আপনার স্থানীয় ফার্মাসিস্টই হতে পারেন আপনার প্রথম স্বাস্থ্য পরামর্শদাতা
প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ নভেম্বর ২০২৫
দেশ ডেস্ক, ৭ নভেম্বর ২০২৫: যুক্তরাজ্যে ন্যাশনাল ফার্মেসী অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ৩ নভেম্বর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত পালিত হচ্ছে ‘আস্ক ইয়োর ফার্মাসিস্ট উইক’ (আপনার ফার্মাসিস্টকে জিজ্ঞাসা করুন)।
এই বিশেষ সপ্তাহের মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে উৎসাহিত করা যেন তারা শুধু ওষুধের প্রেসক্রিপশন নেওয়ার জন্য নয়, বরং পরামর্শ, সহায়তা ও দৈনন্দিন স্বাস্থ্য সমস্যার জন্যও তাদের স্থানীয় ফার্মাসিস্টের সাহায্য নেন।
লন্ডনের কমিউনিটি ফার্মাসিস্ট ফারুক গনি ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই পেশায় কাজ করছেন। তিনি জানালেন কীভাবে তিনি স্থানীয় মানুষদের তাদেরকে স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে সহায়তা করেন।
তিনি বলেন, আমি তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ফার্মাসিস্ট হিসেবে কাজ করছি। এই সময়ে আমাদের কাজের পরিধি অনেক বেড়েছে। অনেকেই জানেন না, এখন ফার্মাসিস্টরা কত কিছু করতে পারেন। সাধারণত মানুষ ফার্মাসিতে আসে প্রেসক্রিপশন নেওয়ার জন্য, কিন্তু আমরা তার থেকেও অনেক বেশি সেবা দিতে পারি।
তিনি জানান, ফার্মাসিস্টরা শুধু ওষুধ নয়, ছোটখাটো স্বাস্থ্য সমস্যায় পরামর্শ, প্রয়োজনীয় ওষুধের পরামর্শ এবং কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করতে পারেন। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে রোগীকে ডাক্তারের কাছে না গিয়েও কিছু প্রেসক্রিপশন ওষুধ, যেমন অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ দিতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সবার জীবনই ব্যস্ত, কিন্তু স্বাস্থ্য ঠিক রাখা খুব জরুরি। আপনি স্থানীয় ফার্মাসিস্টের কাছ থেকে দ্রুত চিকিৎসা পরামর্শ নিলে এটি একদিকে আপনার সময় বাঁচাবে এবং অন্যদিকে নিজের স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে।
সব কমিউনিটি ফার্মাসিস্টেরই থাকে ৫ বছরের পেশাগত প্রশিক্ষণ ও ওষুধ ব্যবহারের শিক্ষা, তাই তারা ছোটখাটো অসুস্থতা সামলাতে পুরোপুরি দক্ষ।
জনাব ফারুক গনি বলেন, আমরা কানে ব্যথা, গলা ব্যথা, সাইনাস, ত্বকের সংক্রমণ, ইউরিনারি ইনফেকশন, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে শিংগলস বা ইনফেকটেড পোকামাকড়ের কামড়ের চিকিৎসাও দিতে পারি। এছাড়া আমরা ওরাল কন্ট্রাসেপশন ও জরুরি গর্ভনিরোধক পিলও দিতে পারি – তাও আবার প্রেসক্রিপশন ছাড়াই।
ফার্মাসিতে যেতে কোনও অ্যাপয়েন্টমেন্ট লাগে না এবং সেখানে গোপনীয়ভাবে কথা বলার জন্য প্রাইভেট কনসালটেশন রুম থাকে।
অনেকেই এখন নিয়মিত আমাদের কাছে আসেন কারণ এটি সহজ, দ্রুত ও সময় বাঁচায়।
ফারুক গনি আরও জানান, ফার্মাসিস্ট হিসেবে তিনি শুধু পেশাগতভাবে নয়, সামাজিক সম্পর্কের দিক থেকেও কমিউনিটির অংশ হতে পেরে খুশি।
পরিচিত মুখ দেখা, মানুষের খবর নেওয়া – এসব আমাদের এলাকাকে আরও ঘনিষ্ঠ করে তোলে।
জনাব ফারুক গণির পরামর্শ হচ্ছে, ছোটখাটো অসুখে ‘দেখা যাক ভালো হয়ে যায় কিনা’ ভেবে বসে থাকবেন না। আপনার ফার্মাসিস্টের কাছে যান, আমরা দেখে নেবো আপনার কী করা দরকার। প্রয়োজনে আমরা আপনাকে সঠিক এনএইচএস সেবার জন্যও পাঠাতে পারি।
মনে রাখবেন, আপনার ফার্মাসিস্ট সবসময় আপনার পাশে আছেন – অ্যাপয়েন্টমেন্টের দরকার নেই, শুধু চলে আসুন।
এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানতে www.nhs.uk/thinkpharmacyfirst ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারেন।

