আখতারুজ্জামানকে অবিলম্বে মুক্তি ও প্রবাসী হয়রানি বন্ধের দাবি
প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ অক্টোবর ২০২৬
দেশ ডেস্ক, ০৮ অক্টোবর ২০২৬ : প্রবাসী অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ ইউকে’র উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, ঢাকার বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানি এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। প্রবাসী ও সাধারণ যাত্রীদের টিকিটের সঙ্গে বিমানবন্দর ট্যাক্স নেওয়া হলেও এর বিনিময়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। বরং ট্যাক্স দেওয়ার পরও বিমানবন্দরে নিয়মিত হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। বক্তারা বলেন, সামান্য প্রতিবাদ করায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হামলার শিকার হয়ে লন্ডনপ্রবাসী সুরত মিয়া নিহত হয়েছিলেন। কিন্তু আজও ওই ঘটনার বিচার হয়নি। মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান প্রবাসীদের মালামাল চুরি ও হয়রানির প্রতিবাদ করায় তাকে পরিকল্পিতভাবে বানোয়াট মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা।
আখতারুজ্জামানের নিঃশর্ত মুক্তি ও প্রবাসী হয়রানি বন্ধের দাবিতে গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্কে প্রবাসী অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ ইউকের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।
তারা বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে পুলিশের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও দুইবারের সাবেক নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা নিঃশর্তে প্রত্যাহার করে তাকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে বিমানবন্দরে প্রবাসীদের সব ধরনের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রায় দুই কোটি প্রবাসী বাংলাদেশি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবেন।
প্রবাসী অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ ইউকের আহ্বায়ক সলিসিটর জহির আহমদের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ইউরোপের প্রধান মুখপাত্র ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার সাইফুদ্দিন খালেদ, গ্রেটার সিলেট ডেভেলপমেন্ট ফোরামের সাবেক প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার আতাউর রহমান এবং মজলুম সাংবাদিক ও জননেতা অলিউল্লাহ নোমান।
সাবেক ছাত্রনেতা শাহরিয়ার আলম শিপার ও জুবের আহমদ আহাদের যৌথ পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার ওয়াহিদ মাহবুব, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব এমদাদুর রহমান, মানবাধিকারকর্মী রফিকুল ঈসা, সংগঠক আবদুল্লাহ আল মুনিম, রাইট ফর কনসার্নের প্রেসিডেন্ট শফিকুর রহমান খান, নিরাপদ বাংলাদেশ চাই-এর প্রেসিডেন্ট মুসলিম খান, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট সাইফুর রহমান পারভেজ, রায়হান আহমেদ প্রমুখ। শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন ফজলুর রহমান।
বক্তারা বলেন, প্রবাসীদের শ্রম ও ঘামে অর্জিত রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির অক্সিজেন। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম বড় উৎস হলো প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ। অথচ এসব প্রবাসী বিদেশে যাওয়ার সময় পদে পদে হয়রানির শিকার হন। শ্রম-ঘাম ঝরিয়ে এবং অনেক ক্ষেত্রে বসতভিটা বিক্রি করে বিদেশে যাওয়ার জন্য টিকিট কেনার সময় তাদের বিমানবন্দর ট্যাক্স দিতে হয়। কিন্তু সেই ট্যাক্স দেওয়ার পরও বিমানবন্দরে প্রবেশের সময় নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হয়।
তারা আরও বলেন, বছরের পর বছর বিদেশে শ্রম দিয়ে দেশে ফেরার পরও প্রবাসীরা বিমানবন্দরে গিয়ে দেখতে পান, কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে কেনা বা আনা মালামাল চুরি হয়ে গেছে। লাগেজ কেটে মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটছে।
বক্তারা বলেন, সেদিন দীর্ঘ যাত্রা শেষে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তিন ঘণ্টা লাগেজের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছিল। সংসদ সদস্যদের বসার মতো কোনো ব্যবস্থা ছিল না। একটি দেশের সংসদ সদস্যরা যদি বিমানবন্দরে এমন হয়রানির শিকার হন, তাহলে সাধারণ যাত্রীদের অবস্থা সহজেই অনুমান করা যায়। তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর সংসদ সদস্যরা দেখতে পান, তাদের বুকিং করা জমজমের পানি নেই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অন্যের পানি তাদের দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
বক্তারা বলেন, তখন আখতারুজ্জামান প্রতিবাদ করেছিলেন। তার প্রতিবাদের ভাষা ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু একজন সাবেক প্রবীণ সংসদ সদস্যের সেই প্রতিবাদের জবাব দিতে সরকার পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করছে। বানোয়াট মামলা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া এবং জামিন না দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, সরকার যতই চেষ্টা করুক, জনগণ শেখ হাসিনার মতো ফ্যাসিবাদ মেনে নেবে না। প্রবাসীদের উদ্দেশে তারা বলেন, প্রবাসীদের শ্রমের বিনিময়ে অর্জিত অর্থ দিয়ে সংশ্লিষ্টরা সেবা দেন। বিমানবন্দরের সেবা কারও দয়া নয়। তাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে যার যার অবস্থান থেকে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।


