সিলেটে বন্ধুকে হত্যার নেপথ্যে ‘পরকীয়া’
প্রকাশিত হয়েছে : ০১ জুন ২০২৬
দেশ ডেস্ক:: স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার কারণেই বন্ধু জুয়েলকে খুন করা হয়েছে। বার বার নিষেধ করা সত্ত্বেও জুয়েল দমেনি। ঘটনার দিনও জুয়েলকে অবৈধ সম্পর্ক থেকে সরে দাঁড়াতে অনুরোধ করা হয়। এতে তর্কে জড়ায় জুয়েল। এ কারণে নির্জন স্থানে নিয়ে জুয়েলকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয়েছে। এমন তথ্য জানিয়েছে জুয়েলের ঘাতক হাবিল।
রোববার ঘটনার পরপরই এলাকার লোকজন তাকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। আটকের পর থেকে একই কথা বলে যাচ্ছে হাবিল। গতকাল বিকালে আদালতেও খুনের ঘটনা স্বীকার করে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।
সিলেটে কোতোয়ালি থানার ওসি খান মো. মাইনুল জাকির জানিয়েছেন- গ্রেপ্তার হওয়া হাবিল জিজ্ঞাসাবাদে পরকীয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছে। তার স্ত্রীর সঙ্গে বন্ধু জুয়েলের পরকীয়ার কারণেই সে এ খুন করেছে। আপাতত পুলিশ তার বক্তব্য গ্রহণ করেছে। সে খুনের ঘটনা স্বীকার করেছে। নেপথ্যে অন্য কোনো ঘটনা আছে কিনাÑ সেটি তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে। তিনি বলেনÑ ঘটনার পর হাবিলকে আহত অবস্থায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
গতকাল দুপুরে হাসপাতাল থেকে তাকে ছেড়ে দেয়া হলে পুলিশ বিকালেই আদালতে পাঠিয়ে দিয়েছে। আদালতে হাবিল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সিলেটের রায়নগর দপ্তরী পাড়ায় এ ঘটনাটি ঘটেছিল রোববার দুপুরে। পুলিশ জানিয়েছে-পরকীয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে দুই বন্ধু হাবিল ও জুয়েলের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে হাবিল তার বন্ধু জুয়েলকে টেনে পার্শ্ববর্তী গোয়ালীছড়া খালে ফেলে দেয় এবং তার সঙ্গে থাকা ধারালো সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে ভিকটিমের গলা, পিঠ ও বুকে একাধিক আঘাত করে। পরবর্তীতে আশপাশের লোকজন জুয়েলকে উদ্ধার করে দ্রুত সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পুলিশকে খবর দেয়।
হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক জুয়েলকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে স্থানীয়রা হাবিলকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সৌপর্দ করে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন- হাবিল চাকু দিয়ে তার জুয়েলের শরীরে আঘাতের পর আঘাত করে। এতে বুক, পেট সহ বিভিন্ন স্থান ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যায়। শরীরে ৩০ থেকে ৪০টি আঘাত হওয়ায় অধিক রক্তক্ষরণে জুয়েল ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারায়। হাসপাতালে নেয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। নিহত জুয়েল ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর থানার ভেরা ১০ নং সিধলা ইউপি এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে। হাবিল সিলেট মহানগরীর শাহপরাণ (রহ.) থানাধীন বালুচর মঈনুল মিয়ার বাসার মো. আলীর ছেলে। দু’জনই বিবাহিত।
এদিকে- খুনের ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন হাবিল। তিনি খুনের ঘটনা স্বীকার করেন। বলেন-তার স্ত্রীর সঙ্গে জুয়েলের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি নিয়ে তিনি দুজনকেই একাধিকবার বুঝিয়েছেন বলেও জানান। কিন্তু কোনো সমাধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত নিজেই বিচার করার সিদ্ধান্ত নেন। তবে বিষয়টি নিয়ে ঘটনার দিন তিনি জুয়েলের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। তাকে ওই পথ থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধও করেন। এতে জুয়েল ক্ষান্ত না হওয়ায় তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও পরে মারামারির ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় জুয়েলও হাবিলকে মারধর করেছে বলে জানায়। তবে নিহত জুয়েলের পরিবারের সদস্যরা হাবিলের স্ত্রীর সঙ্গে জুয়েলের অবৈধ সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেছেন। তারা বলেছেন- খুনের ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে হাবিল এখন জুয়েলের ওপর দোষ দিচ্ছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। এদিকে- ঘটনার পর নিহত জুয়েলের পিতা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হাবিলকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।


