প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক অধ্যাপক আবুল হাশেমকে অশ্রুসিক্ত বিদায়
প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ অক্টোবর ২০২৬

দেশ ডেস্ক, ২৪ অক্টোবর ২০২৬:: মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গঠন ও সংগঠনের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা অধ্যাপক আবুল হাশেমকে অশ্রুসিক্ত নয়নে শেষ বিদায় জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা। গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) লন্ডনে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাঁকে লন্ডনের এটারনেল গার্ডেনস কবরস্থানে দাফন করা হয়।
অধ্যাপক আবুল হাশেম যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং যুক্তরাজ্য ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে তিনি যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি কমিউনিটির রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) লন্ডনের কিংস কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১২টা ১০ মিনিটে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, বন্ধু, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার গালিমপুর ইউনিয়নের চানহাটি গ্রামে।
শনিবার সকাল থেকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে লন্ডনসহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থেকে আসা রাজনৈতিক ও কমিউনিটি নেতারা অধ্যাপক আবুল হাশেমের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন। জানাজায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। ব্রিক লেন সেন্ট্রাল মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি মাওলানা নজরুল ইসলাম জানাজায় ইমামতি করেন।
যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি জালাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক, সাবেক মন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী, সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, সংগঠনটির সাবেক সভাপতি ও উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আহাদ চৌধুরী সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা শোক প্রকাশ করেছেন।
এক শোকবার্তায় তাঁরা অধ্যাপক আবুল হাশেমের রাজনৈতিক অবদান স্মরণ করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়।
যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ওয়েলস শাখার সভাপতি মোহাম্মদ মকিস মনসুর ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালিকসহ বিভিন্ন শাখার নেতারাও শোক প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাজ্য আওয়ামী যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং এসব সংগঠনের ওয়েলস শাখার নেতারাও তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন।
শোক প্রকাশ শেখ হাসিনার :
অধ্যাপক আবুল হাশেমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। শোকবার্তায় তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত আবুল হাশেম ছাত্রজীবন থেকেই যুক্তরাজ্যের প্রবাসী বাঙালিদের সংগঠিত করা এবং দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
শেখ হাসিনা আরও উল্লেখ করেন, ১৯৬৮ সালে যুক্তরাজ্যে ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠায় আবুল হাশেমের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। তিনি সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন এবং যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সেমিনার-সিম্পোজিয়ামে দলের প্রতিনিধিত্ব করেন।
শোকবার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, অধ্যাপক আবুল হাশেমের মৃত্যুতে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাঙালিরা তাঁদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন। তিনি নিজেও একজন অভিভাবকতুল্য শুভাকাঙ্ক্ষীকে হারিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসে জনমত গঠনে অধ্যাপক আবুল হাশেমের ভূমিকার কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর মতো অভিজ্ঞ ও দক্ষ সংগঠকের অভাব পূরণ হওয়ার নয়। দেশ ও দলের জন্য তাঁর দীর্ঘদিনের লড়াই-সংগ্রামের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
অধ্যাপক আবুল হাশেম ১৯৬৮ সালে যুক্তরাজ্য ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক ও সহসভাপতি হন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসে স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গঠন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন অধিকার, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। সহকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন বিনয়ী, সদাহাস্যোজ্জ্বল ও অভিজ্ঞ সংগঠক হিসেবে পরিচিত।
তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক সহকর্মী ও কমিউনিটির সদস্যরা একজন অভিজ্ঞ সংগঠককে হারানোর কথা জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, প্রবাসে বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনা ধারণ ও বিকাশে অধ্যাপক আবুল হাশেমের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।


