অসহায় বয়স্ক বাসিন্দাদের পাশে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল: শুরু হলো গরম খাবার পৌঁছে দেওয়ার নতুন উদ্যোগ
প্রকাশিত হয়েছে : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
“মিলস অন হুইলস” সার্ভিসে বিনিয়োগ ৩ মিলিয়ন পাউন্ড
বরার একাকী বসবাসকারী, বয়স্ক এবং অসহায় বাসিন্দাদের ঘরে গরম খাবার পৌঁছে দিচ্ছে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল। এডাল্ট সোশ্যাল কেয়ার (প্রাপ্তবয়স্ক সামাজিক সেবা) উন্নত করতে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সমস্যা মোকাবিলায় ৩ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগের অংশ হিসেবে সম্প্রতি চালু করা হয়েছে “মিলস অন হুইলস” সার্ভিস।
টাওয়ার হ্যামলেটসে পেনশন ক্রেডিট পাওয়া পেনশনারদের অনুপাত ইংল্যান্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ, যা ৪২ শতাংশ।
মিলস অন হুইলস সার্ভিসের মাধ্যমে বাসিন্দাদের বাড়িতে পুষ্টিকর গরম খাবার সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, যা খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা (ফুড ইনসিকিউরিটি) ও সামাজিক একাকীত্ব (সোশ্যাল আইসোলেশন) কমাতে ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে এ ধরনের সেবা যাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তাদের জন্য মর্যাদা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করছে।
এই সার্ভিসের মাধ্যমে শত শত বাসিন্দা উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এটি অন্যান্য সহায়তা কার্যক্রমেরও অংশ, যার মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যে হোমকেয়ার, স্কুল ইউনিফর্ম অনুদান এবং কম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য জ্বালানি সহায়তা। মিলস অন হুইলস সার্ভিস সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে কিংবা কাউকে রেফার করতে চাইলে ইমেল করুন: [email protected]
সম্প্রতি নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান ৬৩ বছর বয়সী কর্নেলিয়া ম্যাকার্টির বাসায় গিয়ে নিজ হাতে গরম খাবারের পার্সেল তুলে দেওয়ার মাধ্যমে খাবার সরবরাহ কর্মসূচি ‘মিলস অন হুইলস’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেন।
এই সার্ভিসের সুবিধাভোগী কর্নেলিয়া ম্যাকার্টি তাঁর প্রতিক্রিয়ায় মিলস অন হুইলস সেবা চালু করায় কাউন্সিলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন,
“আমি জানি অনেক কাউন্সিলই এই ধরনের প্রকল্পের জন্য তহবিল রাখতে পারে না। আমাদের মতো বয়স্ক বা একা বসবাসকারীদের জন্য এই ধরনের সার্ভিস শুধু সাহায্য নয়, বরং অপরিহার্য। এটি শুধু খাবারের বিষয় নয়; এটি কেয়ার ও সংযুক্তির অনুভূতি প্রদান করে।”
তিনি আরও বলেন,“আমি টাওয়ার হ্যামলেটসে ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে বসবাস করছি এবং এখানকার কমিউনিটির অনুভূতি অনন্য। কারও খোঁজখবর নেওয়া এবং দেখাশোনা করা সত্যিই প্রয়োজনীয়।”
৯৪ বছর বয়সী জন ইজবি, যিনি প্রতিদিন খাবার পান, তিনি এই সার্ভিসকে অমূল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “আমার পরিবারের খুব বেশি সদস্য বাকি নেই, আর প্রতিদিন আমার জন্য গরম ও সুস্বাদু খাবার পৌঁছাবে-এ কথা জানলে সত্যিই আমার মুখে হাসি ফোটে। এখন পর্যন্ত খাবারগুলো আমি খুব উপভোগ করেছি এবং স্টাফদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”
টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “মিলস অন হুইলস সার্ভিস পুনরায় চালু করতে পেরে আমরা গর্বিত। এটি আমাদের সেই প্রতিশ্রুতির অংশ-টাওয়ার হ্যামলেটসে কেউ পিছিয়ে থাকবে না। বিনামূল্যে স্কুল খাবার থেকে শুরু করে শীতকালীন জ্বালানি সহায়তা এবং এখন বয়স্কদের জন্য গরম খাবার সরবরাহ-সব মিলিয়ে আমরা কমিউনিটি-ভিত্তিক সুশাসনের একটি নতুন মান স্থাপন করছি।”
রিসোর্স ও জীবনযাত্রার ব্যয়বিষয়ক কেবিনেট মেম্বার কাউন্সিলর সাইয়িদ আহমেদ বলেন, “মিলস অন হুইলস সার্ভিসটি আমাদের সেই কৌশলের অংশ, যার লক্ষ্য বাসিন্দাদের জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে সমর্থন প্রদান করা। মানুষকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা অন্যান্য কাউন্সিলকেও আমাদের পথ অনুসরণ করার আহ্বান জানাচ্ছি।” সংবাদ বিজ্ঞপ্তি


