নারায়ণগঞ্জে বুলবুল হত্যা : ছয় ঘণ্টায় প্রধান আসামিসহ ১১ জন গ্রেপ্তার
প্রকাশিত হয়েছে : ২১ আগস্ট ২০২৬
দেশ ডেস্ক, ২১ আগস্ট ২০২৬:: নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা ও ব্যবসায়ী জাহিদ আল আমিন বুলবুল (৪০) হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত শেখ সিফাতসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৬ ঘণ্টার মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হত্যায় ব্যবহৃত বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সি।
পুলিশ সুপার বলেন, বুলবুল পেশায় একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি আন্দোলনকারীদের খাবারসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছিলেন। এ বিষয়টি নিয়ে শেখ সিফাতসহ কয়েকজনের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়েছিল বলে তদন্তে তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে শেখ সিফাতসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বন্দরের শাহী মসজিদ এলাকার বুলবুলের অটোরিকশার গ্যারেজে ঢোকেন। সেখান থেকে অটোরিকশা, চার্জার, ব্যাটারিসহ প্রায় ১৮ লাখ ১৭ হাজার ৪০০ টাকার মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় বুলবুল বাদী হয়ে বন্দর থানায় মামলা করেন। মামলা করার পর থেকেই তাকে বিভিন্নভাবে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর মধ্যে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে সালেহনগর এলাকায় তাহের আলী প্রধানের বাড়ির সামনে বুলবুলের পথরোধ করে হামলা চালানো হয়।
পুলিশের ভাষ্য, শেখ সিফাতের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি রামদা, চাপাতি, চাকু ও লোহার পাইপসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বুলবুলের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে পাক পাঞ্জাতন সিটি জামে মসজিদসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে শেখ সিফাতসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— শেখ সিফাত (৩২), জুম্মন ওরফে হোয়াইট জুম্মন, মাহবুব হোসেন ওরফে মাহাফুজ (৩২), রিয়াদ (৩৩), মো. সিয়াম (২৫), মিনারা (৩৫), নাসিমা (৩৬), রুমা (৩৬), ইফরান (২৯), ইয়াসমিন (৪০) ও সিজান ওরফে জিসান (২৬)। তারা সবাই বন্দর থানার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার শেখ সিফাতের বিরুদ্ধে ১৪টি, জুম্মন ওরফে হোয়াইট জুম্মনের বিরুদ্ধে ৯টি এবং রিয়াদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা আদালতে বিচারাধীন। পুলিশের দাবি, শেখ সিফাত ও তার সহযোগীরা ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার ও হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত।
অভিযানে একটি ছ্যান দা, দুটি সুইচ গিয়ার চাকু, একটি স্টিলের চাপাতি, একটি লোহার পাইপ, প্লাস্টিকের বাটযুক্ত একটি স্টিলের ছুরি, একটি ওয়াকিটকি ও চারটি এসএস লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব আলামত জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় বন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও কোনো কারণ বা অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

