বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে উজ্জ্বল বড়লেখার দুই কৃতি ক্রিকেটার
প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ আগস্ট ২০২৬
আবু রহমান:: বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে বড়লেখা উপজেলার দুই কৃতি সন্তান ইবাদত হোসেন চৌধুরী ও হাসিবুল হোসেন শান্ত নিজেদের কৃতিত্বে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন। ভিন্ন দুই সময়ে দেশের ক্রিকেটের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁদের নাম। একজন এখনও জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে চলেছেন, অন্যজন অবসর নিলেও বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে তাঁর কীর্তি আজও স্মরণীয়।
ইবাদত হোসেন চৌধুরী :
মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার কাঁঠালতলী ইউনিয়নে ১৯৯৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন ইবাদত হোসেন চৌধুরী। ডানহাতি ফাস্ট বোলার ইবাদত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পেস আক্রমণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। গতি ও বোলিং দক্ষতার কারণে ক্রিকেট অঙ্গনে তিনি ‘সিলেট রকেট’ নামে পরিচিত।
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন ইবাদত। দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ ও ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা—দুই ক্ষেত্রেই তিনি নিজের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন।
২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় ইবাদতের। তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়। সেই ম্যাচে বাংলাদেশের পেস আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
ইনজুরি ও দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষে আবারও মাঠে ফিরে দলের প্রয়োজনে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন ইবাদত। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রথম টেস্ট জয়ে মূল একাদশে জায়গা করে নিয়ে প্রথম ইনিংসে ১১ ওভার বোলিং করেন তিনি। ওই ইনিংসে লাবুশেন ও ক্যারির উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন এই পেসার।
হাসিবুল হোসেন শান্ত:
বড়লেখার আরেক কৃতি সন্তান সাবেক ক্রিকেটার হাসিবুল হোসেন শান্ত। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্তের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর নাম।
১৯৯৭ সালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত আইসিসি ট্রফির ফাইনালে কেনিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের জন্য শেষ বলে প্রয়োজন ছিল মাত্র ১ রান। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে ব্যাট হাতে হাসিবুল হোসেন শান্ত সেই রানটি নিয়ে বাংলাদেশকে ১ উইকেটের রোমাঞ্চকর জয় এনে দেন।
শান্তর সেই এক রানের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো আইসিসি ট্রফির চ্যাম্পিয়ন হয়। একই সঙ্গে খুলে যায় ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে খেলার এবং পরবর্তীতে টেস্ট মর্যাদা অর্জনের পথ। তাই তাঁর সেই কৃতিত্ব বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে আছে।
বাংলাদেশের ক্রিকেটের রূপকথার নায়কদের একজন হিসেবে বিবেচিত হাসিবুল হোসেন শান্ত ১৯৭৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা পৌরসভাধীন গাজিটেকা গ্রামের হেকিম বাড়ির বাসিন্দা। বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে টেস্ট ও একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন তিনি। দলে মূলত অলরাউন্ডারের ভূমিকা পালন করতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়েও দক্ষ ছিলেন এই সাবেক ক্রিকেটার।
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে বড়লেখার এই দুই কৃতি সন্তানের অবদান ভিন্ন দুটি সময়ে ভিন্নভাবে দেশের ক্রিকেটকে সমৃদ্ধ করেছে। একজন আধুনিক বাংলাদেশের পেস আক্রমণে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন, অন্যজন দেশের ক্রিকেটের ইতিহাস বদলে দেওয়া এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের নায়ক হয়েছেন।
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নাম লেখানো বড়লেখার এই দুই কৃতিজনের কীর্তি স্মরণীয় হয়ে থাকবে অনন্তকাল।
আবু রহমান, লন্ডন, ১৬.০৮.২০২৬।

