৪০তম মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভায় বক্তারা: পাঠ্যপুস্তকে কবি লায়লা রাগিবের কবিতা অন্তর্ভুক্তির দাবি
প্রকাশিত হয়েছে : ১২ জুলাই ২০২৬
দেশ ডেস্ক, ১২ জুলাই ২০২৬: ‘ঠোঁটের ভাষায় কবিতা লিখুন’ আন্দোলনের স্বপ্নদ্রষ্টা, সিলেট লেখিকা সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং কবিতা ও কবি সংলাপ পত্রিকার সম্পাদিকা কবি লায়লা রাগিবের ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে (১১ জুলাই) শনিবার সন্ধ্যায় সিলেটে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নগরের দরগাগেইটস্থ সিলেট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাহিত্য আসর মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলা সাহিত্যে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পাঠ্যপুস্তকে কবি লায়লা রাগিবের কবিতা অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান। তারা বলেন, কবি লায়লা রাগিব তার কবিতায় সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরার পাশাপাশি অশ্লীলতার বিরুদ্ধেও লিখে গেছেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী বলেন,একেবারে কম সময়ে যেসকল কবি সাহিত্যিকরা তাদের লেখনির মাধ্যমে সমাজকে আলোকিত করে গেছেন কবি লায়লা রাগিব তাদের অন্যতম। তিনি মাত্র ত্রিশ বছর বেঁচেছিলেন। কিন্তু এত কম সময়েও তিনি যে সহজ ভাষায় কবিতা লেখার তাগিদ দিয়ে গেছেন, সত্যি এটি একটি বিরল ঘটনা। তার ‘ঠোঁটের ভাষায় কবিতা লিখুন’ শ্লোগানটি নিঃসন্দেহে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে। তার কবিতায় প্রেম, বিরহ,সমাজ অনেক কিছু লিখেছেন; কিন্তু কোথাও অশ্লীলতার ছাপ নেই। তিনি তার লেখনির মধ্য দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন যে, অশ্লীলতা ছাড়াও কবিতা সাহিত্য হয়। তার লেখনি আমাদেরকে আলোর পথ দেখায়। মৃত্যুর এতো বছর পরেও তার কবিতা নিয়ে সাহিত্য নিয়ে আলোচনা হয়,গবেষণা হয়। এতে প্রমাণিত হয় তিনি উঁচু মাপের একজন বিদগ্ধ কবি ছিলেন। নতুন প্রজন্মের কাছে কবি লায়লা রাগিবের রেখে যাওয়া সাহিত্য পৌঁছে দিতে হবে।
কবি লায়লা রাগিব স্মৃতি সংসদ সিলেটের সভাপতি কবি বেলাল আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক-সাংবাদিক কাউসার চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিশিষ্ট কবি লে. কর্নেল (অব.) সৈয়দ আলী আহমদ, সিলেট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক গল্পকার সেলিম আউয়াল, বিশিষ্ট লেখক ও সাহিত্যিক জামান মাহবুব এবং সিলেট লেখিকা সংঘের সভাপতি কবি রওশন আরা চৌধুরী।
প্রধান আলোচকের বক্তব্য দেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক কবি অধ্যাপক বাছিত ইবনে হাবিব। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিলেট লেখিকা সংঘের সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট কবি ইশরাক জাহান জেলী। কবি পরিবারের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন কবি লায়লা রাগিবের স্বামী, দেশের প্রখ্যাত কবি রাগিব হোসেন চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন যমুনা অয়েল লিমিটেডের পরিচালক, বাচিকশিল্পী ও কবি সালেহ আহমদ খসরু, সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কবি মুহিত চৌধুরী, কেমুসাসের সহসভাপতি রুহুল ফারুক, ঐতিহ্যবাহী সাহিত্য পত্রিকা আল-ইসলাহ-এর সম্পাদক কবি আহমদ মাহবুব ফেরদৌস, আইনজীবী ও কবি অ্যাডভোকেট আব্দুল মুকিত অপি, কবি নাজমুল আনসারী, বিশিষ্ট সংগঠক জাহেদুর রহমান চৌধুরী, কবি এখলাসুর রহমান, কবি মুশতাক চৌধুরী, কবি শফিকুর রহমান চৌধুরী, কবি রাহনামা শাব্বির চৌধুরী, কবি কাউসার আরা এবং কবি নিলুফা ইসলাম নিলু।
অনুষ্ঠানে কবি লায়লা রাগিবের কবিতা পাঠ করেন কবি মাওলানা আলী আহমদ। কবিকে নিয়ে রচিত কবিতা আবৃত্তি করেন কবি নিশাত ফাতেমা। শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করেন আব্দুল আজিজ। পরে কবির রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন সৈয়দ রেজাউল হক।
অনুষ্ঠানে কবি-পুত্র লবিদ হোসেন চৌধুরীসহ ভ্রমণ লেখক মোয়াজ আফসার, কবি মুহাম্মদ ফয়জুল হক, ছড়াকার ও সাংবাদিক নুর আহমদ, কবি কামাল আহমদ, কবি রাজিয়া সুলতানা, কবি এম. আলী হোসাইন, কবি শিপারা বেগম শিপা, কবি কুবাদ বখত চৌধুরী, কবি রাজিব হোসেন, মোহাম্মদ মোহন মনি, কবি মকসুদ আহমদ, কবি নাসির উদ্দিন, কবি লায়লা আজিজ, কবি মো. মখলিসুর রহমান, কবি আলী আহমদ, আমীর হোসেন সোহাগ, আলী মোহাম্মদ ইউনুস, কবি নুরজাহান সাদেক নূরী, জোবায়দা বেগম আঁখিসহ সিলেটের বিপুলসংখ্যক কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সত্তরের দশকের অন্যতম আধুনিক কবি লায়লা রাগিব ১৯৮৬ সালের ৯ জুলাই মাত্র ৩০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

