকেই সন্দেহের তীর ঘুরছে। স্থানীয়ভাবে সাইবুর রহমানের নামও আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক দল পরিবর্তনের মাধ্যমে তিনি এলাকায় আগের চেয়ে আরও বেশি প্রভাব বিস্তার করছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, তার ভাই জয়নাল আবেদীন দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দুই ভাইয়ের প্রভাব আরও বেড়ে যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, “সাইবুর বাহিনীর” ভয়ে ইসমাইল আহমেদের ভাই দীর্ঘদিন ধরে দেশছাড়া রয়েছেন এবং সাধারণ মানুষও তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পান না। অনেকের ধারণা, মামলা করলেও কার্যকর কোনো বিচার হবে না বলেই মানুষ নীরব থাকছেন।
ইসমাইল আহমেদের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু দাবি করেন, ঘটনার পেছনে অনেক তথ্য-প্রমাণ থাকলেও ভয় ও আতঙ্কের কারণে পরিবারের কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ বা মামলা সামনে আসেনি।
এদিকে গাজীপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো জিডি বা মামলা দায়ের হয়নি, তবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

