প্রবাসে ভর্তা উৎসব: বাঙালিয়ানার বন্ধনে কেয়ারারদের মিলনমেলা
প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ জুলাই ২০২৬
দেশ ডেস্ক, ১৪ জুলাই ২০২৬:: প্রবাসের ব্যস্ত কর্মজীবনে কিছুটা স্বস্তি, দেশীয় খাবারের স্বাদ এবং শিকড়ের টানে একত্রিত হয়েছিলেন যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি কেয়ারাররা। টাওয়ার হ্যামলেটস কেয়ারার অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে গত ১২ জুলাই রোববার লন্ডনের বাঙালি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটসের স্টেপনি গ্রিন পার্কে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী ‘ভর্তা উৎসব’।
দুপুর ২টা থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজনে প্রায় পাঁচ শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নেন। কেয়ারারদের পাশাপাশি তাদের পরিবার-পরিজন এবং কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
আয়োজকরা জানান, প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় করা, দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং কেয়ারারদের জন্য আন্তরিক মিলনমেলার পরিবেশ সৃষ্টি করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
সংগঠনের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রবাসে কেয়ারাররা প্রতিদিন কর্মব্যস্ততা ও নানা দায়িত্বের মধ্যে জীবনযাপন করেন। এমন একটি আয়োজন তাদের মানসিক প্রশান্তি দেওয়ার পাশাপাশি একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে সহায়তা করে। আমরা চাই নতুন প্রজন্ম বাংলা সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আমাদের শিকড়ের সঙ্গে পরিচিত হোক। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।

উৎসবে আলু, বেগুন, শুঁটকি, ডাল, টমেটো, সরিষাসহ বিভিন্ন উপকরণে তৈরি ৩০টিরও বেশি ঐতিহ্যবাহী ভর্তা পরিবেশন করা হয়। দেশীয় স্বাদের এসব খাবার অংশগ্রহণকারীদের মনে দেশের স্মৃতি, গ্রামের আবহ এবং শিকড়ের প্রতি ভালোবাসাকে নতুন করে জাগিয়ে তোলে।
খাবারের পাশাপাশি ছিল কবিতা আবৃত্তি, গল্প বলা ও নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। বিভিন্ন বয়সী প্রবাসী বাংলাদেশিরা এসব আয়োজনে অংশ নেন। আয়োজকদের মতে, এ ধরনের অনুষ্ঠান শুধু বিনোদনের নয়, বরং কমিউনিটির মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, সহযোগিতা ও সম্প্রীতি বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টা শাহান আহমদ চৌধুরী বলেন, কেয়ারারদের পেশাগত জীবনে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও মানসিক চাপ নিত্যসঙ্গী। তাই এ ধরনের আয়োজন তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি নিয়ে আসে। একই সঙ্গে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে দেশীয় পরিবেশে সময় কাটানোর একটি সুন্দর সুযোগ সৃষ্টি করে।
উৎসবে অংশ নেওয়া মাওলানা মুরাদ বলেন, প্রবাসে এমন আয়োজন সত্যিই আমাদের জন্য অনেক আনন্দের। একসঙ্গে এত মানুষের সঙ্গে দেশীয় খাবার উপভোগ করা এবং আন্তরিক পরিবেশে সময় কাটানোর সুযোগ খুব কমই আসে। এই ভর্তা উৎসব আমাদের শিকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয় এবং প্রবাসে এক টুকরো বাংলাদেশের অনুভূতি এনে দেয়।

অনুষ্ঠানের বিভিন্ন মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর তা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। অনেকেই এ উদ্যোগকে প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের একটি ইতিবাচক প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেন।
আয়োজকদের আশা, ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সম্প্রীতি, ঐক্য ও বাঙালিয়ানার চর্চা আরও বিস্তৃত হবে।
অনুষ্ঠানে কেয়ারারদের পাশাপাশি কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন। আয়োজন সফল করতে সার্বিক সহযোগিতা করেন অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও উপদেষ্টা সদস্য জগলুল খান, সাবেক সভাপতি নুরুল হক, সহ-সভাপতি ফজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক লিটন আহমদ, মুন্না মিয়াসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

