পাতে আস্ত খাসি নিয়েই অন্য কনেকে বিয়ে করলেন সেই প্রবাসী
প্রকাশিত হয়েছে : ১৯ আগস্ট ২০২৬
দেশ ডেস্ক:: বিয়ের খাবারে আস্ত খাসি না পাওয়ায় বিয়ে না করে চলে যাওয়া সেই আলোচিত জাপানপ্রবাসী জোনায়েদ মিয়া এবার অন্য কনেকে বিয়ে করেছেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার নেয়ামতপুর গ্রামে কনের মামার বাড়িতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
এরপর রাত ১টার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট দিয়ে বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জোনায়েদ। তাঁর নতুন স্ত্রী জান্নাত আক্তার আখাউড়ার নূরপুর গ্রামের জাহের মিয়ার মেয়ে। তিনি স্থানীয় একটি মহিলা কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী বলে জানা গেছে।
কনের মামা তাজু সরকারের নেয়ামতপুর গ্রামের বাড়িতে বিয়ের আয়োজন করা হয়। একই গ্রামের বাসিন্দা জোনায়েদের বাড়িও। জোনায়েদের ছোট ভাই পারভেজ বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ৬ লাখ টাকা দেনমোহরে তাঁদের বিয়ে হয়েছে।
বিয়ের পর ফেসবুক পোস্টে জোনায়েদ লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিবাহ সম্পন্ন হলো।’ সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
এর আগে সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে বিয়ের আসরে খাবারে ‘খদরে’ আস্ত খাসি না পাওয়ায় বিয়ে না করেই চলে যান জোনায়েদ। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
পরে মঙ্গলবার সকালে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে প্রথম বিয়ের কনেপক্ষের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেন জোনায়েদ। তাঁর দাবি, বিয়ের আসরে খাওয়া-দাওয়া শেষে কনেপক্ষ পূর্বনির্ধারিত অঙ্কের চেয়ে ১০ গুণ বেশি কাবিন দাবি করে। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এতে রাজি না হওয়ায় কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তাঁদের বিয়ের আসর থেকে বের করে দেওয়া হয়। কনের জন্য আনা মালপত্রও ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
জোনায়েদ আরও দাবি করেন, কনের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ না থাকায় রাতে কনেপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন। এ ছাড়া টাকা দিয়ে সাংবাদিক ভাড়া করে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে বলেও ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন তিনি।
তবে জোনায়েদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে কনেপক্ষ। তাদের দাবি, গত ১৪ আগস্ট উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে লিখিত ফর্দনামায় ২ লাখ টাকা নগদ কাবিনে বিয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। বরের পক্ষের প্রতিনিধি মনির হোসেন ওই ফর্দনামায় স্বাক্ষরও করেছিলেন।

