রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: ১৬ জনের ক্যাম্পে বেঁচে আছি মাত্র ৪ জন: জামালপুরের যুবক
প্রকাশিত হয়েছে : ১৯ জুন ২০২৬
দেশ ডেস্ক:: আমাদের ১৬ জনের ক্যাম্প থেকে ১২ জন মানুষ মারা গেছে। এখন আমরা চারজন জীবিত আছি। আমরা চারজনই আহত।’
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে আটকা পড়ে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এভাবেই নিজের অসহায়ত্বের কথা জানিয়েছেন জামালপুর সদর উপজেলার গোদাশিমলা এলাকার যুবক আরমান আলী।
সম্প্রতি যুদ্ধক্ষেত্রের একটি অস্থায়ী ক্যাম্প থেকে গোপনে ধারণ করা তার একটি ভিডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
আরমান আলী সদর উপজেলার গোদাশিমলা এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে। শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে তার বাবা রফিকুল ইসলাম জানান, তার ছেলে বর্তমানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ময়দানে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন।
ভিডিও বার্তায় আরমান দাবি করেন, উচ্চ বেতনে ড্রোন কোম্পানি ও নির্মাণকাজে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাকে এবং আরও কয়েকজন বাংলাদেশি যুবককে রাশিয়ায় নেওয়া হয়েছিল। পরে তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
আবেগঘন ওই ভিডিওতে আরমান আলী বলেন, ‘আমাদের ফোন নিয়ে নিয়েছে। আমাদের বলা হয়েছিল ড্রোন কোম্পানি ও কনস্ট্রাকশন সাইটে কাজ দেওয়া হবে। কিন্তু এসব কথা বলে আমাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়ে দিয়েছে। ৩-৪ দিনের প্রশিক্ষণের পর ফ্রন্টলাইনে পাঠানো হয়। সেখানে মাটির নিচে মাইন, চারদিকে ড্রোন—সবসময় মৃত্যুর ঝুঁকি। আমাদের মাছের টোপের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। আমাদের ১৬ জনের ক্যাম্প থেকে ১২ জন মারা গেছে। আমরা চারজন বেঁচে আছি। আমরা সবাই আহত।’
আহত অবস্থায় ফ্রন্টলাইন থেকে ফিরে আসার পর তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আরমান বলেন, ‘আহত হয়ে ফেরার পরও আবার যুদ্ধ করতে যেতে বলা হয়। রাজি না হওয়ায় মারধর করা হয়েছে। ৫-৬ দিন বাংকারে আটকে রাখা হয়েছে। খাবার ও পানিও দেওয়া হয়নি।’
ভিডিওর একপর্যায়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমরা তো এই জীবন চাইনি। আমরা এসেছিলাম ডাল-ভাত খেয়ে বাঁচার জন্য। আমার পাঁচ মাসের একটি কন্যাসন্তান আছে। আমরা মুসলিম, দেশে ফিরে মরতে চাই, যেন জানাজা হয়। শেয়াল-কুকুরের মতো মরতে চাই না। প্লিজ, আমাদের রক্ষা করুন।’
ভিডিওটি দেশে পৌঁছানোর পর গোদাশিমলা এলাকায় আরমানের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে জীবিত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের জরুরি কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তার বাবা রফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘দুই দিন আগে ছেলের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছে। আমরা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখতে পাইনি। ছেলের মা দিন-রাত কান্না করছে। আরমানের পাঁচ মাস বয়সী একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।’
জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতার বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। পরিবারের কেউ বিস্তারিত জানালে কী ধরনের সহায়তা করা যায় তা দেখবো।’

