ডেইলি মেইলের প্রকাশককে ৯৫ লাখ পাউন্ড দিতে হবে প্রিন্স হ্যারিদের
প্রকাশিত হয়েছে : ২১ আগস্ট ২০২৬
দেশ ডেস্ক, ২১ আগস্ট ২০২৬:: ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স হ্যারি ও আরও ছয়জনকে ডেইলি মেইলের প্রকাশক অ্যাসোসিয়েটেড নিউজপেপার্স লিমিটেডকে (এএনএল) প্রাথমিকভাবে ৯৫ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ড দিতে হবে। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে করা মামলায় হেরে যাওয়ার পর শুক্রবার যুক্তরাজ্যের হাইকোর্ট এ অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে। মামলায় প্রিন্স হ্যারির সঙ্গে ছিলেন সংগীতশিল্পী স্যার এলটন জন ও তার স্বামী ডেভিড ফার্নিশ, স্যার সাইমন হিউজ, স্যাডি ফ্রস্ট, অভিনেত্রী লিজ হার্লি এবং ব্যারোনেস ডোরিন লরেন্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলাটিতে বেআইনিভাবে তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ তুলেছিলেন তারা। তবে গত ৭ জুলাই বিচারপতি নিকলিন সেই অভিযোগ খারিজ করে দেন। এএনএল শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিল।
সর্বোচ্চ ৩ কোটি ৪৫ লাখ পাউন্ডের বিল
মামলার আইনি ব্যয় হিসেবে এএনএল মোট ৩ কোটি ৪৫ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত দাবি করতে পারে। এর মধ্যে বাদীদের বিমা সর্বোচ্চ ১ কোটি ৬২ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত খরচ বহনের নিশ্চয়তা দিয়েছিল। ফলে আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকাশকের দাবি পুরোপুরি আদায় হলে প্রিন্স হ্যারি ও অন্য বাদীদের আরও প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড দিতে হতে পারে।
তবে বিচারপতি নিকলিন ৩ কোটি ৪৫ লাখ পাউন্ডের দাবিকে ‘অতিরিক্ত’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, এএনএলের দাবি করা সব খরচ যুক্তিসংগতভাবে হয়েছে কি না এবং সেগুলোর পরিমাণ যুক্তিসংগত কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
তারপরও বিচারপতি প্রকাশকের আদায়যোগ্য খরচের কোনো সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করেননি। তার মতে, এমন সীমা নির্ধারণ করলে তা অতিরিক্ত সাধারণীকরণ হবে এবং অন্যায্যতার ঝুঁকি তৈরি করবে।
বাদীদের আচরণ নিয়ে বিচারকের সমালোচনা
মামলাটি পরিচালনার ধরন নিয়েও সাত বাদীর তীব্র সমালোচনা করেছেন বিচারপতি নিকলিন। তিনি বলেন, মামলায় গুরুতর অন্যায় ও অপরাধের যে অভিযোগগুলো তোলা হয়েছিল, তার একটিও স্বেচ্ছায় প্রত্যাহার করা হয়নি।
বিচারকের মতে, কোনো পক্ষ যদি কোনো গুরুতর অভিযোগ আর সামনে না আনে বা সেই অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ না থাকে, তাহলে সেটি স্পষ্টভাবে প্রত্যাহার করা উচিত। সাত বাদীর ক্ষেত্রে তা না করাকে তিনি ‘অত্যন্ত মাত্রায় অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেছেন।
এএনএল শুক্রবারের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে এটিকে সংবাদপত্র ও এর সাংবাদিক, সম্পাদক এবং কর্মকর্তাদের সুনাম নষ্ট করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ‘ধ্বংসাত্মক সমালোচনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
আপিলের সুযোগ রয়েছে
প্রিন্স হ্যারি ও অন্য ছয় বাদী আগামী ২ অক্টোবর পর্যন্ত মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের উদ্যোগ নিতে পারবেন।
বাদীদের একজন স্যার সাইমন হিউজ বিবিসিকে বলেন, তিনি রায়ে হতাশ। মূল রায় ও মামলার খরচসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত-দুটির কোনোটি বা উভয়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন কিনা, তা বিবেচনা করতে তিনি সময় নিচ্ছেন।
গত মাসে মামলার রায় ঘোষণার পর প্রিন্স হ্যারি ও ডোরিন লরেন্স এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছিলেন, তারা ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি চেয়ে আদালতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তারা কোনোটিই পাননি বলে দাবি করেন।
সূত্র: বিবিসি

