সিলেটে স্বতন্ত্র প্রার্থী নিয়ে বিএনপিতে অস্বস্তি, দ্বিধাদ্বন্দ্বে নেতাকর্মীরা
প্রকাশিত হয়েছে : ১১ জানুয়ারি ২০২৬
দেশ ডেস্ক:: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেটের কয়েকটি আসনে বিএনপির প্রার্থী ছাড়াও স্বতন্ত্র ও বিকল্প প্রার্থী হিসাবে দলের একাধিক প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। এ নিয়ে নেতাকর্মীরা বিভ্রান্তিতে পড়েছেন। তাদের মধ্যে চাপা অসন্তোষও তৈরি হয়েছে। মাঠের নেতাকর্মীরা অনেকটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন। এ কারণে স্বতন্ত্র ও বিকল্প প্রার্থী নিয়ে সিলেট বিএনপিতে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, কয়েকটি আসনে বিএনপির স্বতন্ত্র বা বিকল্প প্রার্থীরা দলীয় প্রার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারেন। জনপ্রিয়তা ও দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অবস্থান বিবেচনায় তারা দলীয় মনোনয়ন না পেলেও অনেকের অবস্থান অত্যন্ত সুদৃঢ়। এমনকি অনেক আসনে তাদের ইশারা ছাড়া তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা এক পা-ও বাড়াতে চান না। দলীয় প্রার্থীর আহ্বান নানা অজুহাতে তারা এড়িয়ে যাচ্ছেন। মাঠের নেতারা বলছেন-দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিলেট সফরের আগেই স্বতন্ত্র ও বিকল্প প্রার্থীর জট খুলতে হবে। তা না হলে সমাবেশে ঐক্যবদ্ধ স্লোগানের বদলে বিভক্তির স্লোগান শোনা যেতে পারে। দলীয় সূত্রগুলো থেকে জানা যায়, স্বতন্ত্র পরিচয়ে প্রার্থী হওয়া ‘বিদ্রোহী’ নেতাদের শিগগিরই ঢাকায় ডাকা হবে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বোঝানোর চেষ্টা করবেন দলের শীর্ষ নেতারা। দল ক্ষমতায় গেলে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক মূল্যায়নের আশ্বাস দেওয়া হবে। এতেও কাজ না হলে সাংগঠনিক কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা চলছে।
সিলেট বিভাগের তিনটি আসনে দলীয় প্রার্থী ছাড়াও বিএনপির বিকল্প প্রার্থী রেখেছে। এটিকে সাংগঠনিক কৌশলের অংশ হিসাবে দেখা হচ্ছে। সিলেট-৬ আসনে বিকল্প প্রার্থী হিসাবে জেলা বিএনপির সদস্য ফয়সল আহমদ চৌধুরী মনোনয়ন পেয়েছেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসাবে অংশ নিয়ে লক্ষাধিক ভোট পেয়েছিলেন। সে অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক তাকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসাবে প্রতিষ্ঠা করেছে।
সমঝোতার অংশ হিসাবে বিএনপি সিলেট-৫ আসন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুককে ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনের মনোনয়নপ্রত্যাশী, জেলা বিএনপির প্রথম সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন (চাকসু মামুন) বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে মাঠে নেমেছেন। দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও মামুন থেমে নেই। মামুনের দাবি এলাকার শতকরা ৯৯ শতাংশ বিএনপি নেতাকর্মী তার সঙ্গে আছেন। এদিকে, মামুনের অনড় অবস্থান নিয়ে টেনশনে আছেন জমিয়ত প্রধান মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বিএনপির দাপুটে নেতা শেখ সুজাত মিয়া। এখানে বিএনপির প্রার্থী রেজা কিবরিয়া। সুজাতের শক্ত অবস্থানে এ আসনে ধানের শীষের বিজয় নিয়ে ভাবিয়ে তুলেছে দলের নেতাকর্মীদের। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া ২০১৮ সালের নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসাবে ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তখনও শেখ সুজাত বঞ্চিত হয়েছিলেন। এবারও দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ সুজাত। ফলে এ আসনের ভোটের সমীকরণ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে।
সুনামগঞ্জ-১ আসনে তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামারুলকে বিকল্প প্রার্থী করা হয়েছে। সুনামগঞ্জ-২ আসনে বিকল্প প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেল। নির্বাচন প্রস্তুতির শুরু থেকে তিনি তৃণমূলের একটি বড় অংশের সমর্থন পাওয়ার দাবি করছেন।
সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ-সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন। এখানে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ছাতক উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করছেন। এ আসনে ভোটের ভাগাভাগি শুধু মিলন নয়, বিএনপির জন্যও নেতিবাচক সংকেত হতে পারে।
আগামী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরু হওয়ার কথা। সিলেট থেকে বিএনপির প্রচার শুরু হবে। ২২ জানুয়ারি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিলেট আসার কথা রয়েছে।

