সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ ইউকের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য বইমেলা অনুষ্ঠিত
প্রকাশিত হয়েছে : ০১ জুলাই ২০২৬
দেশ ডেস্ক, ০১ জুলাই, ২০২৬:: সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ ইউকের উদ্যোগে পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি আর্ট সেন্টারে দুই দিনব্যাপী ‘বইমেলা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব’অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৭ জুন শনিবার দুপুর ১টায় শুরু হওয়া এ আয়োজনে সাহিত্যপ্রেমী, লেখক, গবেষক, কবি, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে পুরো মিলনায়তন উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
বইমেলার উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে পদকপ্রাপ্ত অধ্যাপক রুপা চক্রবর্তী। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অনুবাদক আনিসুজ্জামান এবং বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি শামীম আজাদ।
উদ্বোধনী পর্বে সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ ইউকের সভাপতি কবি মোহাম্মদ ইকবালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক কবি উদয় শংকার দুর্জয়ের সঞ্চালনায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক রুপা চক্রবর্তী বলেন, প্রবাসে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা অব্যাহত রাখতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, বইমেলা শুধু বই কেনাবেচার স্থান নয়, এটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ভাষা ও সংস্কৃতির সেতুবন্ধন তৈরি করে।
বিশেষ অতিথি আনিসুজ্জামান বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বপরিসরে পৌঁছে দিতে অনুবাদের গুরুত্ব তুলে ধরেন। কবি শামীম আজাদ প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশে সাহিত্যচর্চার অপরিহার্যতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাহিত্য পদক প্রদান করা হয় লেখক মাসুক ইবনে আনিসকে। গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য গুণীজন সম্মাননা লাভ করেন গবেষক ফারুক আহমদ। এছাড়া সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসামান্য পরিবেশনার জন্য ‘বেস্ট পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড’ পান হেনা বেগম ও নুরজাহান শিল্পী। ‘ডিস্টিংগুইসড ফ্রেন্ড রিকগনিশন অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয় শেবুল চৌধুরীকে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা বইমেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। দিনব্যাপী আয়োজনে বই প্রদর্শনী ও বিক্রির পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় কবিতা আবৃত্তি, অনুগল্প পাঠ, সাহিত্য আলোচনা এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
কবি শামীম আজাদ ও ইংরেজ কবি মাইক রেগেটের তত্ত্বাবধানে বিবিপিসি-এর সদস্যরা কবিতা আবৃত্তি, অনুগল্প পাঠ এবং সাহিত্যের বিভিন্ন শাখা নিয়ে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ কবি স্টিফেন ওয়াটস।
উৎসবের প্রথম দিনে ছিল স্বাগত বক্তব্য, স্মারক সম্মাননা প্রদান, তৃতীয় বাংলার মোড়ক উন্মোচন, ‘শব্দের অনুরণন’ শীর্ষক আবৃত্তি, দশ কবির কবিতা পাঠ, বাংলা সাহিত্যের আন্তর্জাতিকতা নিয়ে সেমিনার, ‘পোয়েট্রি ইন মাল্টি ল্যাঙ্গুয়েজ’ এবং ‘মিট দ্য পাবলিশার্স’সহ নানা আয়োজন।
দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচিতে রয়েছে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, ‘দূরন্তের প্রতিধ্বনি’, সাহিত্য ও চলচ্চিত্র বিষয়ক অনুষ্ঠান ‘সাহিত্যে অনুধ্যান’, ‘বিবিসিপিস-শামীম আড্ডা’, কবিতা পাঠ এবং শাহানা বাজপেয়ীর একক সঙ্গীত সন্ধ্যা।
অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সংগঠনের সভাপতি কবি মোহাম্মদ ইকবাল এবং সাধারণ সম্পাদক কবি উদয় শংকার দুর্জয়। বিভিন্ন পর্ব পরিচালনা করেন স্মৃতি আজাদ, হেনা বেগম, ড. আজিজুল আম্বিয়া, রওশনারা মনি, তানজিলা ও লুৎফুন্নাহার। ‘দুরন্ত’-এর কবিদের নিয়ে বিশেষ সাহিত্য পর্ব পরিচালনা করেন কবি আহমদ হোসেন হেলাল ও নোমান আল মনসুর। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন মোহাম্মদ মুহিত, আসমা মতিন এবং শামসুল হক শাহ আলম।
সাংস্কৃতিক পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করে উপস্থিত দর্শক ও বইপ্রেমীদের মুগ্ধ করেন ড. শাহানা বাজপেয়ী।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের বইমেলা ও সাহিত্য-সাংস্কৃতিক উদ্যোগ প্রবাসে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করতে এ আয়োজন কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

