আপাসেন নিয়ে সাবেক কর্মকর্তা ও কেয়ারকর্মীদের সংবাদ সম্মেলন : সিইও’র পদত্যাগ, ফরেনসিক তদন্ত ও ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠনের দাবি
প্রকাশিত হয়েছে : ০৯ মার্চ ২০২৬
* ৬২ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ের তদন্ত দাবী?
* কেন আপাসেন ছাড়লেন ১০ সিনিয়র কর্মকর্তা
* অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবী আপাসেন-এর
* সংবাদ প্রকাশের ব্যাপারে সতর্ক থাকার পরামর্শ
লন্ডন, ৯ মার্চ ২০২৬: পূর্ব লন্ডনে অন্যতম বড় চ্যারিটি প্রতিষ্ঠান আপাসেন এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদত্যাগ, ফরেনসিক তদন্ত ও ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠনের দাবী জানানো হয়েছে । আপাসেনকে ঘিরে নানা বিতর্ক ও প্রশ্নের প্রেক্ষিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবী জানানো হয় । এতে চ্যারিটি কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে । গত ১৬ ফেব্রুয়ারি লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবী জানানো হয়।
একই সঙ্গে ২০১৭ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে আপাসেন-এর সঙ্গে চুক্তির ব্যয় ৫ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ৬২ মিলিয়নে পৌঁছার প্রেক্ষাপটে ৬২ মিলিয়ন পাউন্ড কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় হয়েছে তারও পূর্ণাঙ্গ ও চুলচেরা তদন্ত দাবী করা হয়েছে । এছাড়া এসিস্ট্যান্ট ডাইরেক্টর, ডে কেয়ার ম্যানেজার ও হোম কেয়ার ম্যানেজারসহ ১০ জন সিনিয়র ম্যানেজার ও পরিচালক অল্প সময়ে কেন প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করেছেন সেই প্রশ্নেরও উত্তর জানতে চাওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আপাসেন এর দীর্ঘ আঠারো বছরের সিনিয়র কর্মকর্তা সাবেক সিনিয়র ম্যানেজার জাকির পারভেজ । এসময় উপস্থিত ছিলেন আপাসেন-এর কেয়ার ওয়ার্কার ও টাওয়ার হ্যামলেটস কেয়ার ওয়ার্কার অর্গানাইজেশনের প্রেসিডেন্ট আব্দুল মান্নান, সেক্রেটারি আমির উদ্দিন, ভাইস প্রেসিডেন্ট হাবিবুর রহমান, আপাসেন-এর কেয়ার ওয়ার্কার আবদুল মুমিত চৌধুরী ও আনসার আহমেদ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে কমিউনিটিতে আপাসেন-এর কিছু কেয়ারকর্মীর র্যালি ও সমাবেশ দেখা গেলেও অনেকেই হয়তো জানেন না প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছে । বিভিন্ন পর্যায়ে কেন অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং কেন সিনিয়র ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করেছেন? সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানা কমিউনিটি ও কেয়ারকর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ । ইতোমধ্যে একটি স্বাধীন সংস্থা দ্বারা নিরপেক্ষ তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে । তাই সংশ্লিষ্ট সকলের প্রকৃত তথ্য জানার অধিকার রয়েছে । তখন হয়তো তাঁরা টাউন হলে মিছিল না করে সরাসরি আপাসেন-এর সিইও বা ট্রাস্টি বোর্ডের কাছে জবাবদিহিতা চাইবেন।
লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, আপাসেন একটি চ্যারিটি প্রতিষ্ঠান । এই প্রতিষ্ঠান ১৯৮৪ সালে কার্যক্রম শুরু করে এবং সরকারি তথা কাউন্সিলের অর্থায়নে পরিচালিত হয় । তবে প্রতিষ্ঠানটির ‘পরিচালনা ও নেতৃত্ব নিয়ে যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, তা একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে আরও বলা হয়, অসহায় ও অসুস্থ বাসিন্দাদের সুরক্ষা, সরকারি তহবিলের যথাযথ ব্যবহার এবং কেয়ারকর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে এই বিষয়ে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ ফরেনসিক তদন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
