যুক্তরাজ্য বিএনপির সংবাদ সম্মেলন : পোস্টাল ভোটের জন্য নাম নিবন্ধন করতে প্রবাসীদের প্রতি আহবান
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ নভেম্বর ২০২৫
দেশ ডেস্ক, ১৬ নভেম্বর ২০২৫:: আগামী জাতীয় নির্বাচনে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ গ্রহণ করতে প্রবাসীদের প্রতি আহবান জানিয়েছে যুক্তরাজ্য বিএনপি।
লন্ডনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, যাদের এনআইডি কার্ড আছে কেবল তারাই আসন্ন নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। তবে এজন্য ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ নামক অ্যাপসের মাধ্যমে পোস্টাল ভোটার হিসেবে প্রবাসীরা তাদের নাম রেজিষ্ট্রেশন করতে হবে। অ্যাপসের মাধ্যমে ভোটার হিসেবে নাম তালিকাভুক্তির কার্যক্রম ১৮ নভেম্বর থেকে শুরু হবে। যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজেদের নাম রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন করবেন নির্বাচনের আগে ফেরত অ্যানভেলপসহ তাদের যুক্তরাজ্যের ঠিকানায় ব্যালট পেপার পাঠানো হবে। প্রবাসীদেরকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভোট দিয়ে ফেরত অ্যানভেলপে বাংলাদেশে প্রেরন করতে হবে।
গত ১৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল রোডস্থ একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন নির্বাচনে ডাকযোগে ভোটদানের পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়।
যুক্তরাজ্য বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।
এতে উপস্থিত ছিলেন ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সহসভাপতি মুজিবুর রহমান মুজিব, আলহাজ্ব তৈমুছ আলী, তাজুল ইসলাম, শেখ শামসুদ্দিন শামীম, আশরাফুল ইসলাম হীরা, আবেদ রাজা, এম এ মুকিত, যুগ্ম সম্পাদক খসরুজ্জামান খসরু, গোলজার আহমেদ, মিসবাহুজ্জামান সোহেল, ড. মুজিবুর রহমান (দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত), হাসনাত কবির খান রিপন, সিনিয়র সদস্য শরিফুজ্জামান চৌধুরী তপন, শাহ আখতার হোসেন টুটুল, শহিদুল ইসলাম মামুন, নাসিম আহমেদ চৌধুরী, এমদাদ হোসেন টিপু, শামসুর রহমান মাহতাব, ফখরুল ইসলাম বাদল, এস এম লিটন, সহ সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাসিত বাদশা, সালেহ আহমদ জিলান, খলিলুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমদ, কোষাধ্যক্ষ সালেহ গজনবী, যুক্তরাজ্য যুবদলের সভাপতি আফজাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক বাবর চৌধুরী, যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নাসির আহমদ শাহীন, অঞ্জনা আলম প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিকদের ভোটাধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। প্রবাসীরা দেশের উন্নয়ন, অর্থনীতি ও রাজনীতিতে বিশাল ভূমিকা রাখলেও এতদিন ভোট প্রক্রিয়ার বাইরে ছিলেন। তবে আমরা গর্বের সঙ্গে জানাতে চাই যে, প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও দাবির পর বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ওসিভি ও পোস্টাল ভোটিং পদ্ধতি চালু করেছে। এবারের নির্বাচনে যারা দেশে যেতে পারবেন না, তারা শুধুমাত্র ডাকযোগে ভোট প্রদান করতে পারবেন। এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
এতে উল্লেখ করা হয়, বিএনপি সরকারের সময়েই এ বিষয়ে প্রাথমিক গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল, যা পরবর্তীতে বন্ধ হয়ে যায়। বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে শুধু প্রবাসীরা নয়, দেশের জনগণও ভোট দিতে পারেনি। আমরা বিশ্বাস করি- আগামী নির্বাচনে বিএনপি জনগণের সমর্থনে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেলে এই উদ্যোগকে আরও সম্প্রসারিত ও সহজ করবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দ্রুত ভোটার হিসেবে নিবন্ধন (এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট) করার অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন থেকে ডাকযোগে ভোট (পোস্টাল ভোটিং) প্রক্রিয়া আগামী ১৮ নভেম্বর থেকে কার্যকর করার কথা রয়েছে। তাই এই অ্যাপের মাধ্যমে দ্রুত ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করার জন্য আমরা আহবান জানাচ্ছি। এছাড়া সকল প্রবাসীকে পোস্টাল ভোটিং বা ওসিভি প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া ও অন্যদেরও উৎসাহিত করার আহ্বান জানাই।
‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সবসময় জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণে বিশ্বাসী। আমরা মনে করি, প্রবাসীদের ভোট শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক অধিকার নয়-এটি জাতির সঙ্গে প্রবাসীদের অটুট বন্ধনের প্রতীক। প্রবাসী সমাজের প্রতিটি নাগরিক যাতে তাঁর ভোট দিতে পারেন, সেই বিষয়ে আমরা সচেতনতা বৃদ্ধি ও সহযোগিতার উদ্যোগ নিয়েছি। এই প্রেস কনফারেন্স সেই প্রচেষ্টারই অংশ-যাতে প্রবাসী ভোটাররা তথ্য পান, উৎসাহ পান এবং সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।’
সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা সহ বিশ্বের সকল প্রবাসী বাংলাদেশিকে ওসিভি /পোস্টাল ভোটিং-এর জন্য আবেদন করতে এবং অন্যদের উৎসাহিত করতে। প্রতিটি প্রবাসী কমিউনিটি ও সংগঠনকে সচেতনতা কর্মসূচি পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি প্রবাসীদের সহায়তায় দূতাবাসভিত্তিক ভোটিং সহায়তা কেন্দ্র স্থাপনের অনুরোধ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত হওয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে এবং দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নে প্রবাসীদের ভূমিকার পাশাপাশি গণতন্ত্রের শক্তিতেও তাদের অবদান থাকবে। সকলকে আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, এই অধিকার প্রয়োগে অংশ নিন, অন্যদের উদ্বুদ্ধ করুন এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে সুদৃঢ় করুন।

