অ্যাটর্নি জেনারেলকে হুমকি : চার ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে শোকজ
প্রকাশিত হয়েছে : ০৫ জুলাই ২০২৬
দেশ ডেস্ক:: বাংলাদেশ পুলিশের বড় পদে ব্যাপক রদবদলের পর এবার একসঙ্গে ৩৩ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে ১৪ জন ডিআইজি, ১৮ জন অতিরিক্ত ডিআইজি এবং একজন পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন। যাদের বেশির ভাগ ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় বিভিন্ন জেলায় এসপির দায়িত্বে ছিলেন।
রোববার (৫ জুলাই) রাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ শাখা-১ থেকে জারি করা এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের এই কর্মকর্তাদের সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হলো।
প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে দুজন বর্তমানে ভিন্ন মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। জনস্বার্থে জারিকৃত সরকারের এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, অবসরে পাঠানো কর্মকর্তারা চাকরি বিধি অনুযায়ী অবসরকালীন সব সুবিধা পাবেন।অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলকে বিভিন্ন ভয়-ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করার অভিযোগে চার ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে শোকজ করা হয়েছে।
চার ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন– মো. জহিরুল ইসলাম (সুমন), মো. রফিকুল ইসলাম (মন্টু), মুহাম্মদ মাসুদ রানা এবং মো. আশিকুজ্জামান (নজরুল)।
রোববার (৫ জুলাই) সন্ধ্যায় অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন স্বাক্ষরিত শোকজ নোটিশে বলা হয়েছে, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জহিরুল ইসলাম (সুমন), মো. রফিকুল ইসলাম (মন্টু), মুহাম্মদ মাসুদ রানা এবং মো. আশিকুজ্জামান (নজরুল) রোববার দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস কক্ষে তিনি (অ্যাটর্নি জেনারেল) কর্মরত থাকাকালীন বিচারপ্রার্থী ও অত্র অফিসের কর্মরত অন্যান্য আইন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তার (অ্যাটর্নি জেনারেল) সঙ্গে অসংযত আচরণ, বিভিন্ন ভয়-ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন। এছাড়াও যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে বলে হুমকি প্রদান করেন। যা অত্র অফিসের সিসিটিভি ফুটেজে সংরক্ষিত রয়েছে।
শোকজ নোটিশে চার ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, আপনাদের এ কার্যক্রম গুরুতর অসদাচরণ ও সরকারি কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় আপনাদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, এ নোটিশ প্রাপ্তির ৩ কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

