কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে পুলিশ পাহারায় থাকা ব্যবসায়ীর বাসায় মুহুর্মুহু গুলি
প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

দেশ ডেস্ক:: চট্টগ্রামে পুলিশি পাহারায় থাকা স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাসায় গুলি করেছেন সন্ত্রাসীরা। এ নিয়ে তার বাসায় দ্বিতীয় দফা এমন হামলা হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নগরের চন্দনপুরা এলাকায় গুলির ঘটনা ঘটে।
স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান পুরো ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, চাঁদার দাবিতে আমি প্রথম এ সন্ত্রাসী গ্রুপের কাছ থেকে ফোন পাই গত বছরের ডিসেম্বরে। আমার কাছে তখন ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। আমি তাদের জানাই, শ্রমিকদের বেতন দিতে পারছি না। ব্যবসার অবস্থা খারাপ।
তিনি আরও বলেন, এরপরে গত ২ জানুয়ারি সাড়ে ১২টায় আমাকে দ্বিতীয় দফায় ফোন করে হুমকি দেওয়া হয়। পরে ওইদিনই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আমার বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনার পরে আমার বাড়ি এবং অফিসে পুলিশ মোতায়েন হয়। তখন পরবর্তী দশ দিন তারা আমাকে শুধু ফোন করতে থাকে। চাঁদা না দিলে ক্ষতি করার হুমকি দিতে থাকে। এরপর আজ পুনরায় তারা আমার বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। এ সন্ত্রাসী গ্রুপের ভয়ে সবাই তটস্থ থাকে। তারা বিদেশে থেকে নির্দেশনা দিয়ে এসব অপরাধ সংঘটিত করছে। এদের সবার নামেই ১৫ থেকে ১৬টি করে খুনের মামলা আছে। ৬ মাস আগে তারা জামিনে বেরিয়ে এ চাঁদাবাজি শুরু করে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মুখোশ পরা চারজন ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে ওই ব্যবসায়ীর বাসার কাছে আসেন। এরপর বাসাটি লক্ষ্য করে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি ছুঁড়তে থাকেন। সিসিটিভি বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানায়, চার সন্ত্রাসীর মধ্যে একজনের দুই হাতে দুটি পিস্তল ছিল। বাকি তিনজনের মধ্যে একজন সাব মেশিনগান (এসএমজি), একজন চায়নিজ রাইফেল এবং অন্যজন শটগান থেকে গুলি ছুঁড়েছেন।
খবর পেয়ে নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন কবির ভূঁইয়ার নেতৃত্বে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশের একটি দল। পরিদর্শন শেষে হোসাইন কবির ভূঁইয়া বলেন, সন্ত্রাসীরা একটি প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেল যোগে ওই এলাকায় আসে। গাড়ি একটু দূরে রেখে হেঁটে বাসার কাছে গিয়ে গুলি করে। এরপর কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চাঁদার জন্য বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ তার লোকজন দিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

