মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন শেখ হাসিনা— টেলিগ্রাফ ও বিবিসির প্রতিবেদন
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ অক্টোবর ২০২৫
দেশ ডেস্ক:: বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন। ভারতে পলাতক ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি অনুযায়ী, গত বছরের সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করতে সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই অভিযানে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ময়নুল করিম আদালতে জানিয়েছেন, ফোন রেকর্ড, অডিও-ভিডিও প্রমাণ এবং প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য আছে, যা শেখ হাসিনার নির্দেশে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়া প্রমাণ করে। প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেছেন, শেখ হাসিনা এই হত্যার জন্য দায়ী।
অভিযোগে বলা হয়েছে, নিহতদের মরদেহ পোড়ানোর এবং আহতদের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করার নির্দেশও তিনি দিয়েছিলেন। তবে শেখ হাসিনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
গত বছরের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুতই শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে রূপ নেয়। ৫ আগস্ট তিনি হেলিকপ্টারে পালিয়ে যান। সেদিন ঢাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৫২ জন নিহত হয়, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ ঘটনা।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। অন্য দিকে, সাবেক পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন গ্রেফতার হয়ে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, যে বিক্ষোভ দমন অভিযানে তিনি শেখ হাসিনার নির্দেশে হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করেছেন।
শেখ হাসিনার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বণ্টনের প্রস্তাবও আদালতে তোলা হয়েছে। তার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী দাবি করেছেন, নিরাপত্তা বাহিনী তখন আত্মরক্ষার্থে গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছিল।
আদালতে শেখ হাসিনার পক্ষের যুক্তি আগামী রোববার থেকে উপস্থাপন শুরু হবে। চূড়ান্ত রায় নভেম্বরের মধ্যেই ঘোষণা হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারবে না বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

