ঘৃণা ও বিভাজনের বিরুদ্ধে টাওয়ার হ্যামলেটসে সামার রেজিলিয়েন্স ব্রিফিং অনুষ্ঠিত
প্রকাশিত হয়েছে : ১২ আগস্ট ২০২৬
দেশ ডেস্ক, ১২ আগস্ট ২০২৬:: ওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের উদ্যোগে ৩০টিরও বেশি কমিউনিটি সংগঠনের প্রায় ৬০ জন প্রতিনিধির অংশগ্রহণে সামার রেজিলিয়েন্স ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। টাওয়ার হ্যামলেটস বারায় ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষমূলক প্রচারণা, উগ্র ডানপন্থী তৎপরতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভাজনমূলক কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে গত ২১ জুলাই টাউন হলে এই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।
এতে কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি, তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি, টাওয়ার হ্যামলেটস ইন্টারফেইথ ফোরামের সদস্য, কাউন্সিল কর্মকর্তা এবং মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় সামাজিক সম্প্রীতি এবং ঘৃণামূলক কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় সম্মিলিত প্রস্তুতি ও অংশীদারিত্ব জোরদারের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
ব্রিটেনের অন্যতম বৈচিত্র্যময় এলাকা হিসেবে পরিচিত টাওয়ার হ্যামলেটস দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোর একটি। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষকে স্বাগত জানাচ্ছে বারাটি। একই সঙ্গে সামাজিক সম্প্রীতির ক্ষেত্রেও সুনাম রয়েছে। এক জরিপ অনুযায়ী, বারার ৯১ শতাংশ বাসিন্দা মনে করেন, মানুষ এখানে সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে বসবাস করেন। দেশের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ স্থানীয় কাউন্সিল এলাকা হওয়ায় এই অর্জন বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
স্থানীয়ভাবে দৃঢ় সামাজিক সম্প্রীতি থাকা সত্ত্বেও অনলাইনে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা, শত্রুতাপূর্ণ মন্তব্য এবং বহিরাগত গোষ্ঠীর বিভাজন ও উত্তেজনা সৃষ্টির প্রচেষ্টা নিয়ে কমিউনিটিগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক কর্মসূচি ও তৎপরতা এসব উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বিভাজনের বিরুদ্ধে টাওয়ার হ্যামলেটসের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের অনেক অতীত আছে। এ বছর ঐতিহাসিক ‘ব্যাটল অব কেবল স্ট্রিট’-এর ৯০তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে, যেখানে ১৯৩৬ সালে স্থানীয় বাসিন্দা, ট্রেড ইউনিয়ন কর্মী, ধর্মীয় সংগঠন ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনকারীরা একত্রিত হয়ে স্যার অসওয়াল্ড মসলি ও ব্রিটিশ ইউনিয়ন অব ফ্যাসিস্টসের ইস্ট এন্ডে মিছিল ঠেকিয়ে দেন। এই বার্ষিকী ঐক্য, অন্তর্ভুক্তি এবং ঘৃণার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের প্রতি বারার দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারের একটি শক্তিশালী স্মারক হিসেবে কাজ করছে।
সামার রেজিলিয়েন্স ব্রিফিংয়ের প্যানেল সদস্যদের মধ্যে ছিলেন কাউন্সিলের হেড অব পাবলিক প্রোটেকশন সাইমন স্মিথ, মেট্রোপলিটন পুলিশের টাওয়ার হ্যামলেটস নেইবারহুড পুলিসিংয়ের চিফ ইন্সপেক্টর ক্রিস ব্রাউন এবং ইন্সপেক্টর বেন হিউজেস। তারা সকলেই ঘৃণাজনিত ঘটনা ও কমিউনিটিতে উদ্ভূত উত্তেজনা মোকাবিলায় পুলিসিং কার্যক্রম এবং অংশীদারিত্বমূলক উদ্যোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের চিলড্রেন, ইয়ং পিপল এন্ড লাইফ চান্সেস বিষয়ক ক্যাবিনেট মেম্বার কাউন্সিলর ফয়সাল আহমেদ বলেন, “এ ধরনের আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি সকলের মধ্যে অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করে, পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি করে এবং আমাদের কমিউনিটির সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো সম্মিলিতভাবে মোকাবিলায় সহায়তা করে। আপনাদের উপস্থিতি একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে ঘৃণা ও বিভাজনের মুখে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবে না। ৯০ বছর আগে ব্যাটল অব কেবল স্ট্রিটে যে সংহতি ও ঐক্যের চেতনা প্রকাশ পেয়েছিল, তা আজও সমানভাবে শক্তিশালী ও অটুট রয়েছে।”
তিনি বলেন, “টাওয়ার হ্যামলেটসে লন্ডনের সবচেয়ে তরুণ জনগোষ্ঠী বসবাস করে, যেখানে গড় বয়স মাত্র ৩০ বছর।তরুণরা এসব বিষয়ে বিপুল উদ্দীপনা, শক্তি ও অঙ্গীকার নিয়ে আসে। তাই তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।”
অনুষ্ঠানে প্রাণবন্ত আলোচনায় কাউন্সিল, মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং কমিউনিটি সংগঠনগুলোর মধ্যে ধারাবাহিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনকারীরা বারার বাইরের ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগুলোর নেতিবাচক প্রচারণা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যা টাওয়ার হ্যামলেটসের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এবং কমিউনিটির আস্থা দুর্বল করতে পারে।
স্ট্যামফোর্ড হিলের শোমরিমের প্রেসিডেন্ট এবং মুসলিম-ইহুদি ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান রাব্বি হার্শেল গ্লাক ওবিই বলেন, “অতীতে ইহুদিদের বলির পাঁঠা বানানো, উসকানি দেওয়া এবং বিশেষভাবে টার্গেট করার ঘটনা তাদেরকে নির্বাসনের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। বর্তমানে মুসলিমরাও একইভাবে দোষারোপ, উসকানি ও ভয়ভীতির শিকার হচ্ছেন, যা উত্তেজনা সৃষ্টি করছে এবং বিভাজন ও সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।”
তিনি “টাওয়ার হ্যামলেটসকে নিজের সেকেন্ড হোম” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “কমিউনিটিতে শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি মানুষের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করা পুলিশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি যারা বিভিন্ন কমিউনিটিকে উসকানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের প্রতিহত করাও অপরিহার্য।”

