পাল্টাপাল্টি হামলায় যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ছে
প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ মার্চ ২০২৬
দেশ ডেস্ক:: তেল ক্ষেত্র, ঐতিহাসিক স্থান, দূতাবাস, বিমানঘাঁটি, নৌবহর, সামরিক স্থাপনা, প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি অফিস– ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধে এসব কিছুই হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। যুদ্ধের চতুর্থ দিনে পাল্টাপাল্টি হামলায় বেড়েছে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি। সরাসরি অংশ না নিয়েও কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল।
ইরানে নিহতের সংখ্যা বেশি হলেও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েল নজিরবিহীন ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় পুরো অঞ্চল থেকে মার্কিনিদের সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, বিশ্বে তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি অনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি। কোনো জাহাজ অতিক্রমের চেষ্টা করলে আগুন ধরানোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের ওপর হামলা শুরু করলেও এখন পর্যন্ত ইউরোপের কোনো মিত্রকে প্রকাশ্যে পাশে পায়নি যুক্তরাষ্ট্র। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, তাঁর সরকার আকাশ থেকে হামলা চালিয়ে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনে বিশ্বাসী না। পলিটিকো লিখেছে, স্টারমারের এমন অবস্থানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘অত্যন্ত হতাশ’। ইরাক আগ্রাসনে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী যুক্তরাজ্য এ যুদ্ধ থেকে কার্যত নিজেকে সরিয়ে রাখছে। অন্যদিকে, ইরানের দুই মিত্র রাশিয়া ও চীনকেও সরাসরি সহযোগিতায় যুদ্ধের মাঠে দেখা যাচ্ছে না।
মঙ্গলবার চতুর্থ দিনে পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। ইরান প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, গত শনিবার থেকে তারা ১৭২টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৭৫৫টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। আঘাত হেনেছে ইসরায়েলেও। মধ্যাঞ্চলীয় শহর পেতাহ তিকভায় ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতির তথ্য দিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম। অন্যদিকে, তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরেও প্রাণঘাতী হামলা হয়েছে।
ইরানি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, যুদ্ধে এ পর্যন্ত দেশটিতে ৭৮৭ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৬৫ শিশু, যারা শ্রেণিকক্ষে থাকাকালে হামলার শিকার হয়। পাল্টা হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ছয় সেনা নিহত ও কয়েকজন আহত হন। ইসরায়েলে নিহত হয়েছেন ৯ জন।
এ অবস্থায় যুদ্ধ কোন দিকে যাচ্ছে, তা নিয়ে স্বাধীন গবেষকদের প্ল্যাটফর্ম দ্য কনভারসেশনে বলা হয়েছে, যৌথ শক্তি যেভাবে ইরানের হামলা চালাচ্ছে, তাতে শিগগিরই যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কম। কেবল প্রথম দিনে ইরানে দুই হাজার বোমা ফেলেছে ইসরায়েল। বোমা ফেলে সামরিক সক্ষমতা ও অবকাঠামো ধ্বংস করা সম্ভব, তবে এটা সাফল্য নিশ্চিত করে না।
ইরানের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন নিয়ে শুরু করা যুদ্ধে ইতোমধ্যে সমালোচনার মুখে ট্রাম্প। অনেকে বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বোমা ফেলে দেড় শতাধিক শিশু হত্যা, বেসামরিক মানুষ হত্যার ঘটনা উল্টো ফল বয়ে আনছে। নিজেদের শাসক নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও ইরানের জনগণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কথা মানছে না। খামেনিকে হত্যা করে ট্রাম্প লোকজনকে সড়কে বের হতে বললেও কেউ বের হননি। উল্টো সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে শোক জানাতে যুদ্ধের মধ্যেই তারা তেহরানের রাস্তায় বের হন। তাই পশ্চিমা গণমাধ্যমেও তিরস্কার স্পষ্ট। গতকাল মঙ্গলবার ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর ছবিসংবলিত পলিটিকোর শিরোনাম ছিল– ‘শাসন পরিবর্তন ভুলে যান, আপনাদের আচরণ পরিবর্তনের কী হবে?’
সৌদি, কাতার, কুয়েত, বাহরাইনে হামলা
সৌদি আরবের রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে কমপক্ষে দুটি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। সিএনএন জানায়, এতে সীমিত আকারে আগুন লাগে। গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন দূতাবাস বন্ধ রাখা হয় এবং জরুরি পরিষেবা বাতিল করা হয়। হামলার জন্য ইরান দায়ী বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।

