লন্ডনে এমসিএর সিরাত অনুষ্ঠানে বক্তারা : মহানবী (সা.) প্রতিটি প্রজন্মের জন্য এক আদর্শ
প্রকাশিত হয়েছে : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেশ ডেস্ক, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬:: মুসলিম কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশন (এমসিএ)-এর পপলার ও বো শাখার যৌথ উদ্যোগে পপলার মসজিদে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, চরিত্র ও শিক্ষার ওপর বিশেষ ‘সিরাত’ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল- ‘মহানবী (সা.): প্রতিটি প্রজন্মের জন্য এক আদর্শ’।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এমসিএ পপলার শাখার সভাপতি আমীরুল ইসলাম। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইস্ট লন্ডন মসজিদের ইমাম শেখ আবুল হোসেন খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন এমসিএর শূরা সদস্য ও লন্ডন সাউথ-ইস্ট অঞ্চলের সভাপতি কাজী ফয়জুল ইসলাম পারভেজ। পপলার মসজিদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া সলিসিটর মোহাম্মদ ইকবাল, বো শাখার সভাপতি, কাউন্সিলর গোলাম কিবরিয়া এবং কমিউনিটির বেশ কয়েকজন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে শেখ আবুল হোসেন খান মহানবী (সা.)-এর জীবন ও চরিত্রের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মহানবী (সা.) ছিলেন আল্লাহর প্রেরিত সর্বশেষ নবী এবং তাঁর বার্তা ও আদর্শ প্রতিটি প্রজন্মের জন্য সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। শিশু, তরুণ ও বৃদ্ধসহ সব বয়সী এবং সব পটভূমির মানুষের জন্য তিনি ছিলেন অনুকরণীয় আদর্শ। বর্ণ বা জাতিসত্তার কোনো ভেদাভেদ ছাড়াই তিনি সবার জন্য আদর্শস্বরূপ ছিলেন।
তিনি নারীদের প্রতি মহানবী (সা.)-এর সম্মান, সদয় আচরণ ও সহমর্মিতার বিষয়টিও তুলে ধরেন। পাশাপাশি তাঁর বিনয়, ন্যায়পরায়ণতা ও অসাধারণ চরিত্রের বিভিন্ন দিক আলোচনা করেন। দীর্ঘ ১০ বছর মহানবী (সা.)-এর খেদমতকারী সাহাবি আনাস (রা.)-এর একটি সুপরিচিত ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় সেবা করার পরও কোনো কাজ করা বা না করার কারণে মহানবী (সা.) তাঁকে কখনো কঠোরভাবে ভর্ৎসনা বা দোষারোপ করেননি।
অমুসলিমদের প্রতিও মহানবী (সা.)-এর ন্যায়, সততা ও শ্রদ্ধাপূর্ণ আচরণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে শেখ আবুল হোসেন খান বলেন, তাঁর সততা ও অসাধারণ চরিত্রের কারণেই মানুষ তাঁকে গভীরভাবে বিশ্বাস করত। তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা শুধু মুখের কথায় সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না; তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ এবং দৈনন্দিন জীবনে তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই সেই ভালোবাসার প্রকৃত প্রমাণ দিতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কাজী ফয়জুল ইসলাম পারভেজ মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ ও সর্বকালের সেরা মানুষ হিসেবে উল্লেখ করেন। ইতিহাসের বিভিন্ন নেতার চরিত্র ও আচরণের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, সাধারণ মানবীয় নেতাদের মধ্যে নানা ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকতে পারে। তবে নেতা ও শাসক হিসেবে মহানবী (সা.) ন্যায়বিচার, সততা ও প্রজ্ঞার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
তিনি মহানবী (সা.)-এর সুষম জীবনধারা, অপচয় ও বিলাসিতা বর্জনের বিষয়টি তুলে ধরে জীবনের সব ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কমিউনিটির সদস্যদের দ্বীন বা ইসলামি জীবনবিধান সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন, ঈমান সুদৃঢ় করা এবং মানবতার সেবায় আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠান পরিচালনাকারী ও পপলার শাখার সভাপতি আমীরুল ইসলাম বলেন, একটি সংক্ষিপ্ত কর্মসূচির মাধ্যমে মহানবী (সা.)-এর ৬৩ বছরের জীবন সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান অর্জন বা তা পুরোপুরি অনুধাবন করা সম্ভব নয়। তাই সিরাত অধ্যয়নকে জীবনের নিয়মিত অংশে পরিণত করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি ‘দ্য সিলড নেক্টার’ (আর-রাহীকুল মাখতূম)-এর মতো নির্ভরযোগ্য সিরাত গ্রন্থ পড়ার পরামর্শ দেন এবং প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিনিট মহানবী (সা.)-এর জীবন, চরিত্র ও শিক্ষা সম্পর্কে জানার জন্য সময় দেওয়ার আহ্বান জানান।
আমীরুল ইসলাম আয়েশা (রা.)-এর কাছে মহানবী (সা.)-এর পারিবারিক চরিত্র সম্পর্কে জানতে চাওয়ার একটি সুপরিচিত ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মহানবীর চরিত্র সম্পর্কে জানতে চাইলে কুরআনের দিকে নির্দেশ করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে মহানবী (সা.)-এর চরিত্র ও কুরআনের শিক্ষার গভীর সম্পর্ক প্রতিফলিত হয়। তিনি মহানবী (সা.)-কে কুরআনের জীবন্ত আদর্শ হিসেবে উল্লেখ করে মুসলমানদের নিজ নিজ পরিবার ও বৃহত্তর সমাজে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।
মহানবী (সা.)-এর জীবন সম্পর্কে জানা, তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ এবং ন্যায়বিচার, সহানুভূতি, বিনয়, সততা ও মানবসেবার মতো গুণাবলী দৈনন্দিন জীবনে প্রতিফলিত করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।
আয়োজকরা অনুষ্ঠানের সফলতায় অবদান রাখা অতিথি, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ইসলামি শিক্ষা বিস্তার এবং বৃহত্তর সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখার লক্ষ্যে শিক্ষামূলক ও সমাজকেন্দ্রিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।