কেয়ার কর্মীরা বর্তমানে যে চাকরির অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন, তা কাউন্সিলের চূড়ান্ত পদক্ষেপ এবং বিশেষ করে চারিটি কমিশনের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সমাধান হতে পারে । তাঁদের মতে, এতে স্বচ্ছতা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, কয়েক বছর আগে বিভিন্ন অসঙ্গতির কারণে অল্প সময়ের মধ্যে ১০ জন সিনিয়র ম্যানেজার ও পরিচালকসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করেন । তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের চাকরির বয়স ছিল ১৫ থেকে ২৫ বছরেরও বেশি। এছাড়া অনেকে আইনি চুক্তিবদ্ধ থাকায় প্রকাশ্যে কথা বলতে পারছেন না বলে জানা গেছে। ফলে নেপথ্যের প্রকৃত তথ্য কমিউনিটি জানতে পারছে না।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলা হয়, আপাসেন-এ বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদের মাত্র এক ধাপ নিচে তিনজন উচ্চপদস্থ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা ছিলেন । তারা হলেন, এসিস্ট্যান্ট ডাইরেক্টর, ডে কেয়ার ম্যানেজার ও হোম কেয়ার ম্যানেজার । তাদেরকে কেন আপাসেন ছাড়তে হলো? এর আগে ফাইন্যান্স ম্যানেজার হঠাৎ কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করেন । তাঁদেরসহ বহু কর্মীর প্রতিষ্ঠান ত্যাগের ফলে সেবার ধারাবাহিকতা, কর্মপরিবেশ ও অভ্যন্তরীণ পরিচালনার ওপর কোনো প্রভাব পড়েছে কিনা— তা খতিয়ে দেখা সোশ্যাল সার্ভিসের জন্য জরুরি বলে তারা মনে করেন।
লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে আপাসেন-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) বিরুদ্ধে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হলে তা অভ্যন্তরীণভাবে বিশেষ কৌশলে নিষ্পত্তি করা হয় । এরপর “বেনামি একটি ইমেলের মাধ্যমে সিইও সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য প্রকাশ হওয়ার জের ধরে একজন এসিসটেন্ট ডিরেক্টর পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ তিনজন সিনিয়র ম্যানেজারকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
পরবর্তীতে প্রায় ৫০ জন কেয়ারকর্মী এ বিষয়ে সম্মিলিতভাবে টাওয়ার হ্যামলেটস কেয়ার কোয়ালিটি কমিশন এবং চ্যারিটি কমিশনে চিঠি পাঠান । ওই চিঠিতে তাঁরা প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দীর্ঘসময় ধরে কর্মরত সিনিয়র কর্মকর্তাদের পদত্যাগের আসল রহস্য তদন্তের দাবি জানান।

পি.ডব্লিউ.সি’র নিরপেক্ষ তদন্ত:
পিডব্লিউসি’র তদন্ত প্রসঙ্গে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে হুইসেল ব্লোয়ার (কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারি কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি কর্তৃক প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের তথ্য প্রকাশ করে দেওয়া) কর্তৃক অভিযোগ উত্থাপনের পর টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল ব্রিটিশ বহুজাতিক পেশাদার সেবা নেটওয়ার্ক, প্রাইস ওয়াটারহাউস কুপারসকে (পি.ডব্লিউ.সি) একটি নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনার দায়িত্ব প্রদান করে । ২০২৪ সালের মে মাসে কাউন্সিল কর্তৃক প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ থেকে ২০২২ সাল তথা সাবেক মেয়র জন বিগসের সময়ে আপাসেন-এর সঙ্গে চুক্তির ব্যয় ৫ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ৬২ মিলিয়নে পৌঁছায়। এই ৬২ মিলিয়ন কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় হয়েছে তার পুর্ণ তদন্ত দাবী করা হয় । কারণ, তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে আপাসেন-এ শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অভাবে জালিয়াতি ও ভুলত্রুটির ঝুঁকি বেড়ে গেছে ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ‘আইনি নথিপত্র জালকরণ ও তারিখ পরিবর্তনের অভিযোগ উত্থাপন করে বলা হয়, নিরপেক্ষ তদন্তে “আইনি নথিপত্র জাল এবং পূর্বের তারিখ উল্লেখ করা’র ঘটনাও উঠে এসেছে । সেখানে উল্লেখ করা হয়, একজন সিনিয়র কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ নথি জাল ও ব্যাকডেট (পুর্বের তারিখ) করার জন্য চাপের মুখে পড়েছিলেন । তৎকালীন আপাসেন চেয়ারপান উদ্বেগ প্রকাশ করলেও বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত না হয়ে তাঁকেই কৌশলে অপসারণ করা হয় । যদিও তিনি এমন নথিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান।
লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়- চলমান তদন্তের নিরপেক্ষতা, সততা ও জনআস্থা বজায় রাখার স্বার্থে তাঁদের আহ্বান—“এ বিষয়ে একটি পূর্ণ ফরেনসিক তদন্ত পরিচালনা করা হোক এবং কাউন্সিলের সঙ্গে ফান্ডিং সংক্রান্ত অমীমাংসিত পরিস্থিতির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সিইও’র পদত্যাগ ও ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠনের জন্য চ্যারিটি কমিশনের হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করা হোক । কারণ তদন্ত রিপোর্ট বলা হয়েছে, আপাসেনের ভেতরে গভর্নেন্স এবং কন্ট্রোল (পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা) সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি ইস্যু চিহ্নিত হয়েছে । ট্রাস্টি পর্যায়ে বোর্ডের গঠন নিয়ে ভাবার প্রয়োজন আছে । কারণ, ‘ট্রাস্টিরা কোম্পানিতে নিয়োগপ্রাপ্ত অফিসারদের প্রভাব থেকে নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হতে পারেন।
এছাড়া তাঁরা চ্যারিটি কমিশনের কাছে আপাসেন এর ট্রাস্টি বোর্ডের কার্যক্রমের ওপরও তদন্তের দাবি জানান । কারণ, রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে, আমরা আপাসেন-এ বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য দুর্বলতা চিহ্নিত করেছি, যার মধ্যে বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ওপর সিইও’র সরাসরি প্রভাব বিস্তারের বিষয়টিও রয়েছে।”
কেয়ারকর্মীদের স্বার্থ:
সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা বলেন, তাঁরা কেয়ার কর্মীদের প্রতি পূর্ণ সম্মান ও সংহতি প্রকাশ করছেন এবং তাঁদের চাকরির নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন । সাধারণ কেয়ারারদের উদ্যোগে ৪ দশক আগে আপাসেন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বর্তমানে টাওয়ার হ্যামলটসে প্রায় ৪০০ কেয়ারকর্মী কাজ করছেন। আজ তাঁরা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন এবং পুরো প্রতিষ্ঠান ঝুঁকির মুখে রয়েছে-এমন মন্তব্য করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা এবং সাধারণ কেয়ারকর্মীদের কাজের নিশ্চয়তা প্রদানের দাবী জানান।
তবে তারা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, কাউন্সিল জানিয়েছে — তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো সেবার ওপর নির্ভরশীল বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং ফ্রন্টলাইন কর্মীদের কর্মসংস্থান বজায় রাখা। এই প্রতিশ্রুতিরও বাস্তবায়ন দেখতে চান তারা ।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠান :
সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সাংবাদিক এনাম চৌধুরী বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের ব্যয় সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করেন । তিনি জানতে চান, ২০২১ সালের ৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে কুইনমেরি ইউনিভার্সিটির একটি হলে আপাসেন একটি বড় অনুষ্ঠান আয়োজন করে। এই অনুষ্ঠানে কত ব্যয় হয়েছে? ব্যয়ের অর্থের উৎস কী ছিল? চ্যারিটি সংস্থার অর্থ এই অনুষ্ঠানে ব্যয়ের যৌক্তিক ভিত্তি কী? জবাবে জাকির পারভেজ বলেন, ২০২১–২০২২ অর্থবছরে চ্যারিটি কমিশনে জমাকৃত হিসাবনামায় এই অনুষ্ঠানের ব্যয়ের কোনো উল্লেখ নেই। এই প্রশ্নটির জবাব সাপ্তাহিক দেশ থেকে জানতে চাওয়া হলেও আপাসেন থেকে এ ব্যাপারে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
যা বললো আপাসেন:
সংবাদ সম্মেলনে প্রদত্ত লিখিত অভিযোগ সম্পর্কে জানতে সাপ্তাহিক দেশ থেকে লিখিত জবাব চাওয়া হয় । তবে আপাসেন থেকে প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে অভিযোগ সম্পুর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয় ।
