সিলেট-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা প্রবাসী মইনুল বাকরের
প্রকাশিত হয়েছে : ০২ নভেম্বর ২০২৫
লন্ডন, ৩০ অক্টোবর ২০২৫: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, বালাগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশি প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও মানবসেবী মইনুল বাকর। গত ৩০ অক্টোবর যুক্তরাজ্যের ইস্ট লন্ডনের ডকল্যান্ডসে বসবাসরত এই প্রবাসী ব্যবসায়ী লন্ডনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী কামরুল আহমেদ শুকুর, আখতার আলী চৌধুরী, মামুনুর রহমান, মোহাম্মদ আব্দুল কালাম ও মোহাম্মদ রুহানি।
সংবাদ সম্মেলনে মইনুল বাকর বলেন, আমি রাজনীতি করছি না, আমি মানুষের সেবা করতে চাই। দল-মত নির্বিশেষে সৎ, শিক্ষিত ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব গড়ে তুলতে চাই, যারা সত্যিকারের পরিবর্তন আনবে।
তিনি জানান, তার জন্ম সিলেট জেলার বালাগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর গ্রামে। দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে বসবাস করলেও দেশের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই রাজনীতিতে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি ‘Maconomix’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Apple-এর প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়া লন্ডন ও মিশরের কায়রোতে তার সফল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
মানবসেবায় দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ১২ বছর ধরে বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের কল্যাণে কাজ করছি।
মইনুল বাকর ‘বাংলাদেশ বেওয়ারিশ সেবা ফাউন্ডেশন’-এর সিনিয়র উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন, যেখানে তিনি আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে আসছেন। ফাউন্ডেশনটি রাস্তার অসহায় মানুষদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন, মরদেহ বহনের খাটিয়া সরবরাহ, ঘর নির্মাণ, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পসহ নানা মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি বালাগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমা এলাকায় প্রধানমন্ত্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত মানবিক ব্যক্তিত্ব শওকত আহমদের উপস্থিতিতে একটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করেন। প্রবাসে থেকেও তিনি বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি সেন্টারে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছেন।
তরুণদের সম্ভাবনা নিয়ে মইনুল বাকর বলেন, আমাদের দেশের প্রকৃত সম্পদ তরুণ সমাজ। কিন্তু তারা বেকারত্বের অভিশাপে জর্জরিত। আমি চাই, সিলেট-৩ আসনের তরুণদের স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে, যাতে তারা আর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদেশে না যায়। এজন্য তিনি ‘স্টার্টআপ সাপোর্ট ফান্ড’ গঠন এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন।
এছাড়া তিনি গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। বিশেষ করে মা-বোনদের নিরাপদ মাতৃত্বসেবা নিশ্চিত করতে “ফ্রি মাতৃত্বসেবা ইউনিট” ও “গ্রামীণ হেলথ সাপোর্ট সেন্টার” স্থাপনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন।
রাজনীতিতে তার প্রত্যাবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করে মইনুল বাকর বলেন, সামাজিক কাজ করলে মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসার স্থান পাওয়া যায়। তরুণ বয়স থেকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ১৯৯৬ সালের পর আমি আর কোনো রাজনৈতিক দলে বা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করিনি। তবে, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি ও এলাকার সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা— যেন সততা, শিক্ষা ও দেশপ্রেমে বিশ্বাসী মানুষ সংসদে যায়— আমাকে আবারও ভাবিয়েছে। ২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে আমি অংশ নেইনি; কারণ, তখনকার রাজনৈতিক অস্থিরতা, দলীয় প্রভাব, দুর্নীতি ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অভাব আমাকে হতাশ করেছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে “নতুন বাংলাদেশ”-এর ধারণা আমাকে নতুন আশায় উজ্জীবিত করেছিল। ভেবেছিলাম পরিবর্তনের হাওয়া বইবে, কিন্তু দেখলাম— এখনো রাজনীতিতে দলবাজি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও ধর্মকে পুঁজি করে প্রতারণার রাজনীতি বহমান। তাই আমি মনে করি— এখন সময় এসেছে দল-মত নির্বিশেষে সৎ, নিরপেক্ষ ও দেশপ্রেমিক মানুষদের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার।
তিনি বলেন, আমি জানি, বড় দলের প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সহজ নয়, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি- মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়। আমি বিশ্বাস করি, সিলেট-৩ আসনের মানুষ পরিবর্তন চায়, তারা নতুন নেতৃত্ব দেখতে চায়।
নিজ এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে মইনুল বাকর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সিলেট-৩ আসন অবহেলিত। রাস্তাঘাটের দুরবস্থা, নদীভাঙন, বেকারত্ব, কারিগরি শিক্ষার অভাব, শিল্পকারখানার সংকট, সার ও গ্যাসের ঘাটতি, খেলার মাঠ ও বিনোদনের অভাব- সব মিলিয়ে জনজীবন দুর্বিষহ। প্রবাসী অধ্যুষিত এই জনপদে “প্রদীপের নিচে অন্ধকার- এটি আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করে।আমি চাই প্রতিটি এলাকায় যাত্রীছাউনি, বিদ্যুৎ ও সেবাখাতের উন্নয়ন, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এবং একটি ফ্রি হাসপাতাল নির্মাণ করতে। আমি নির্বাচিত হই বা না হই, আমার এলাকার গরিব, দুস্থ ও মেহনতি মানুষের পাশে সারাজীবন থাকব-মহান আল্লাহকে সাক্ষী রেখে এই অঙ্গীকার করছি।আমার শেষ ইচ্ছা- সবুজ-শ্যামল সিলেটের জন্মভূমিতেই যেন আমার শেষ নিঃশ্বাস পড়ে।
তিনি আরও বলেন, আমার দল নেই, ক্ষমতার জোর নেই, লাঠিয়াল বাহিনী নেই-আছে শুধু মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সততা, এবং কাজ করার অদম্য ইচ্ছা। আমি আপনাদের ভাই, বন্ধু ও এলাকার সন্তান হিসেবে অনুরোধ করছি-আমাকে আপনাদের সমর্থন ও সাহস দিন। আপনাদের সহযোগিতা পেলে আমি বিশ্বাস করি, সিলেট-৩ আসনের দীর্ঘদিনের গতানুগতিক রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারব। আমাদের অগ্রজরা যেমন মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাস থেকে দেশের স্বাধীনতার জন্য শক্তি ও সাহস যুগিয়েছিলেন, তেমনি আজও সত্যিকারের ভালো মানুষদের জন্য আপনারা কলমের শক্তি ব্যবহার করুন- নতুন বাংলাদেশ গঠনে আপনাদের ভূমিকা অপরিহার্য।

