ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ ইউকে’র সফল বার্ষিক চ্যারিটি ডিনার অনুষ্ঠিত
প্রকাশিত হয়েছে : ০৬ অক্টোবর ২০২৬
দেশ ডেস্ক, ৬ অক্টোবর ২০২৬: ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ ইউকে গত ৪ অক্টোবর লন্ডনের একটি অভিজাত হলে সফলভাবে তাদের বার্ষিক চ্যারিটি ডিনার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবী, সমাজকর্মী, ব্যবসায়ী এবং সংগঠনের শুভানুধ্যায়ীসহ বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণির ৩৫০ জনের বেশি অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের সোশ্যাল সিকিউরিটি ও ডিজিবিলিটি বিষয়ক মন্ত্রী স্টিফেস টিমস এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন বিশিষ্ট টিভি উপস্থাপিকা উর্মি মাজহার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ ইউকে’র সেক্রেটারি ডা. এ আজিজ । তিনি বাংলাদেশে সংগঠনটির চলমান বিভিন্ন মানবিক ও দাতব্য কার্যক্রম তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ ইউকে’র প্রেসিডেন্ট ডা. মো. জিয়াউল হক । তিনি সংগঠনটির দীর্ঘদিনের মানবিক কার্যক্রমের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ বিভিন্ন দাতব্য উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের হাজার হাজার সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।
ডা. জিয়া বলেন, বিশেষ করে গত দুই বছরে সংগঠনটি স্বাস্থ্যসেবা খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এর অন্যতম প্রধান উদ্যোগ হলো মোবাইল ব্রেস্ট ক্যান্সার স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় নারীদের স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং করা হচ্ছে, যাতে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার শনাক্ত করা যায় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়। বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি হাসপাতালের সহযোগিতায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ ইউকে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চক্ষু শিবিরের আয়োজন ও সহায়তা করে আসছে। এসব ক্যাম্পে সুবিধাবঞ্চিত রোগীদের চক্ষু পরীক্ষা এবং দরিদ্র রোগীদের জন্য বিনামূল্যে ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে—যাদের অনেকের পক্ষেই নিজ খরচে এ চিকিৎসা গ্রহণ করা সম্ভব হতো না।
স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি সংগঠনটি দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য বৃত্তি প্রদান করছে। একই সঙ্গে স্পনসরশিপ ও পুনর্বাসন কর্মসূচির মাধ্যমে অসহায় পথশিশুদের জীবন পরিবর্তনে কাজ করে যাচ্ছে।
ডা. জিয়া সংগঠনের এসব মানবিক কার্যক্রম বাংলাদেশের আরও বেশি সুবিধাবঞ্চিত ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে সবার অব্যাহত সহযোগিতা ও সমর্থনের আহ্বান জানান।r

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্যার স্টিফেন টিমস এমপি ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ ইউকে’র মানবিক ও দাতব্য কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাঁর সামর্থ্য অনুযায়ী সংগঠনটিকে সহযোগিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের সাবেক প্রেসিডেন্ট মি. ইজদানি খান এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডা. মো. জিয়াউল হক নির্বাহী কমিটির সদস্যদের অতিথিদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন এবং সংগঠনের কার্যক্রমে তাঁদের নিষ্ঠা, ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ও অবদানের স্বীকৃতি জানান।
ডা. এম এ আউয়াল বাংলাদেশে সংগঠনটির বিভিন্ন কার্যক্রম ও অর্জন নিয়ে একটি তথ্যবহুল প্রামাণ্যচিত্র উপস্থাপন করেন। এরপর সুলতান আহমেদ ও ডা. মো. জিয়াউল হক যৌথভাবে তহবিল সংগ্রহের আহ্বান পরিচালনা করেন। উপস্থিত অতিথিরা সংগঠনের চলমান ও ভবিষ্যৎ মানবিক প্রকল্পগুলোকে এগিয়ে নিতে উদারভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।
দাতাদের মূল্যবান অবদানের স্বীকৃতি ও মানবিক কাজে অন্যদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে কয়েকজন উদার দাতাকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ছিল আকর্ষণীয় র্যাফেল ড্র। এটি আয়োজন করেন সলিসিটর এমতিয়াজ হোসেন, খাদিজা নাসিম ও ডলি আজিজ, তাঁদের সঙ্গে সহযোগিতা করেন নির্বাহী কমিটির অন্যান্য সদস্যরা।
অনুষ্ঠানের সমাপনীতে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ব্যারিস্টার সাজ্জাদ হোসেন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ আরিফ কাজী । তাঁরা প্রধান অতিথি, সম্মানিত অতিথিবৃন্দ, দাতা, স্পনসর, নির্বাহী কমিটির সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক এবং অনুষ্ঠানটি সফল করতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অবদান রাখা সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
এই সফল বার্ষিক চ্যারিটি ডিনার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির ঐক্য, উদারতা ও মানবিক অঙ্গীকারের এক উজ্জ্বল প্রতিফলন হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও মানবিক সহায়তার মাধ্যমে বাংলাদেশের অসহায় মানুষের জীবনমান পরিবর্তনে ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ ইউকে’র সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও দৃঢ় অঙ্গীকার আবারও তুলে ধরে। অনুষ্ঠানে নাশিদ পরিবেশন করেন বিশিষ্ট নাশিদ শিল্পী আলাউর রহমান এবং আলামিন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি


