মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানীকে জীবনী পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্তির দাবি
প্রকাশিত হয়েছে : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
লন্ডন, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬: মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে মর্যাদা প্রদান এবং তাঁর বীরত্বগাথা জীবন ও কর্ম বাংলাদেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে বঙ্গবীর ওসমানী মেমোরিয়েল ফাউন্ডেশন ইউকে।
বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানীর ১০৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গত ২ সেপ্টেম্বর বুধবার পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল রোডের একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে এ দাবি জানানো হয়।
সংগঠনের সভাপতি ও ব্রিটেনে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আলহাজ কবির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক খান জামাল নুরুল ইসলামের পরিচালনায় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি কে এম আবু তাহের চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অব.) মঈন আহমদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ সাংবাদিক এম এ মান্নান, মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক বকশি ইকবাল আহমদ এবং বিশিষ্ট আইনজীবী ও সাবেক কাউন্সিলর ব্যারিস্টার নাজির আহমদ।
সভায় বঙ্গবীর ওসমানীর বীরত্বগাথা জীবন ও কর্মের ওপর বক্তব্য দেন দর্পণ টিভির সিইও ও বিশিষ্ট সাংবাদিক রহমত আলী, ব্রিকলেন ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক শাহ মুনিম, সাবেক কাউন্সিলর ও কমিউনিটি নেতা ওসমান গনি, বিশিষ্ট লেখক ও সলিসিটর মোহাম্মদ ইয়াওর উদ্দিন, সংগঠনের সহসভাপতি শেখ মো. মফিজুর রহমান, সহসভাপতি আমীর উদ্দিন আহমদ মাস্টার, ট্রেজারার সৈয়দ সুহেল আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী ফারুক মিয়া, ওসমানী বিমানবন্দর ক্যাম্পেইন কমিটির সদস্যসচিব এম এ রব, ব্রিটিশ বাংলাদেশী টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের ট্রেজারার শিক্ষক মিসবাহ কামাল, জকিগঞ্জ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন, নবীগঞ্জ এডুকেশন ট্রাস্টের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আব্দুল হাই, বিশিষ্ট আইনজীবী আমিন চৌধুরী ও হাজী বুলু মিয়া।
সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন হাফেজ জিলু খান। বঙ্গবীর ওসমানীর রুহের মাগফিরাত কামনা করে আলোচনা ও কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা হাসান নুরী চৌধুরী। সংগঠনের পক্ষ থেকে সাংবাদিক বকশি ইকবাল আহমদকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান আমীর উদ্দিন আহমদ ও সলিসিটর মোহাম্মদ ইয়াওর উদ্দিন। বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন হাফেজ সালেহ আহমদ। বঙ্গবীর ওসমানীর স্মরণে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন কবি শিহাবুজ্জামান কামাল।
সভায় বক্তারা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীকে স্মরণ করেন এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের সময় বঙ্গবীর জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী ‘কমান্ডার ইন চিফ’ হিসেবে দীর্ঘ নয় মাস রণাঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ নেতৃত্ব দেন। তাঁর প্রজ্ঞা, রণকৌশল, সাহসিকতা ও দূরদর্শিতার ফলে মুক্তিযোদ্ধারা সুসংগঠিতভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করতে সক্ষম হন এবং ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে।
তারা বলেন, জেনারেল ওসমানী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন এবং সর্বকনিষ্ঠ মেজর হিসেবে বীরত্বের পরিচয় দেন। পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধেও তিনি সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাঙালি জাতির গর্ব এবং একজন দক্ষ সমরবিদ ছিলেন। পরবর্তী জীবনে তিনি সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি আজীবন সংসদীয় গণতন্ত্রের অনুসারী ছিলেন।
বক্তারা বলেন, বঙ্গবীর ওসমানী বাঙালি জাতির একজন বীর সিপাহসালার ও রোল মডেল। তাঁর জীবন, আদর্শ, দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন।
সভা থেকে বাংলাদেশের বর্তমান নির্বাচিত সরকারের প্রতি দেশের সব শ্রেণির শিক্ষার্থীর পাঠ্যসূচিতে বঙ্গবীর ওসমানীর জীবন ও কর্ম অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রতি বছর রাষ্ট্রীয়ভাবে তাঁর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালনেরও দাবি জানানো হয়।
সভায় বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে উপস্থিতদের মধ্যে শিরনি বিতরণ করা হয়।


