যৌন নিপীড়নের দায়ে লন্ডনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাবেক ইমামের যাবজ্জীবন
প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ মে ২০২৬
দেশ ডেস্ক:: লন্ডনের একটি আদালত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক সাবেক ইমামকে একাধিক নারী ও শিশুকে যৌন নিপীড়নের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। ৫৪ বছর বয়সী আব্দুল হালিম খান পূর্ব লন্ডনের একটি মসজিদে ইমামতি করতেন। তার বিরুদ্ধে ১২ বছর বয়সী শিশুসহ মোট সাতজন ভুক্তভোগীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। আদালতের রায় অনুযায়ী, তাকে অন্তত ২০ বছর কারাগারে কাটাতে হবে।
স্নেয়ারসব্রুক ক্রাউন কোর্টে রায় ঘোষণার সময় বিচারক লেসলি কাথবার্ট আব্দুল হালিম খানকে “ধূর্ত” এবং “ছলনাময়ী” হিসেবে বর্ণনা করেন। বিচারক বলেন, খান তার ধর্মীয় অবস্থান ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে সুপরিকল্পিতভাবে এই অপরাধগুলো করেছেন। মামলার বিবরণে উঠে আসে যে, খান তার ভুক্তভোগীদের বিশ্বাস করাতেন যে তাদের ওপর ‘অশুভ আত্মা’র আছর আছে এবং তা দূর করার জন্য ‘পবিত্রতা’ প্রয়োজন। তিনি ভুক্তভোগীদের হুমকি দিতেন যে, এসব কথা কাউকে বললে ‘কালো জাদুর’ মাধ্যমে তাদের বা তাদের পরিবারের বড় ধরনের ক্ষতি বা মৃত্যু হবে। এমনকি এক শিশুকে তিনি বলেছিলেন তার ‘ডিম্বাশয়ে ক্যান্সার’ হয়েছে যা কেবল তিনিই নিরাময় করতে পারেন, এরপর তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন।
ভুক্তভোগীরা আদালতকে জানিয়েছেন, খানের এই পৈশাচিক আচরণের কারণে তাদের জীবন তছনছ হয়ে গেছে। একজন ভুক্তভোগী কান্নায় ভেঙে পড়ে আদালতকে বলেন, তার কাছে খান কোনো মানুষ নন, বরং সাক্ষাৎ শয়তান যিনি একজন ধার্মিক মানুষের ছদ্মবেশে লুকিয়ে ছিলেন। প্রসিকিউটর সারাহ মরিস কেসি বলেন, খান তার ভুক্তভোগীদের ধর্মবিশ্বাসকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। তিনি জানতেন যে বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটিতে এই ধরনের বিষয় নিয়ে মুখ খুলতে ভুক্তভোগীরা লোকলজ্জার ভয় পাবেন, আর এই সুযোগটিই তিনি নিয়েছিলেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে আব্দুল হালিম খানকে ২১টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়, যার মধ্যে ৯টি ধর্ষণের এবং ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের ওপর একাধিক যৌন নির্যাতনের মামলা রয়েছে। তদন্তকারী দলের প্রধান জেনি রোনান বলেন, আব্দুল খান নিজেকে একজন সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করতেন, কিন্তু পর্দার আড়ালে তিনি ছিলেন একজন শিকারি। ভুক্তভোগীরা যে অসীম সাহসের সাথে পুলিশের কাছে মুখ খুলেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। উল্লেখ্য, দোষী সাব্যস্ত হওয়া সত্ত্বেও আব্দুল হালিম খানের পরিবার এবং সমাজের কিছু মানুষ তার সমর্থনে আদালতে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। তবে আদালত সকল তথ্য-প্রমাণ ও ভুক্তভোগীদের জবানবন্দির ভিত্তিতে এই কঠোর শাস্তির নির্দেশ দেন।


