৬৯ কারাগারে শতাধিক আ.লীগ মন্ত্রী-এমপি
প্রকাশিত হয়েছে : ১১ আগস্ট ২০২৬
দেশ ডেস্ক, ১১ আগস্ট ২০২৬:: দেশের ৬৯টি কারাগারে বর্তমানে আওয়ামী লীগের ১০৭ জন সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ৩৪ জন এবং সাবেক সংসদ সদস্য ৭৩ জন। বন্দিদের মধ্যে সাবেক নারী এমপিও রয়েছেন ১২ জন। এর বাইরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মীও কারাগারে রয়েছেন। তবে তাদের সঠিক সংখ্যা জানাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট সূত্র।
পুলিশ ও কারা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রভাবশালী এসব নেতা গ্রেফতার হন। ওই দিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা ভারতে চলে গেলেও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের অনেকে দেশ ছাড়তে পারেননি। তাদের কেউ কেউ এখনও পলাতক। শেখ হাসিনার পরিবারের ঘনিষ্ঠদের মধ্যে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ২০ থেকে ২২ জনের কাউকেই এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা যায়নি বলে জানা গেছে।
সরকার পতনের পর সর্বপ্রথম গ্রেফতার হন চট্টগ্রাম-১১ আসনের সাবেক এমপি এম আব্দুল লতিফ। ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট চট্টগ্রাম থেকে র্যাব তাকে গ্রেফতার করে। ১৩ আগস্ট রাজধানীর সদরঘাট থেকে গ্রেফতার করা হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্প উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে।
কারাগারে মন্ত্রী-উপদেষ্টারা :
বর্তমানে বিভিন্ন কারাগারে থাকা সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের মধ্যে রয়েছেন মুহাম্মদ ফারুক খান, ডা. দীপু মনি, আনিসুল হক, ড. আব্দুর রাজ্জাক, আমির হোসেন আমু, ইমরান আহমেদ, ফরহাদ হোসেন, সাধন চন্দ্র মজুমদার, টিপু মুনশি, গোলাম দস্তগীর গাজী, আসাদুজ্জামান নূর, নুরুল ইসলাম সুজন, নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, আব্দুস শহীদ, র আ ম ওবায়দুল মুক্তাদির চৌধুরী, আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, নুরুজ্জামান আহমেদ, রাশেদ খান মেনন, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, হাসানুল হক ইনু, কামরুল ইসলাম, শাজাহান খান ও রমেশ চন্দ্র সেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর তিন উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী ও কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীও কারাগারে রয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী :
কারাগারে থাকা সাবেক প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন জুনাইদ আহমেদ পলক, ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম, মাহবুব আলী, কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক, কামাল আহমেদ মজুমদার, জাকির হোসেন, শহীদুজ্জামান সরকার, শাহজাহান ওমর, ডা. এনামুর রহমান ও দীপংকর তালুকদার। সাবেক উপমন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন আরিফ খান জয়, আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব ও ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু।
কারাগারে থাকা সাবেক এমপিদের মধ্যে রয়েছেন সুলতান মুহাম্মদ মনসুর আহমেদ, জান্নাত আরা হেনরী, মাহবুব আরা বেগম গিনি, মোহাম্মদ আলী, আয়েশা ফেরদৌস, আহমেদ হোসেন, আবদুর রহমান বদি, মো. সাদেক খান, হাজি মোহাম্মদ সেলিম, এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, শাহে আলম, আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী, রাগেবুল আহসান রিপু, ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক, তানভীর ইমাম, সেলিম আলতাফ জর্জ, কাজী জাফরুল্লাহ, ইকরামুল করিম চৌধুরী, আবদুস সালাম মুর্শেদী, ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন, মোহাম্মদ সোলাইমান সেলিম, নাসিমুল আলম চৌধুরী, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, অধ্যাপক ডা. আবদুল আজিজ, মমতাজ বেগম, সেলিনা ইসলাম, শামীমা আখতার খানম, বেগম জেবুন্নেসা ও লায়লা পারভীনসহ অনেকে।
জামিনে মুক্ত ১১ জন :
এ পর্যন্ত এসব ভিআইপি বন্দির মধ্যে ১১ জন জামিনে কারামুক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাবেক পরিবেশমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী, সাবেক এমপি মুহিবুর রহমান মানিক, নায়েব আলী জোয়ারদার, তাহজীব আলম সিদ্দিকী সমি, সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম, সাবেক পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক স্পিকার শিরীন শারমীন চৌধুরী ও সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস রয়েছেন।
সম্প্রতি বরিশাল-৫ আসনের সাবেক এমপি জেবুন্নেছা আফরোজ, বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন, যুবলীগ নেতা মাহমুদুল হক খান মামুন এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস জামিন পেয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকেও পাঁচ মামলায় ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু ও সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক জামিন পেলেও অন্য মামলায় আটক থাকায় এখনও মুক্ত হতে পারেননি।
সূত্র জানায়, সাবেক মন্ত্রী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক সহিংসতা, হামলা, ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ বেশি। একই ঘটনায় একাধিক মামলা হওয়ায় অনেকের বিরুদ্ধে পাঁচ থেকে ১০টি, এমনকি ২০টির বেশি মামলাও রয়েছে।
কারাগারে ডিভিশনপ্রাপ্ত ১৭৬ জন :
সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) জান্নাত-উল ফরহাদ বলেন, দেশের কারাগারগুলোতে বর্তমানে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও এমপি মিলিয়ে ১০৭ জন বন্দি আছেন। এর মধ্যে ৪১ জন এমপি এবং ৩০ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী কেরানীগঞ্জের বিশেষ কারাগারে রয়েছেন। অন্যরা গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারসহ বিভিন্ন কারাগারে বন্দি।
তিনি জানান, বর্তমানে দেশের কারাগারে ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন ১৭৬ জন। তাদের মধ্যে সাবেক উপদেষ্টা, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সরকারি আমলা ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, আমলা ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে ২৫ জন ডিভিশন পাওয়ার যোগ্য হলেও আদালতের নির্দেশে তা পাননি। উদাহরণ হিসেবে তিনি মেজর (অব.) সিনহা হত্যা মামলার আসামি ওসি প্রদীপের কথা উল্লেখ করেন।
সূত্র :সময়ের আলো

