গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে সিলেট বিএনপি’র সিনিয়র নেতারা
প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ আগস্ট ২০২৬
দেশ ডেস্ক, ১৯ আগস্ট ২০২৬:: গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন সিলেট বিএনপি’র ৫ সিনিয়র নেতা। অনেকেই ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিলেন। আশাও ছেড়ে দিয়েছিলেন। ধরে নিয়েছিলেন সবই শেষ। কিন্তু হঠাৎ করে আসছে সুখবর। হাসছেন বিএনপি নেতারা। ঝিমুনি ভাব ছেড়ে চনমনে হয়ে উঠছেন। একেক করে এরই মধ্যে ৫ নেতা পেয়েছেন সুখবর। দায়িত্ব পাওয়া নেতাদের ঘিরে নেতাকর্মীরাও উজ্জীবিত হয়ে উঠছেন। সব শেষ সুখবর পেয়েছেন সিলেট নগর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম। এটির জন্য তিনি নিজেও প্রস্তুত ছিলেন না বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠজনেরা। তারা জানিয়েছেন- ঢাকার ফোন পেয়েছেন সোমবার রাতে। ডাক পাওয়ার পর নিজেও খুঁজছিলেন সুখবরের দপ্তরটি। গতকাল সকাল পর্যন্ত তিনি নিজেও জানতেন না।
অবশেষে তিনি জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালকের পদ পেয়েছেন। সেই পদটি অবশ্য এতদিন শূন্য ছিল। গতকালই পেয়েছেন আনুষ্ঠানিক চিঠি। তার এই দায়িত্ব প্রাপ্তিতে সিলেট বিএনপি’র নেতাদের মুখে হাসি ফুটেছে। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকে তিনি অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন। ক’দিন আগে সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন মিফতাহ সিদ্দিকী। তিনি বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। আন্দোলনের মাঠ কাঁপিয়েছিলেন মিফতাহ। সিলেট বিভাগে দলকে এক হাতে পরিচালনা করছেন। সিলেট-৪ আসনের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। ভোটের মাঠে জোয়ার তুলেও মনোনয়ন পাননি। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর প্রায় ৬ মাস অপেক্ষায় ছিলেন মিফতাহ। অবশেষে তাকে সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া হয়। দায়িত্ব পেয়ে মিফতাহও উজ্জীবিত। সিলেটের নতুন সংস্থা। এখনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। মিফতাহ’র কাঁধে দায়িত্ব অনেক বেশি। সিলেট নগরে পানি সংকট তীব্র। এই অবস্থা থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে তিনি কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন। খুব শিগগিরই সিলেট ওয়াসার কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মিফতার আগে সিলেটে সুখবর পেয়েছিলেন নগর বিএনপি’র তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। তাকে দেয়া হয় সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব। এটিও সিলেটে নতুন সংস্থা। আওয়ামী লীগ সরকার কোনো কার্যক্রমও চালায়নি। ফলে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম শুরু করা ছিল কয়েস লোদীর জন্য চ্যালেঞ্জের। দ্রুতই কাজ শুরু করেন কয়েস লোদী। মাত্র দু’মাসের মধ্যে তিনি অস্থায়ী দপ্তরের কার্যক্রম শুরু করেছেন। উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এরই মধ্যে দিয়েছেন নির্দেশনা। নতুন স্থাপনা নির্মাণে অনুমতির বিষয়ে তিনি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। এতে উল্লেখ করেছেন- এখন থেকে স্থাপনা নির্মাণে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। ব্যাকফুটে ছিলেন সিলেট জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম।
সিলেট-৬ আসনে মনোনয়ন চেয়েও পাননি। সাইড লাইনে পড়েছিলেন তিনি। এজন্য তাকে নিয়ে আফসোস ছিল। সেই আফসোসের অবসান হয়েছে। সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়। চেয়ারে বসে উন্নয়ন কাজ শুরু করেছেন শামীম। সিলেটে সবার আগে সুখবর পেয়েছিলেন জেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী। তাকে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব দেয়া হয়। এই দায়িত্ব তিনি এখনো পালন করছেন। সিলেট নগরে নাগরিক সুবিধা বাড়াতে তিনি কাজ করছেন। এতে মিলছে সুফলও। এবার সিলেট নগরী জলাবদ্ধতার কবল থেকে মুক্তি পেয়েছে। সিলেট নগর বিএনপি’র সভাপতি নাসিম হোসাইনও ছিলেন সাইড লাইনে। তিনি নির্বাচিত সভাপতি হলেও ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চালানো হচ্ছিলো কার্যক্রম।
নাসিম হোসাইনকে নিয়ে আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন অনেকেই। কয়েক সপ্তাহ আগে নাসিম হোসাইনও পেয়েছেন সুখবর। পদ ফিরে পেয়েছেন তিনি। এখন নগর বিএনপি’র কার্যকর সভাপতি তিনি। আর পদ পেয়ে এরই মধ্যে পুরোদমে দলীয় কার্যক্রমে মনোনিবেশ করেছেন তিনি। এদিকে- সিলেট বিএনপি’র অনেকেই রয়েছেন এখনো বঞ্চিতদের তালিকায়। আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা পালনকারী নেতারাও তাকিয়ে আছেন সরকার ও দলের দিকে। সুখবরের আশা করছেন তারাও।

