‘কাকে ভোট দিয়ে আজ এই ভুক্তভোগী হলাম’ বলা নারী পেলেন জামিন
প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ অক্টোবর ২০২৬
দেশ ডেস্ক, ২৮ অক্টোবর ২০২৬:: ময়মনসিংহের ভালুকায় ফেসবুকে লাইভে নিজের ক্ষোভ প্রকাশের পর সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে গ্রেপ্তার নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার জামিন পেয়েছেন। বুধবার ময়মনসিংহের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালত পরিদর্শক মোহা. মোস্তাছিনুর রহমান জানান, বুধবার সকালে সাথী আক্তারকে আদালতে হাজির করা হয়। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিচারক সাজিদুল ইসলাম তার নিজ জিম্মায় ৫০০ টাকা বন্ডে জামিন মঞ্জুর করেন। পরে তাকে মুক্তির ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
মোস্তাছিনুর রহমান আরও জানান, এ মামলার পরবর্তী তারিখ ৩ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তারের পর পুলিশ যে প্রতিবেদন দাখিল করবে, তা পাওয়ার পর আদালত পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।
সাথী আক্তারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহতাব উদ্দিন আহমেদ আদালত চত্বরে বলেন, এ ঘটনার পর পুলিশের উচিত ছিল যারা মব সৃষ্টি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। কিন্তু পুলিশ উল্টো ওই নারীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। সাথী আক্তার ফেসবুক লাইভে যা বলেছেন, তা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আওতায় পড়ে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ অক্টোবর বেলা দুইটার দিকে ভালুকার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকার খাদিজা প্যালেস মার্কেটে নিজের ‘সাথী বিউটি পার্লার’ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ‘সাথী মেকওভার’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে দুটি লাইভ করেন সাথী আক্তার (৩০)। পাঁচ মিনিটের ওই ভিডিওর একপর্যায়ে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী।’
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঘেরাও করে বিচার দাবি করেন। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাথী আক্তারকে হেফাজতে নেয়।
ভিডিওটি প্রচারের পর মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী তার সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি তাদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন বলেও অভিযোগ ওঠে। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম এর আগে জানিয়েছিলেন, সাথী আক্তারের ফেসবুক লাইভের পুরো ভিডিও পর্যালোচনা করে সরকারবিরোধী কোনো বক্তব্য বা সমালোচনামূলক কিছু পাওয়া যায়নি। মূলত পুরো ভিডিও না দেখেই ছড়ানো গুজব থেকে ঘটনার সূত্রপাত হয়।
ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, ওই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে আনুমানিক ১৫০ থেকে ২০০ জন লোক জড়ো হয়েছিলেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় সম্ভাব্য অপরাধ প্রতিরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় সাথী আক্তারকে প্রতিরোধমূলকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়। সরকারবিরোধী বক্তব্য বা মতপ্রকাশের কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলেও জানান তিনি।
এর আগে গত সোমবার সাথী আক্তারকে আদালতে পাঠানো হয়েছিল।


