সৎ মানুষের সঙ্গ জীবনকে আলোকিত করে: মাওলানা হুছামুদ্দীন ফুলতলী
প্রকাশিত হয়েছে : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেশ ডেস্ক, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬:: বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহর মুহতারাম সভাপতি হযরত মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী বলেছেন, সুন্দর ও সফল জীবন গঠনের জন্য ভালো কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা, সবসময় ভালো চিন্তা ও কল্যাণকর ভাবনাকে হৃদয়ে লালন করা এবং সত্যবাদী ও নেককার মানুষের সঙ্গ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। ভালো মানুষের সঙ্গ মানুষের জীবনকে আলোকিত করে এবং তাকে সঠিক পথের সন্ধান দেয়। পক্ষান্তরে অসৎ সঙ্গ মানুষকে ধীরে ধীরে ভুল ও অন্যায়ের পথে পরিচালিত করতে পারে। তাই সত্যবাদী ও আল্লাহভীরু মানুষের সান্নিধ্যে থাকার পাশাপাশি সমাজে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে নৈতিকতা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা হয়।
তিনি বলেন, একজন মানুষের বাহ্যিক কর্মের পাশাপাশি তার অন্তরের পরিশুদ্ধতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অহংকার, হিংসা ও লোভের মতো আত্মিক ব্যাধি থেকে অন্তরকে হেফাজত করতে হবে। এসব কুপ্রবৃত্তি মানুষের আত্মিক উন্নতির পথে বাধা সৃষ্টি করে এবং ব্যক্তি ও সমাজে বিভেদ ও অশান্তি তৈরি করে। তাই অন্তরকে পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র রাখার জন্য সর্বদা প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, দুনিয়ার জীবনের প্রতিটি কাজের জন্য আমাদের আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। তাই নিজেদের কর্ম ও আমলের ব্যাপারে সতর্ক থাকার পাশাপাশি নিয়মিত আত্মসমালোচনা বা মুহাসাবা করা প্রয়োজন। প্রতিদিন নিজের কাছে হিসাব নিতে হবে- আমি আজ কী ভালো কাজ করেছি, আমার দ্বারা কারও কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না এবং আমার চিন্তা ও কর্ম আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত হচ্ছে কি না।
মাওলানা হুছামুদ্দীন ফুলতলী আরও বলেন, আনজুমানে আল ইসলাহ কোনো জাগতিক বা পার্থিব স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত সংগঠন নয়। এটি মূলত মানুষের আত্মশুদ্ধি ও তাজকিয়ায়ে নফসের শিক্ষা লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। তাই সংগঠনের প্রত্যেক দায়িত্বশীলকে সর্বপ্রথম নিজের চরিত্র, চিন্তা ও আমলের সংশোধনের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি দায়িত্বশীলদের উদ্দেশ্যে বলেন, সংগঠনের দায়িত্ব পালনে প্রত্যেককে দায়িত্বশীলতার ভূমিকা পালন করতে হবে। যার ওপর যে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, তা নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও আমানতদারিতার সঙ্গে পালন করতে হবে। দ্বীনের কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের বাধা, প্রতিকূলতা কিংবা সমালোচনার সম্মুখীন হতে পারেন। তবে সকল সমালোচনার ঊর্ধ্বে উঠে ধৈর্য ও সবরের মাধ্যমে দ্বীনের কাজ করে যেতে হবে।
তিনি বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বার্মিংহাম লতিফিয়া ফুলতলী কমপ্লেক্সের দ্য লজ কনভেনশন হলে আয়োজিত আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকে, মিডল্যান্ডস ডিভিশনের জেনারেল মিটিং ও কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
আনজুমানে আল ইসলাহ মিডল্যান্ডস ডিভিশনের প্রেসিডেন্ট প্রিন্সিপাল মাওলানা এম এ কাদির আল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকে সেন্ট্রাল কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ হাসান চৌধুরী ফুলতলী ও জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা ফরিদ আহমদ।
মিডল্যান্ডস ডিভিশনের সেক্রেটারি মাওলানা মো. হুসাম উদ্দিন আল হুমায়দীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকে সেন্ট্রাল কাউন্সিলের উপদেষ্টা সদস্য আলহাজ্জ এমদাদ আহমদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট হাফিজ মাওলানা কয়েসুজ্জামান ও মোহাম্মদ খুরশিদ-উল হক।
এছাড়া অনুষ্ঠানে ডিভিশনের আওতাধীন বিভিন্ন ব্রাঞ্চের দায়িত্বশীল, আলেম-উলামা, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং সাবেক ও বর্তমান দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন।


