যুক্তরাজ্যে কাজের জন্য বাধ্যতামূলক ডিজিটাল আইডির পরিকল্পনা বাতিল করল সরকার
প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
দেশ ডেস্ক:: যুক্তরাজ্যে কাজ করার অধিকার প্রমাণ করতে কর্মীদের বাধ্যতামূলকভাবে সরকারের ডিজিটাল আইডি স্কিমে নিবন্ধনের যে পরিকল্পনা ছিল, তা সরকার বাতিল করেছে। খবর বিবিসি।
তবে ২০২৯ সালের মধ্যে কাজের অধিকার যাচাই (রাইট টু ওয়ার্ক চেক) পুরোপুরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে করা হবে—যেমন বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট ব্যবহার করে। কিন্তু নতুন ডিজিটাল আইডি কর্মসূচিতে নিবন্ধন করা ঐচ্ছিক থাকবে।
এ সিদ্ধান্ত আগের অবস্থান থেকে বড় পরিবর্তন। গত বছর নীতিটি প্রথম ঘোষণা করার সময় প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার বলেছিলেন, “আপনার যদি ডিজিটাল আইডি না থাকে, তাহলে আপনি যুক্তরাজ্যে কাজ করতে পারবেন না—এটা খুবই সহজ।”
কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক বলেন, “ভালোই হয়েছে। এটি এমনিতেই একটি ভয়াবহ নীতি ছিল।” তিনি আরও বলেন, লেবার সরকারের এই সিদ্ধান্ত “আরেকটি ইউ-টার্ন (অবস্থান পরিবর্তন)”।
ক্ষমতায় আসার পর থেকে সরকারের একের পর এক নীতিগত পরিবর্তনের তালিকায় এটি সর্বশেষ সংযোজন। এর মধ্যে রয়েছে কল্যাণ সংস্কার, শীতকালীন জ্বালানি ভাতা কমানো এবং কৃষকদের জন্য উত্তরাধিকার কর সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে পিছু হটা।
শুরুর দিকে সরকার দাবি করেছিল, কর্মীদের জন্য বাধ্যতামূলক ডিজিটাল আইডি চালু হলে অবৈধভাবে কাজ করা অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।
এখন ধারণা করা হচ্ছে, এই স্কিম আর শুধু অভিবাসন ইস্যুতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং সরকার জোর দেবে—ডিজিটাল আইডি কীভাবে জনগণের জন্য সরকারি সেবা গ্রহণকে সহজ ও কার্যকর করতে পারে।
মঙ্গলবার ইনস্টিটিউট ফর গভর্নমেন্টের এক সম্মেলনে নীতিটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী ড্যারেন জোনস বলেন, এটি হবে “গ্রাহকমুখী সরকারি সেবার ডিজিটাল রূপান্তরের একটি পথ”।
তিনি জানান, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে একটি পরামর্শ প্রক্রিয়া (কনসালটেশন) শুরু করা হবে এবং বলেন, “আমি নিশ্চিত, আগামী বছরের এই সময় ডিজিটাল আইডি নিয়ে জনমত আজকের চেয়ে অনেক বেশি ইতিবাচক হবে।”
গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে নীতিটি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। প্রায় ৩০ লাখ মানুষ ডিজিটাল আইডি চালুর বিরোধিতা করে সংসদীয় পিটিশনে স্বাক্ষর করেন। লেবার পার্টির অনেক এমপিও এর বাধ্যতামূলক দিকটি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন।
লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা নীতিটিকে শুরু থেকেই “ব্যর্থতায় দণ্ডিত” বলে মন্তব্য করে এবং বাধ্যতামূলক ডিজিটাল আইডির জন্য বরাদ্দ “কয়েক বিলিয়ন পাউন্ড” এনএইচএস ও ফ্রন্টলাইন পুলিশিংয়ে ব্যয় করার আহ্বান জানায়।
দলের ক্যাবিনেট অফিসবিষয়ক মুখপাত্র লিসা স্মার্ট বলেন, “এত ইউ-টার্ন সামলাতে নাম্বার টেনকে বোধহয় বাল্ক অর্ডারে মোশন সিকনেসের ওষুধ কিনতে হচ্ছে।”
রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ এক্সে (সাবেক টুইটার) লেখেন, “এটি একটি জঘন্য, কর্তৃত্ববাদী সরকারের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার জয়। রিফর্ম ইউকে এ পরিকল্পনা পুরোপুরি বাতিল করবে।”
গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কিও এক্সে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “সরকার আইডি কার্ড বিষয়ে ইউ-টার্ন নিয়েছে। ভালো।”
সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, “আমরা কাজের অধিকার যাচাইয়ের জন্য বাধ্যতামূলক ডিজিটাল চেক চালু রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে কাজের অধিকার যাচাইয়ে বিভিন্ন ধরনের কাগজভিত্তিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, যার কোনো স্থায়ী রেকর্ড থাকে না। এতে জালিয়াতি ও অপব্যবহারের সুযোগ থাকে।
ডিজিটাল আইডি মানুষের দৈনন্দিন জীবন সহজ করবে এবং সরকারি সেবাকে আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক, সমন্বিত ও কার্যকর করবে—একই সঙ্গে এটি অন্তর্ভুক্তিমূলক থাকবে।”
বর্তমানে কোনো কর্মী নিয়োগের আগে নিয়োগকর্তাদের অবশ্যই তার যুক্তরাজ্যে কাজ করার অধিকার আছে কি না তা যাচাই করতে হয়।
২০২২ সাল থেকে সরকার অনুমোদিত ডিজিটাল ভেরিফিকেশন সার্ভিসের মাধ্যমে ব্রিটিশ ও আইরিশ নাগরিকদের পাসপোর্ট যাচাই করা যাচ্ছে।
এ ছাড়া হোম অফিসের একটি অনলাইন স্কিম রয়েছে, যেখানে কিছু অ-ব্রিটিশ ও অ-আইরিশ নাগরিকের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস ইলেকট্রনিকভাবে সংরক্ষিত থাকে।
ডিজিটাল আইডি কীভাবে কাজ করবে, তার বিস্তারিত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে এটি দুটি সরকারি সিস্টেমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হবে-গভ.ইউকে ওয়ান লগইন এবং গভ.ইউকে ওয়ালেট।
বর্তমানে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ ওয়ান লগইন ব্যবহার করছেন, যা ভেটেরান কার্ডের আবেদন, হারানো পাসপোর্ট বাতিল বা লাস্টিং পাওয়ার অব অ্যাটর্নি ব্যবস্থাপনার মতো সেবায় ব্যবহৃত হয়।
গভ.ইউকে ওয়ালেট এখনো চালু হয়নি, তবে এটি চালু হলে স্মার্টফোনে ডিজিটাল আইডি সংরক্ষণ করা যাবে। ডিজিটাল আইডিতে নাম, জন্মতারিখ, নাগরিকত্ব, বসবাসের স্ট্যাটাস এবং একটি ছবি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

