টাওয়ার হ্যামলেটস্ কাউন্সিলের বাজেট পাস : হাউজিং, সোশ্যাল কেয়ার ও জীবনযাত্রার সহায়তায় নতুন পদক্ষেপ
প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
লন্ডন, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ : টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের আগামী তিন বছরের পূর্ণ ব্যয় নির্ধারিত বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে । কাউন্সিলের অনুমোদিত তিন বছরের বাজেটের মূল লক্ষ্য হচ্ছে লন্ডনের হাউজিং সংকট মোকাবিলা করা। সাথে নতুন পদক্ষেপ হিসেবে রয়েছে ফস্টার কেয়ারারদের জন্য ১০০ ভাগ কাউন্সিল ট্যাক্স ছাড়।
২৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার পূর্ণ কাউন্সিল মিটিংয়ে এই বাজেট অনুমোদন লাভ করে।
এই বাজেটে আগামী পাঁচ বছরে কাউন্সিল মালিকানাধীন বাড়ি-ঘরের উন্নয়নে অতিরিক্ত ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এতে মোট বিনিয়োগ দাঁড়াবে ৩৪৫ মিলিয়ন, যা আগামী ১০ বছরে কাউন্সিলের আবাসন সম্পদের উন্নয়নে অতিরিক্ত ৬০৯ মিলিয়ন পাউন্ডের অংশ।
গত বছর কাউন্সিল ট্যাক্স রিডাকশন স্কিমের মাধ্যমে ২৮ হাজারপরিবার ৩৬.৫ মিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় করেছে । টাওয়ার হ্যামলেটস এখনও সবচেয়ে উদার স্থানীয় কাউন্সিল ট্যাক্স রিডাকশন স্কিমগুলোর একটি চালু রেখেছে, যার ফলে সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোকে কোনো কাউন্সিল ট্যাক্স দিতে হয় না।
এছাড়া টেম্পোরারি হাউজিং ভাড়া ব্যয় ৪৪ শতাংশ বৃদ্ধির পর বাড়তি চাহিদা মোকাবেলায় ৪৫ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং যেসব ভাড়াটিয়ার ভাড়া বৃদ্ধি বিদ্যমান হাউজিং বেনিফিট বা ইউনিভার্সাল ক্রেডিট দ্বারা পূরণ হয় না, তাদের জন্য নতুন রেন্ট হার্ডশিপ ফান্ডে ৪ লাখ পাউন্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
কাউন্সিলের বিস্তৃত আবাসন পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে মে ২০২৬ সালের মধ্যে ৪,০০০টি নতুন সাশ্রয়ী ও সামাজিক ভাড়ার বাসা (সোশ্যাল রেন্ট হোমস) নির্মাণ এবং মেয়রের এক্সেলেরেটেড হাউজিং প্রোগ্রাম – এর মাধ্যমে আরও ৩,৩৩২টি নতুন ঘর নির্মাণের সুযোগ সৃষ্টি।
বারার শিশু ও তরুণদের সহায়তায় নতুন পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে ফস্টার কেয়ারারদের জন্য কাউন্সিল ট্যাক্স বাতিল (৭৮০,০০০ পাউন্ড) এবং ঘরে পড়াশোনার বাড়তি চাহিদা মোকাবেলায় একটি বিশেষ দল গঠন (৪৫৩,০০০ পাউন্ড)। এর পাশাপাশি প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি স্কুলে সর্বজনীন ফ্রি খাবার, স্কুল ইউনিফর্ম, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুদান এবং ২০২২ সাল থেকে চালু হওয়া ২০টি ‘ইয়ং টাওয়ার হ্যামলেটস্’ ইয়ূথ সেন্টার (যুবকেন্দ্র) পরিচালনা অব্যাহত থাকবে। গত মাসে ২০তম ইয়ুথ সেন্টারটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।
এডাল্ট সোশ্যাল কেয়ার (প্রাপ্তবয়স্ক সামাজিক সেবা) এর ক্ষেত্রে বাড়তি চাহিদা মোকাবেলায় ২২.৫ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ রাখা হয়েছে, পাশাপাশি বয়স্ক ও অসহায় বাসিন্দাদের ঘরে গরম খাবার পৌঁছে দেয়ার সার্ভিস ‘মিলস অন হুইলস’ এবং বিনামূল্যে হোমকেয়ার চালু রাখার কর্মসুচিসহ সবমিলিয়ে মোট বরাদ্দ দাঁড়াচ্ছে ২৮.৪ মিলিয়ন পাউন্ড।
নতুন বাজেটে বারার রিসাইক্লিং হার বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় ১ লাখ ২৪ হাজার ফ্ল্যাটে সাপ্তাহিক খাদ্য বর্জ্য সংগ্রহ সেবা সম্প্রসারণে ২.৫৮ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ রাখা হয়েছে। দেশের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হিসেবে, যেখানে প্রায় ৮৭% প্রোপার্টি হচ্ছে ফ্ল্যাট, সেখানে রিসাইক্লিং একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
টাওয়ার হ্যামলেটসের এক্সিকিউটিভ মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “সতর্ক ও দায়িত্বশীল বাজেট ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আমরা ফ্রন্টলাইন সার্ভিসেস বা প্রান্তিক সেবায় নজিরবিহীন বিনিয়োগ করতে পেরেছি, যার নেতৃত্ব দিতে পেরে আমি গর্বিত। আমরা শুধু বাজেট ভারসাম্যই রাখিনি, জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবেলায় বাসিন্দাদের জন্য আরও শক্তিশালী সহায়তামূলক নীতিও চালু রেখেছি।”
মেয়র বলেন, “ঘর-বাড়ির স্বল্পতা অর্থাৎ আবাসন সংকট মোকাবেলায় সাশ্রয়ী নতুন বাসা নির্মাণে আমরা অগ্রণী ভূমিকা রাখছি। পাশাপাশি কাউন্সিল বাসাগুলোর মান উন্নয়ন করছি এবং ভাড়া বৃদ্ধিতে ক্ষতিগ্রস্ত সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভাড়াটিয়াদের সহায়তায় নতুন তহবিল চালু করেছি।
“তরুণদের জন্য আমরা ইতোমধ্যে দেশের সেরা সহায়তা প্যাকেজগুলোর একটি দিচ্ছি। এখন আমরা ফস্টার কেয়ারারদের কাউন্সিল ট্যাক্সের বোঝা তুলে দিয়ে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতি দিচ্ছি এবং আরও মানুষকে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করছি।”
তিনি আরও বলেন, “বিপদগ্রস্ত প্রাপ্তবয়স্কদের সহায়তাকেও আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি। এডাল্ট সোশ্যাল কেয়ার-এ অতিরিক্ত মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ করেছি, ‘মিলস অন হুইলস’সেবা চালু করেছি এবং হোমকেয়ার সেবার চার্জ বাতিল করেছি। অন্যান্য কাউন্সিলের মতো নয়, আমরা প্রয়োজন নির্ধারণের ভিত্তিতে সব বয়স্ক বা ডিজেবল বাসিন্দাদের জন্য আয় নির্বিশেষে বিনামূল্যে হোমকেয়ার প্রদান করি।”
মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “সবকিছু বাস্তবায়ন করেও আমরা নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য সাধারণ কাউন্সিল ট্যাক্স স্থগিত রেখেছি। সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোকে কোনো কাউন্সিল ট্যাক্স দিতে হয় না এবং আমরা আশা করছি লন্ডনের মধ্যে টাওয়ার হ্যামলেটসের কাউন্সিল ট্যাক্স হার সবচেয়ে কমগুলোর একটি হিসেবে থাকবে।” সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

