ট্রেনের ৯ বগি লাইনচ্যুতে আহত ৪৭
প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ মার্চ ২০২৬
দেশ ডেস্ক:: ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের ব্যস্ততার মধ্যেই বগুড়ার সান্তাহারে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে ঢাকা ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস। এতে ট্রেনের নয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে ছাদে ও বগির ভেতরে থাকা ৪৭ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের বগুড়ার আদমদীঘি ও নওগাঁ ও বদলগাছি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে সান্তাহার জংশনের উত্তরে ছাতিয়ানগ্রাম ও পোওতার মাঝামাঝি বাগবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিকাল ৫টা পর্যন্ত কোনো উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছেনি। ঢাকার সঙ্গে পার্বতীপুর ব্রডগেজ লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
দিনাজপুরের হিলির ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী ভবেশ চন্দ্র, সান্তাহার রেলওয়ে থানার ওসি হাবিবুর রহমান ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এসব তথ্য দিয়েছেন।
সিগন্যাল অমান্যকারী ট্রেন চালকের অবহেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শী সান্তাহার জংশন স্টেশনের ওয়েম্যান সোহেল দাবি করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় সূত্র ও রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, বগুড়ার সান্তাহার জংশনের উত্তরে ছাতিয়ানগ্রাম ও পোওতার মাঝামাঝি বাগবাড়ি এলাকায় ১৫০ ফুট ব্রডগেজ রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বুধবার সকাল থেকে সান্তাহার জংশনের ওয়েম্যান ও অন্যরা লাইনটি মেরামত করছিলেন। এ সময় স্টেশনমাস্টার ঢাকা ছেড়ে আসা পার্বতীপুরের চিলাহাটিগামী আন্তঃনগর নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের চালককে গতি নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে মেসেজ দেন। এছাড়া ঘটনাস্থলে কর্মীরা লাল ব্যানার দিয়ে রাখেন। দুপুর ২টার দিকে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন বাগবাড়ি এলাকায় পৌঁছে।
চালক স্টেশন মাস্টার ও ওয়েম্যানদের মেসেজ এবং লাল ব্যানারের সংকেত অমান্য করে ট্রেন চালিয়ে যান। এ সময় ট্রেনের পেছনের এসি চেয়ার, শোভন চেয়ার, পারওয়ার কারের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়। তবে কোনো বগি উল্টে যায়নি। প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে বগি ও ট্রেনের ছাদে থাকা যাত্রীরা পড়ে যান।
খবর পেয়ে বগুড়ার আদমদীঘি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আহত ৪৭ যাত্রীকে উদ্ধার করেন। তাদের নওগাঁ সদর, বদলগাছি ও বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এদিকে দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। লাইনচ্যুত বগিগুলো সরিয়ে দ্রুত রেল চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। দুর্ঘটনার কারণে ঢাকার সঙ্গে পার্বতীপুরগামী ব্রডগেজ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ঈদে ঘরমুখো হাজারও যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকে আছে। আবার অনেক যাত্রী অনিশ্চয়তার মধ্যে অপেক্ষা করছেন পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য।
সান্তাহার জংশন স্টেশনের ওয়েম্যান সোহেল জানান, বুধবার সকাল থেকে ভাঙা রেললাইন মেরামতের কাজ চলছিল। তারা লাল ব্যানার লাগিয়ে কাজ করছিলেন। ট্রেনের চালক সংকেত অমান্য করে ট্রেনে চালিয়ে যাওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে তিনি দাবি করেছেন।
রেলের দিনাজপুরের হিলির ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী ভবেশ চন্দ্র, বুধবার সকাল থেকে ঘটনাস্থলে ভেঙে যাওয়া রেল লাইনের কাজ চলছিল। সান্তাহার জংশন স্টেশন মাস্টার এ ব্যাপারে ঢাকা ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী ট্রেনের চালককে গতি নিয়ন্ত্রণের ম্যাসেজ দেন। এছাড়া ওয়েম্যান ও অন্যরা লাল ব্যানার লাগিয়ে কাজ করছিলেন; কিন্তু চালক এসব তোয়াক্কা না করে ট্রেন চালিয়ে যাওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বগুড়ার আদমদীঘি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ইনচার্জ রেজাউল করিম জানান, তারা চারটি ইউনিট কাজ করে আহত ৪৭ জন যাত্রীকে উদ্ধার করেন। তাদের আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রাণহানির কোনো ঘটনা ঘটেনি।