আপাসেন এর কমিউনিকেশন্স এন্ড পলিসি ডেভোলাপমেন্ট ম্যানেজার বুলবুল হাসান প্রেরিত ইমেইলে বলা হয়, “সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন আপাসেন এর একজন অসন্তুষ্ট সাবেক সহকর্মী, যিনি ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে চলে গেছেন । উত্থাপিত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন । এসব মিথ্যা অভিযোগই বর্তমানে হাইকোর্টে চলমান মামলার মূল বিষয়বস্তু । অ্যাপাসেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে । এছাড়া কাউন্সিল মিথ্যা বিবৃতি প্রদানের কারণে অ্যাপাসেন আরও মামলা করার বিষয় বিবেচনা করছে । জবাবে আরো বলা হয়, মামলা চলমান থাকায় আমরা বিস্তারিত মন্তব্য করতে পারছি না। আমরা জানি, এই বিষয়গুলো আগে কাউন্সিলের পক্ষ থেকে পি.ডাব্লিউ.সি পুরোপুরি তদন্ত করেছিল । অ্যাপাসেন পি.ডাব্লিউ.সিকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছে । পি.ডাব্লিউ.সি তাদের তদন্তে অ্যাপাসেনের কোনো অনিয়ম পায়নি । তবে অ্যাপাসেন ও কাউন্সিলের মধ্যে কিছু অর্থ পাওনা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে । এ বিষয়ে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে যোগাযোগ চলছে । এটি কোনো জালিয়াতি বা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নয়।
জবাবে সাপ্তাহিক দেশ-এর উদ্দেশ্যে বলা হয়, “সঠিক ও দায়িত্বশীল প্রতিবেদন করার স্বার্থে, আপনি যেসব অভিযোগ প্রকাশ বা প্রচার করতে চান, তার প্রমাণ আমাদের কাছে পাঠাতে অনুরোধ করছি । যদি কোনো প্রমাণ থাকে, আমরা তা পর্যালোচনা করবো । প্রমাণ না থাকলে, নিশ্চয়ই আপনি এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রকাশের ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন । এছাড়া, প্রতিবেদন প্রকাশের আগে এর একটি খসড়া কপি আমাদের পর্যালোচনার জন্য পাঠাতে অনুরোধ করছি, যাতে আমরা এতে থাকা বক্তব্য সম্পর্কে আইনগত পরামর্শ নিতে পারি । এ বিষয়ে আমাদের অধিকার সংরক্ষিত থাকছে । (অর্থাৎ, সাপ্তাহিক দেশ-এ প্রকাশিতব্য প্রতিবেদন সম্পর্কে যেকোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের অধিকার সংরক্ষিত থাকবে)। জবাবে আরো বলা হয়, আপাসেন বর্তমানে আমাদের ব্যবস্থাপনা ও কর্মীদের নেতৃত্বে নিরাপদ, উচ্চমানের এবং ব্যক্তি-কেন্দ্রিক সেবা প্রদান করতে সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ । ইতোমধ্যে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ভিত্তিহীন প্রমাণিত অভিযোগের জবাব দিতে আমরা আমাদের সেবাগ্রহীতাদের সম্পদ নষ্ট করব না।
প্রতিবেদকের বক্তব্য :
আপাসেন এর কমিউনিকেশন অফিসার বুলবুল হাসান তাঁর অফিয়াল ইমেইলে সাপ্তাহিক দেশকে প্রতিবেদন প্রকাশের আগে তাদের কাছে প্রমাণ পাঠাতে অনুরোধ জানিয়ে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দিয়েছেন । তাছাড়া প্রতিবেদন প্রকাশের আগে একটি খসড়া কপি তাদের কাছে পর্যালোচনার জন্য পাঠাতে অনুরোধ জানিয়েছেন । প্রকাশিতব্য রিপোর্টের ব্যাপারে তাদের সবধরনের অধিকার সংরক্ষিত থাকছে বলেও উল্লেখ করেছেন।
এভাবে রিপোর্ট প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট মিডিয়া হাউজকে অভিযোগের পক্ষে প্রমানাদি হাজির করে আপাসেন এর কাছে পাঠানো এবং প্রমাণ না থাকলে রিপোর্ট প্রকাশের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ, রিপোর্ট প্রকাশের আগে অনুমোদনের জন্য আপাসেন-এর কাছে পাঠানোর অনুরোধ এবং সবশেষে সবধরনের আইনি অধিকার সংরক্ষণ থাকার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া এ প্রতিবেদকের কাছে নজিরবিহীন বলে মনে হয়েছে । এটা সংশ্লিষ্ট মিডিয়া হাউজকে ভয় দেখিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা বলে প্রতীয়মান হয় । তবে প্রকাশিত এই প্রতিবেদন সম্পর্কে ভবিষ্যতে যাদি আপাসেন- এর কাছ থেকে আরো পরিস্কার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় তাহলে পরবর্তী সংখ্যায় তা তুলে ধরা হতে পারে ।


