ইলিয়াস আলীকে ‘দ্বিতীয় চেষ্টায়’ জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে অপহরণ
প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ আগস্ট ২০২৬
দেশ ডেস্ক, ০৭ আগস্ট ২০২৬:: বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলীকে গুম করে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণের প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর দ্বিতীয় দফায় তাকে তুলে নেওয়া হয়েছিল। দ্বিতীয় ওই অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান- এমন দাবি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনায় সেনা হেফাজতে থাকা উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখাতে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানকে গ্রেফতার দেখানোর বিষয়ে আগামী রোববার (৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আদেশ দিতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।
২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল গভীর রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে ইলিয়াস আলী ও তার গাড়ি চালককে তুলে নেয়া হয়। এরপর তাদের খোঁজ মেলেনি। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশেই ইলিয়াস আলীকে `গুম’ করা হয়।
বিমান বাহিনীর তৎকালীন স্কোয়াড্রন লিডার সাইফুর রহমান সে সময় র্যাবের গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত ছিলেন। আর তৎকালীন লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিয়াউল আহসান ছিলেন র্য্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জিয়াউল আহসানকে যখন সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি দিয়ে গ্রেফতার করা গ্রেফতার হয়, তখন তিনি ছিলেন মেজর জেনারেল। সর্বশেষ তিনি ছিলেন ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারে (এনটিএমসি) পরিচালক।
সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম এস শফিউদ্দিন আহমেদের জামাতা সাইফুর রহমান সর্বশেষ বিমানবন্দর দপ্তরে ডিরেক্টরেট অফ ইয়ার ট্রেনিং ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
গত ২১ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েসের জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীর গুম ও হত্যার ঘটনায় সাইফুর রহমানের নাম আসে। এর পর ২৬ জুলাই রাতে তার বাসা থেকে তাকে আটক করে বিশেষ সামরিক পুলিশ শাখা (প্রভোস্ট) পরে তাকে বাহিনীর বিশেষ সেলে হেফাজতে রাখা হয়।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্ত ও সাক্ষীদের জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীকে অপহরণের ঘটনায় উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদসহ অন্যদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে।’
জানা যায়, এম ইলিয়াস আলী টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও সোচ্চার সমালোচক ছিলেন। ২০০৯ সালে ভারতের টিপাইমুখ বাঁধের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে সিলেট অঞ্চলে গড়ে ওঠা আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

