“সমুদ্র সৈকতে ৭ বছরের শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে মা-মেয়ের মৃত্যূ হয়েছে-এমন প্রচারণা ভুল”
প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ জুলাই ২০২৬
২২ জুলাই সমুদ্র সৈকতে বৃটিশ বাংলাদেশী মা শেলী রহমান ও মেয়ে সামিহা রহমানের মৃত্যুর কারণ হিসেবে মিডিয়ায় যে সংবাদ প্রচার হয়ে আসছিলো তা ভুল প্রচারণা- বলে দাবী করেছেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৭ বছরের শিশু মুসা আহমদের পিতা শাহীন আহমদ। সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ারকরা বিবৃতির বাংলা অনুবাদ হুবহু তুলে ধরা হলো।
“আসসালামু আলাইকুম। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়া এবং মূলধারার বিভিন্ন গণমাধ্যমে বেশ কিছু ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা সবার সামনে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে এই বিবৃতি প্রদান করা হচ্ছে।
শেলি রহমান ও সামিহার মৃত্যু ৭ বছরের শিশু মুসাকে (যিনি বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন) উদ্ধার করতে পানিতে নামার কারণে হয়েছে—এমন প্রচার সম্পূর্ণ ভুল।
ঘটনাস্থল, সমুদ্র সৈকতে মোট ৬ জন ছিলেন, যার মধ্যে ৩ জন প্রাপ্তবয়স্ক এবং ৩ জন শিশু । তারা পানিতে খেলছিলেন । হঠাৎ একটি প্রবল স্রোতের টানে তারা সমুদ্রে ভেসে যান, যার ফলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
সৈকতে জোয়ারের ঝুঁকি বা প্রবল স্রোতের টান সম্পর্কে সতর্ক করার মতো কোনো সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড কিংবা কোস্টগার্ডের উপস্থিতি ছিল না। অথচ স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ও আরও উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
তাছাড়া, ঘটনাস্থলে লাইফগার্ড এবং এইচএম কোস্টগার্ড পৌঁছাতে আনুমানিক ২০ মিনিট সময় লেগেছিল।
প্রকৃত সাহসিকতা ও বীরত্বের পরিচয় দিয়েছেন ওয়েস্ট মার্সি বিচের স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পানিতে নেমে ভেসে যাওয়া ব্যক্তিদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন।
এই পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের তথ্য যাচাই ছাড়াই এবং নিহতদের পরিবারের অনুভূতির প্রতি কোনো সম্মান না দেখিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঘটনার একটি ভুল বর্ণনা প্রচার করা অত্যন্ত কষ্টদায়ক এবং ক্ষমার অযোগ্য।
অন্যদিকে, আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই জরুরি সেবা প্রদানকারী সংস্থা, লন্ডন এয়ার অ্যাম্বুলেন্স এবং ওয়েস্ট মার্সির স্থানীয় বাসিন্দাদের, বিশেষ করে মি. ক্রেইগ বোয়েকে, যাঁরা এই দুর্ঘটনার সময় সাহসিকতা, সহযোগিতা ও সহমর্মিতার পরিচয় দিয়েছেন।
আমি কমিউনিটির সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, দয়া করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য আর শেয়ার বা প্রচার করবেন না। পাশাপাশি, সবাই যেন মৃত্যুবরণকারি মা-মেয়ে ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মুসার এবং তাঁদের পরিবারের জন্য দোয়া অব্যাহত রাখেন।
তাঁদের নামে একটি চ্যারিটির উদ্যোগ শুরু করা হয়েছে। পরিবার এই মহৎ উদ্যোগে আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছে।
এ পর্যন্ত যারা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন, আল্লাহ আপনাদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।
আমরা আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করি, তিনি যেন শেলিনা রহমান ও সামিহা রহমানকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন, মুসাকে দ্রুত পূর্ণ সুস্থতা দান করেন এবং এই কঠিন সময়ে আমাদের সবাইকে ধৈর্য ও অবিচলতা দান করেন। আমীন।
শাহিন আহমেদ
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মুসা আহমেদের পিতা”

