লন্ডনে উগ্র-ডানপন্থী বিরোধী মিছিলে হাজার হাজার মানুষের সমাবেশ
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ মার্চ ২০২৬
লন্ডনে উগ্র ডানপন্থার বিরুদ্ধে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন। টুগেদার অ্যালায়েন্স-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে জনতার ঢল নামে।
শনিবার দুপুর ১টা (জিএমটি) থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়। অংশগ্রহণকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল—“অজ্ঞতার বিরুদ্ধে লড়ো, অভিবাসীদের নয়” এবং “বর্ণবাদী মিথ্যা প্রত্যাখ্যান করো”।
এই বিক্ষোভে সমর্থন জানান খ্যাতনামা ব্যক্তিত্বরা, যেমন স্যার লেনি হেনরি ও পালোমা ফেইথ। সংগীতশিল্পী বিলি ব্র্যাগের উপস্থিত থাকার কথা ছিল এবং লি-অ্যান পিনক ট্রাফালগার স্কোয়ারে একটি সংগীত অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
এদিকে, “প্যালেস্টাইন কোয়ালিশন”-এর একটি আলাদা মিছিলও এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা ছিল এবং পরে উভয় মিছিল হোয়াইটহলে একত্রিত হয়।
এই বিক্ষোভটি গত বছরের “ইউনাইট দ্য কিংডম” সমাবেশের পর অনুষ্ঠিত হয়, যা আয়োজন করেছিলেন উগ্র ডানপন্থী কর্মী টমি রবিনসন। ওই সমাবেশে এক লাখের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছিল এবং সহিংসতার কয়েকটি ঘটনা ঘটে।
শনিবারের বিক্ষোভে আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী প্রায় ৫ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন। তবে মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, প্রকৃত সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজারের কাছাকাছি হতে পারে। জনসমাগম ছড়িয়ে থাকায় সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ কঠিন বলে জানায় তারা।
পুলিশ জানায়, ট্রাফালগার স্কোয়ারের কাছে স্তম্ভে ওঠার চেষ্টা করে ভাঙচুর ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিকেল ৫টার পর, নির্ধারিত সময়সীমা পেরোতেই হোয়াইটহল এলাকা খালি হতে শুরু করে। এদিন আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পৃথকভাবে নিউ স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের বাইরে এক বিক্ষোভ থেকে “প্যালেস্টাইন অ্যাকশন”-কে সমর্থনের অভিযোগে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মূল মিছিলের পথে পল মলে একদল পাল্টা বিক্ষোভকারী উপস্থিত হলে সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নারীদের একটি দল “সংগঠিত হও, প্রতিরোধ করো, লড়াই করো” লেখা ব্যানার প্রদর্শন করেন।
টুগেদার অ্যালায়েন্সের মিছিলটি পথে প্যালেস্টাইন কোয়ালিশনের মিছিলে যুক্ত হয়ে হোয়াইটহলে সমাবেশে মিলিত হয়। সেখানে লন্ডনের মেয়র সাদিক খান-এর ভিডিও বার্তা প্রচার করা হয়। পাশাপাশি গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কিসহ বিভিন্ন বক্তার বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ইউর পার্টির এমপি জেরেমি করবিন এবং লেবার পার্টির ডায়ান অ্যাবটসহ আরও কয়েকজন রাজনীতিবিদ।
বিক্ষোভকারীরা শিক্ষক, সরকারি কর্মচারী ও দমকলকর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়নের ব্যানার নিয়ে অংশ নেন। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অংশগ্রহণকারীদের প্ল্যাকার্ডে অভিবাসন-পন্থী নানা বার্তা দেখা যায়। “হুইটস্টেবল উইমেন ইন সিস্টারলি সলিডারিটি” লেখা ব্যানারও দেখা যায়।
স্ট্রাউড থেকে আসা অংশগ্রহণকারী স্টিভ ট্রিবল বলেন, “উগ্র ডানপন্থার উত্থান নিয়ে উদ্বেগ থেকেই আমরা এখানে এসেছি। বিশ্বজুড়ে জনতাবাদ বাড়ছে, মানুষ ক্ষোভ থেকে অন্যদের দোষারোপ করছে। আমরা উদ্বিগ্ন, তাই এখানে এসেছি।”
আরেক অংশগ্রহণকারী সালভিন্দর ঢিলন বলেন, উপস্থিতির সংখ্যা গত বছরের সমাবেশকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, “আমাদের কাছে মানুষের ঐক্য আছে, সংগ্রামের শক্তি আছে—আমরাই জিতব।”
টুগেদার অ্যালায়েন্সের যুগ্ম সম্পাদক স্যাবি ধালু বলেন, যুক্তরাজ্যে উগ্র ডানপন্থী সংগঠনের প্রতি সমর্থন “অভূতপূর্ব হারে” বাড়ছে। তিনি গত বছরের সমাবেশকে ব্রিটিশ ইতিহাসে “সবচেয়ে বড় উগ্র ডানপন্থী সমাবেশ” বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, অধিকাংশ ব্রিটিশ মানুষ ঘৃণা, বিভাজন ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার সময়।”
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে টমি রবিনসনের ডাকা সমাবেশে ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেয়। সে সময় উত্তেজনা ছড়ালে কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে বোতল ও অন্যান্য বস্তু নিক্ষেপ করে, এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
এ ছাড়া প্রযুক্তি খাতের ধনকুবের ইলন মাস্ক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ওই সমাবেশে বক্তব্য দেন। একই সময়ে “স্ট্যান্ড আপ টু রেসিজম”-এর ডাকে প্রায় ৫ হাজার মানুষ পাল্টা বিক্ষোভে অংশ নেন।
টুগেদার অ্যালায়েন্স তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, এটি বিভিন্ন নাগরিক সমাজ সংগঠন, শ্রমিক ইউনিয়ন ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট, যা উগ্র ডানপন্থার বিরুদ্ধে কাজ করছে এবং ৭০ লাখের বেশি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে। খবর: বিবিসি


