চতুর্থবার মেয়র নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়লেন লুৎফুর রহমান : আবারও জনতার জয়
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ মে ২০২৬

দেশ ডেস্ক, ১৬ মে ২০২৬ : লুৎফুর রহমান। এক অদম্য সাহসী রাজনৈতিক যোদ্ধার নাম। কোনো বাধা বিপত্তিই যেন তাঁকে দমাতে পারেনা। সর্বদা চ্যালেঞ্জ মাড়িয়ে সামনে এগিয়ে যেতেই তিনি ভালোবাসেন। বিগত দিনের ধারাবাহিকতায় এবারও চতুর্থবারের মতো টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের মেয়র নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। ফের টাওয়ার হ্যামলেটসের জনগণের জয় হয়েছে। জনগণই তার বিরুদ্ধে চলা সব অপপ্রচারের জবাব দিয়েছে।
বৃটিশ রাজনীতির এই পথ তাঁর জন্য মোটেও মসৃণ ছিলো না। সবসময়ই তাঁকে লড়াই করে এগিয়ে যেতে হয়েছে। ২০০২ সালে লেবার পার্টি থেকে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের কাউন্সিলার নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের যাত্রা শুরু। এরপর কাউন্সিলের লীডার নির্বাচিত হোন।
২০১০ সালের ৬ মে গণভোটের মাধ্যমে টাওয়ার হ্যামলেটসের লীডারশীপ পদ্ধতি বিলুপ্ত হয়ে মেয়র পদ্ধতি চালু হয়। তখন লুৎফুর রহমান বিপুল ভোটে লেবার পার্টির মেয়রপ্রার্থী নির্বাচিত হোন। কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্রে লেবার পার্টি তাঁর মনোনয়ন কেড়ে নেয়। এরপর তিনি নিজেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। একই বছরের (২০১০) অক্টোবরে অনুষ্ঠিত প্রথম মেয়র নির্বাচনে লুৎফুর রহমান নিকটতম প্রার্থী হেলাল আববাসের চেয়ে দ্বিগুণ ভোটের ব্যবধানে মেয়র নির্বাচিত হোন। ওই নির্বাচনে লুৎফুর রহমান পান ২৩,২৮৩ ভোট, আর নিকটতম প্রার্থী লেবার পার্টির হেলাল আববাস পান ১১,২৫৪ ভোট।
এরপর ২০১৪ সালে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হোন। ২০১৫ সালে তাঁর বিরুদ্ধে নির্বাচনী ট্রাইবুনালে মামলা হয়। মামলার রয়ে মেয়রের পদ হারিয়ে ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন নির্বাচন থেকে।
তখন অনেকেই মনে করেছিলেন লৎফুর রহমানের রাজনীতির মৃত্যু ঘটেছে। কিন্তু নাহ, লৎফুর প্রবল মনোবল নিয়ে আরো সাহসী হয়ে ওঠেন। ২০২২ সালের নির্বাচনে তিনি তৃতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হোন। আর এবার ২০২৬ সালে সব অপপ্রচারের পাহাড় ডিঙ্গিয়ে চতুর্থবারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করলেন। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির প্রার্থী সিরাজুল ইসলামকে প্রায় দ্বিগুণ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন।
৭ মে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত টাওয়ার হ্যামলেটসে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন ৮ মে শুক্রবার সন্ধ্যায় এক্সেল সেন্টারে আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের চীফ এক্সিকিউটিভ স্টিফেন হোলসি।
ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, অ্যাসপায়ার পার্টির প্রার্থী লুৎফুর রহমান পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৬৭৯ ভোট, যা মোট ভোটের ৩৮ দশমিক ৮ শতাংশ। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিরাজুল ইসলাম (লেবার পার্টি) পেয়েছেন ১৯ হাজার ৪৫৪ ভোট, যা মোট ভোটের ২১ দশমিক ১ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন গ্রীন পার্টির হিররা খান আদেওগুন, তিনি পেয়েছেন ১৯ হাজার ২২৩ ভোট (২০ দশমিক ৯ শতাংশ)।
অন্য প্রার্থীদের মধ্যে রিফর্ম ইউকের জন বুলার্ড পেয়েছেন ৭ হাজার ১৫৩ ভোট, কনসারভেটিভ পার্টির ডমিনিক নোলান ৩ হাজার ৮১৮ ভোট, টাওয়ার হ্যামলেটস ইন্ডিপেনডেন্টস পার্টির জামি আলী ৩ হাজার ১৫৬ ভোট, লিবারেল ডেমোক্র্যাটের মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান ২ হাজার ৪২১ ভোট এবং ট্রেড ইউনিয়নিস্ট অ্যান্ড সোশ্যালিস্ট কোয়ালিশনের হুগো পিয়েরে পেয়েছেন ৬৩৮ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী টেরেন্স ম্যাকগ্রেনেরা পেয়েছেন ৫২৪ ভোট।
সিলেটের বালাগঞ্জের ওসমানীনগরে জন্ম নেওয়া লুৎফুর রহমান মাত্র ৫ বছর বয়সে মা বাবার সাথে যুক্তরাজ্যে আসেন। আইন পেশা থেকে রাজনীতিতে এসে তিনি প্রথমে লেবার পার্টির সঙ্গে যুক্ত হোন।
পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় লুৎফুর রহমান বলেন, টাওয়ার হ্যামলেটসের মানুষ আবারও আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন। জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবিলা, সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ এবং সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বিভাজন ও ভয়ভীতির রাজনীতির বিপরীতে মানুষ এবার আশার রাজনীতিকে বেছে নিয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায় তাঁর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভুয়া ভিডিও ছড়ানোর তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, আমি জনগনের সার্ভেন্ট। তারা যতদিন আমাকে তাদের সেবায় দেখতে চায় ততদিন থাকবো।


