বাংলাদেশ বিমানের ম্যানচেস্টারের ফ্লাইট রক্ষায় কঠোর অবস্থানে প্রবাসী বাংলাদেশীরা
প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
আব্দুল মুমিন ফাহিম :: ম্যানচেস্টার–সিলেট সরাসরি ফ্লাইট চালু রাখা এবং সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অন্যান্য আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চালুর দাবিতে যুক্তরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিরা কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। এ দাবিতে নর্থ বাংলা প্রেসক্লাব ইউকের উদ্যোগে ম্যানচেস্টারে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশনের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন বাংলাদেশ হাই কমিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট হাইকমিশনার জুবায়েদ হুসেন। নর্থ বাংলা প্রেসক্লাবের জেনারেল সেক্রেটারি নুরুল আমিন তারেকের নেতৃত্বে স্মারকলিপি প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ডেপুটি মেয়র কাউন্সিলর মাসুক আলী, নর্থ বাংলা প্রেসক্লাবের পেট্রন লতিফ মিয়া কামালি, বিশিষ্ট সাংবাদিক সারওয়ার হোসেন, কমিউনিটি টুগেদার গ্রিমসবির ফাউন্ডার চেয়ার হাজী আব্দুস সালিক, ব্রাডফোর্ডের কমিউনিটি নেতা আনোয়ার আলী জিতু, স্কানথর্প এডুকেশন অ্যান্ড কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নজরুল ইসলাম, লিডসের কমিউনিটি নেতা জাহাঙ্গীর আলম, লিংকন বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুর রফিক, হাল কমিউনিটি নেতা আব্দুল কাদির, দিগন্ত মিডিয়ার ম্যানেজিং ডাইরেক্টর শেখ আব্দুল কাইয়ুম, আস্টন মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের নেতা আনোয়ার হুসেনসহ নর্থ বাংলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিক ও বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের শতাধিক প্রতিনিধি।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সিলেট বিভাগ বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এই অঞ্চলের সঙ্গে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের রয়েছে গভীর সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পারিবারিক সম্পর্ক। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক সিলেটি প্রবাসীর যাতায়াতের প্রধান কেন্দ্র হলো ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ম্যানচেস্টার–সিলেট সরাসরি ফ্লাইট চালু থাকায় প্রবাসীরা সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমিয়ে সহজে দেশে যাতায়াত করতে পারছেন। তবে ফ্লাইটটি অনিশ্চয়তার মুখে পড়লে প্রবাসীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।
এছাড়া ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তুলতে অন্যান্য আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চালু করা সময়ের দাবি বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। এতে প্রবাসীদের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
স্মারকলিপিতে চারটি দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো- ম্যানচেস্টার–সিলেট সরাসরি ফ্লাইট নিয়মিত ও স্থায়ীভাবে চালু রাখা। ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অন্যান্য আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।
প্রবাসীবান্ধব বিমান চলাচল নীতি গ্রহণ করে সিলেট অঞ্চলের যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘব করা। কাতার এয়ারলাইন্সকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব প্রদান।
প্রবাসী নেতৃবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রধান উপদেষ্টার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও সদয় হস্তক্ষেপে এসব দাবি বাস্তবায়িত হলে প্রবাসী বাংলাদেশি ও দেশের জনগণ উপকৃত হবে এবং জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষিত হবে। তারা এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা, বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের সহযোগিতা কামনা করেন।

