ক্ষমতায় বসার পর বিএনপির সুর পাল্টে গেছে : জামায়াত আমির
প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ জুন ২০২৬
দেশ ডেস্ক:: আয়নাঘরে যে চেয়ারে গুমের শিকার ব্যক্তিদের ইলেকট্রিক শক দেওয়া হতো শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে তাকে সেই চেয়ারে বসিয়ে ইলেকট্রিক শক দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রেহেনা আক্তার রানু।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
রেহেনা আক্তার রানু বলেন, ‘অতীতে যে চেয়ারে বিরোধী দলের নেতাদের বসিয়ে ইলেকট্রিক শক দেওয়া হতো, শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে সেই একই চেয়ারে বসিয়ে বা শুইয়ে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া উচিত এবং সেটি কেমন লাগে তা তার অনুভব করা দরকার।’
চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের শহিদদের কথা স্মরণ করে আক্ষেপ প্রকাশ করেন এবং বলেন, ‘নিহতদের পরিবারগুলো এখনো সন্তান হত্যার সঠিক বিচার পাচ্ছে না, কারণ পুলিশ আসামিদের ধরছে না এবং ধরলেও আদালত জামিন দিয়ে দিচ্ছেন।’
তিনি বলেন, ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা সরকারের রাজস্ব আদায়ের চেয়ে নিজেদের পকেট ভারী করতেই বেশি ব্যস্ত থাকেন। তাই রাজস্ব খাতে গতি আনতে সেখানে অবিলম্বে একটি সার্জিক্যাল অপারেশন চালানো প্রয়োজন।’
জাতীয় পার্টির সমালোচনা করে তিনি দলটিকে ‘মিউ মিউ মার্কা’ বিরোধী দল হিসেবে আখ্যা দেন এবং বর্তমান সংসদকে সত্যিকারের ঝকঝকে ও কার্যকর বিরোধী দল সমৃদ্ধ বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের চরম বিশৃঙ্খলা, লুটপাট ও টাকা পাচারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি ব্যাংক লুটেরাদের সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সাধারণ গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার জোর দাবি জানান।ক্ষমতায় বসার পর বিএনপির সুর পাল্টে গেছে মন্তব্য করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর বিজয় নগরে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম খুনের বিচারের দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনের সময় বলেছিল, তারা নির্বাচিত হলে ফ্যাসিবাদের হাতে যতগুলো খুন, গুম, নির্যাতন হয়েছে, সবগুলার বিচার তারা করবে। কিন্তু ক্ষমতায় বসার পর এখন তাদের সুর পাল্টে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ সাড়ে ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের যাতাকলে পৃষ্ঠ এই জাতিকে আল্লাহতালা আমাদের ছাত্র, শ্রমিক, যুব জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে মাত্র দুটি বছর আগে আমাদের মুক্তি দিয়েছিলেন। সেই সময়ে যে দলটি আমাদের মতই মজলুম ছিল, নির্যাতিত ছিল। আজকে তারা ক্ষমতায়। তারা তখন প্রত্যেকটি হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুঃখজনক, এই দলটি নিজেরা নিজেদের কর্মীই খুন করেছে। যাদের নিজেদের কর্মীদের সম্পর্কে নিজেদেরই কোনো দায় এবং দরদ থাকে না। ২০ কোটি মানুষের জন্য তাদের কী দায় এবং দরদ থাকবে? আমরা কোনো লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি না।’

