আর্নল্ড রোডে বিশেষ অভিযানে ১৬টি গাড়ি জব্দ ও অপসারণ
প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ অক্টোবর ২০২৬
দেশ ডেস্ক, ০৮ অক্টোবর ২০২৬ : স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগের পর আর্নল্ড রোড এলাকায় অসামাজিক ও বেআইনি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান চালিয়ে ১৬টি গাড়ি জব্দ ও অপসারণ করেছে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল ও মেট্রোপলিটন পুলিশ।
দুই দিনব্যাপী এই অভিযানে কাউন্সিলের পার্কিং সার্ভিস, পরিবেশ সেবা বিভাগ, হাইওয়েজ টিম, অ্যান্টি-সোশ্যাল বিহেভিয়ার (এএসবি) টিম এবং টাওয়ার হ্যামলেটস এনফোর্সমেন্ট অফিসারদের (টিএইচইও) সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে পুলিশ।
কাউন্সিল জানিয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ আসছিল যে কিছু যানবাহন অনিয়মিত ও অবৈধভাবে পার্ক করা হচ্ছে। এর ফলে পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনের চলাচলে বাধার সৃষ্টি হচ্ছিল এবং জনসাধারণের জন্য বিভিন্ন ধরনের অসুবিধা তৈরি হচ্ছিল।
অভিযানে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা এলাকা জুড়ে তল্লাশি ও পরিদর্শন চালিয়ে নিয়ম লঙ্ঘনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। যেসব গাড়ি বেআইনিভাবে পার্ক করা ছিল বা জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে উঠেছিল, সেগুলো জব্দ অথবা অপসারণ করা হয়।
কাউন্সিলের কর্মকর্তারা বলেন, অবৈধ পার্কিং শুধু যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় না, এটি ইমার্জেন্সি সার্ভিস বা জরুরি সেবার যানবাহনের চলাচলেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি এ ধরনের কর্মকাণ্ড স্থানীয় এলাকার নিরাপত্তা ও পরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
অভিযানের পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পুলিশ ও কাউন্সিলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে এলাকায় পার্কিং সংক্রান্ত সমস্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
পাবলিক প্রোটেকশন অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটেড এনফোর্সমেন্ট বিষয়ক ক্যাবিনেট সদস্য কাউন্সিলর কবির আহমেদ বলেন, “এই অভিযান প্রমাণ করে যে বাসিন্দাদের উদ্বেগকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করি এবং অসামাজিক ও বেআইনি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দায়িত্বহীনভাবে পার্ক করা যানবাহন জননিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, জরুরি সেবার যানবাহনের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। পুলিশ ও আমাদের বিভিন্ন এনফোর্সমেন্ট অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আমরা এই সমস্যাগুলো মোকাবিলা করতে এবং এলাকার পরিবেশ উন্নত করতে সক্ষম হয়েছি।”
“আমরা ভবিষ্যতেও বাসিন্দাদের কথা শুনব এবং সমস্যা চিহ্নিত হলে লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করব। আমাদের বার্তা স্পষ্ট, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে, অসুবিধা বাড়ায় বা এলাকার নিরাপত্তা ও বাসিন্দাদের কল্যাণ ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন কোনো আচরণ আমরা মেনে নেব না। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আরও নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল টাওয়ার হ্যামলেটস গড়ে তোলা সম্ভব।”
টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল ও পুলিশ জানিয়েছে, বাসিন্দাদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে তারা অবৈধ পার্কিং, অসামাজিক আচরণ এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের যেকোনো সমস্যা বা অভিযোগ দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি


