জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মরণে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউকের দোয়া ও আলোচনা
প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ আগস্ট ২০২৬
দেশ ডেস্ক, ৮ আগস্ট ২০২৬: জুলাই বিপ্লবে শাহাদাতবরণকারী শহীদদের রূহের মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউকের উদ্যোগে লন্ডনের মারকাজুল উলূম মাদ্রাসা মিলনায়তনে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউকের সভাপতি মাওলানা ড. শোয়াইব আহমদ। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ থেকে আগত জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত ও প্রারম্ভিক বক্তব্য দেন সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি মুফতি আবদুল মুনতাকিম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সাইয়িদ নাঈম আহমদ।
আলোচনা সভায় বক্তারা জুলাই বিপ্লবের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। পরে শহীদদের রূহের মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, ‘২৪-এর জুলাই বিপ্লব কোনো আকস্মিক ঘটনার ফল নয়; বরং দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ ও আত্মোৎসর্গের ধারাবাহিক পরিণতি।’
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত আন্দোলন, বিশেষ করে ধর্মীয় ও গণমানুষের অধিকারভিত্তিক সংগ্রাম, জনগণের মধ্যে যে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সঞ্চার করেছিল, জুলাই বিপ্লব ছিল তারই বহিঃপ্রকাশ।
শাপলা চত্বরের ঘটনাসহ বিভিন্ন সময়ে আলেম-উলামার ওপর পরিচালিত দমন-পীড়নের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে জনগণের মধ্যে স্বৈরাচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিরোধচেতনা আরও শক্তিশালী হয়েছে। ইসলামবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, আলেম-উলামার বিরুদ্ধে পরিচালিত নানা ষড়যন্ত্র এবং সেগুলোর মোকাবিলায় উলামায়ে কেরামের অব্যাহত আন্দোলন-সংগ্রাম জুলাই বিপ্লবের পটভূমি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও তিনি দাবি করেন।
মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব আরও বলেন, ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ ও গণআন্দোলন জুলাই বিপ্লবকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছে। তাদের অবদান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে উলামায়ে কেরামের দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও সংগ্রামের ভূমিকাও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
প্রারম্ভিক বক্তব্যে মুফতি আবদুল মুনতাকিম বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, স্বৈরাচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে নবীগণ দীর্ঘমেয়াদি সংগ্রাম পরিচালনা করেছেন। হজরত মূসা (আ.)-এর মাধ্যমে ফেরাউনের পতন সেই ঐতিহাসিক ধারার অন্যতম উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
তিনি বলেন, নবীগণের উত্তরসূরি হিসেবে উলামায়ে কেরামের ওপরও জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা এবং গণমানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ভূমিকা রাখার দায়িত্ব রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের ইতিহাসে আলেম-উলামার আত্মত্যাগ, সাহসিকতা ও নেতৃত্বের বহু নজির রয়েছে। ভবিষ্যতেও ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে উলামায়ে কেরামকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা ড. শোয়াইব আহমদ বলেন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউকে শুরু থেকেই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। আন্দোলনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজপথে এবং জনমত গঠনে কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন।
তিনি বলেন, বিশেষ করে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে যুক্তরাজ্যে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তারা গণআন্দোলনের পক্ষে জনমত গড়ে তুলেছেন।
স্বৈরাচারের পতনের মধ্য দিয়ে যে নতুন প্রত্যাশার জন্ম হয়েছে, তা বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্য, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা সভা শেষে মাওলানা আবদুল মাজিদের পরিচালনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রূহের মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও কল্যাণ কামনা করা হয়।

